ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার দূরদর্শী প্রতিফলন

সৈয়দ আবদাল আহমদ

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
সৈয়দ আবদাল আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার এক তাৎপর্যপূর্ণ, সময়োপযোগী ও ভারসাম্যের প্রতিফলন।

মাতৃভাষা বাংলায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ১৭ মিনিটের এই ঐতিহাসিক ভাষণ একদিকে যেমন বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসন ও বহুপাক্ষিকতার বৈশ্বিক দাবিগুলোকে ধারণ করেছে; অন্যদিকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারগুলোকে যথাযথভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারির একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী ব্যক্ত করেছেন, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বৈধতা ও অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাবকে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই ভাষণে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারের ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন) কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই স্ট্র্যাটেজি স্পষ্ট প্রমাণ করে বর্তমান সরকার কেবল কোনো জোড়াতালির সংস্কারে বিশ্বাসী নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেমেছে। ফ্যাসিবাদের অন্ধকার ফুঁড়ে দেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।

আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর জোর প্রদান এবং সামরিক বাজেট উন্নয়ন খাতে স্থানান্তরের আহ্বান বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে পুনর্নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছেন যে, বাংলাদেশ আর কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বা অগণতান্ত্রিক শক্তির করতলগত নয় এবং ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া পবিত্র আমানত নিয়েই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে।

‘গণতান্ত্রিক পথে বাংলাদেশ’—প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা বহুগুণে বেড়ে যাবে বলেও আমি প্রত্যাশা করি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবে নয়, আদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি পরিপক্ক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে।

আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্ব আরোপ এবং সামরিক বাজেট উন্নয়ন খাতে স্থানান্তরের আহ্বান বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।

দীর্ঘ ৯ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ৫টি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ বা ক্লাইমেট জাস্টিস নিশ্চিতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ অভ্যন্তরীণ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মহলে কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছেন। সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন।

জিয়া পরিবারের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক ধারাবাহিকতা রয়েছে। জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি এক বিরল ইতিহাসও। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ দেন। ২০২৬ সালে একই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বাংলায় ভাষণ দিলেন তারেক রহমানের। এটি কেবল পারিবারিক ধারাবাহিকতাই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক লড়াই ও স্বমহিমায় টিকে থাকার এক চিরন্তন স্মারকও।

‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’-এই প্রত্যয় নিয়ে দেওয়া এই ভাষণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত সুদৃঢ় করেছে।

লেখক: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, তথ্য অধিদপ্তর

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরল ইতিহাস
১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের একই মঞ্চে ভাষণ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরল ইতিহাস
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পাঠ
একটি শিশু জন্মগ্রহণ করে খালি হাতে। কোনো মূল্যবোধ নিয়ে সে জন্মায় না। বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে চারপাশের মানুষ আর পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তার মনে জন্ম নেয় সহানুভূতি। জন্ম নেয় দায়িত্ববোধ।
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পাঠ
নির্বাচিত সরকার এসেছে, কিন্তু প্রশাসনের পুরোনো বাজার কী বন্ধ হয়েছে
৫ আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু একটি সরকারের পতনের দিন ছিল না, সেই দিনটির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি বড় প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছিল।
নির্বাচিত সরকার এসেছে, কিন্তু প্রশাসনের পুরোনো বাজার কী বন্ধ হয়েছে
নতুন বেতন স্কেল: সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়ল, সাধারণ মানুষের কী
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ এ বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বেড়েছে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ।
নতুন বেতন স্কেল: সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়ল, সাধারণ মানুষের কী
সাক্ষাৎকার / ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিসিক
ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিসিক
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণের প্রশংসা সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের
সামুদ্রিক খাতকে টেকসই উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বমানের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী