ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

চিকিৎসকদের নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ কামালের ‘অবমাননাকর’ বক্তব্য, ড্যাবের কড়া বিবৃতি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসকদের নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ কামালের ‘অবমাননাকর’ বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে অবিলম্বে তাকে জনসম্মুখে ডাক্তার সমাজের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান ও মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ড্যাব নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজের বিরুদ্ধে একটি দেশবিরোধী গোষ্ঠী গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন অসামঞ্জস্যতার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চিকিৎসক সমাজকে দায়ী করে জাতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আমরা দেশের চিকিৎসক সমাজের পক্ষ থেকে এসব ষড়যন্ত্রকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, ঢালাওভাবে চিকিৎসক সমাজকে মিথ্যা অপবাদ ও কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা পরিত্যাগ না করলে ভবিষ্যতে চিকিৎসক সমাজ কর্তৃক যথাযথ আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকুন।

আরও পড়ুন

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন চিকিৎসক তার মেধা ও কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতি পান। ড্যাব নেতৃদ্বয় অত্যন্ত অসন্তোষ ও ক্ষুদ্ধতার সঙ্গে লক্ষ্য করেছেন যে, মাসুদ কামাল নামক একজন সাংবাদিক ও ইউটিউবার যিনি নিজেকে সিনিয়র সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি একটি ইউটিউব ভিত্তিক চ্যানেলে আদ-দ্বীন হাসপাতালে অনাকাঙ্ক্ষিত ও তদন্তাধীন শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অর্বাচীনের মতো আলোচনার প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে দেশের চিকিৎসক সমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ডাক্তারদের মতো চামার কোন শ্রেণি এই দেশে আর নেই। ড্যাব নেতাদের ধারণা, মাসুদ কামালের মতো গুটি কয়েক বুদ্ধিজীবীর লেবাসধারী ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য দেশবিরোধী একটি গোষ্ঠীর এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নতির জন্য গঠনমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড না করে, বরং কীভাবে দেশের চিকিৎসা প্রার্থী রোগীদের বিদেশমুখী করা যায় এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন এই গোষ্ঠী।

মাসুদ কামালকে উদ্দেশ্য করে ড্যাব নেতারা বলেন, মনস্তাত্তিকভাবে মানুষ নিজে যেমন, তার চারপাশের অন্যান্য মানুষকে একই চরিত্রের মনে করে। চিকিৎসকদের অশালীন শব্দ দ্বারা সম্ভোধনের মাধ্যমে সাংবাদিক মাসুদ কামাল মূলত তার নিজের চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

সাংবাদিক মাসুদ কামালকে তার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনসম্মুখে চিকিৎসক সমাজের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য আহ্বান এবং একইসঙ্গে চিকিৎসক সমাজ ও জনগণকে হলুদ সাংবাদিকতাকে বয়কট করার উদ্দাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন ড্যাবের এই নেতারা।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অক্টোবরে রেকর্ড প্রাণহানির পর ডেঙ্গুতে এবার আরও ৬ জনের মৃত্যু
গেল অক্টোবর মাসে রেকর্ড ১৭৪ জনের মৃত্যুর পর আবারও চোখ রাঙানি দিচ্ছে ডেঙ্গু। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অক্টোবরে রেকর্ড প্রাণহানির পর ডেঙ্গুতে এবার আরও ৬ জনের মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর প্রাণহানি
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৭ জনে।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর প্রাণহানি
ডেঙ্গুতে এবার একদিনে ৮ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৯২৯
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২৯ জন।
ডেঙ্গুতে এবার একদিনে ৮ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৯২৯
হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৫৩
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ৩৫০ জন শিশুর শরীরে সন্দেহজনক হাম শনাক্ত হয়েছে।
হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৫৩
পচা দই-মিষ্টির সিরায় তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট-সন্দেশ!
ভেজাল শিশুখাদ্যে সয়লাব দেশের বাজার। পচা মিষ্টির সিরা ও নষ্ট দই দিয়ে তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট-সন্দেশ। সম্প্রতি রূপগঞ্জের একটি কারখানায় এই চিত্র দেখা গেছে। পুরো কারখানায় নেই কোনো ফলের অস্তিত্ব। অথচ এখানেই তৈরি হয় আম, লিচু, আনারসসহ বিভিন্ন ফলের জেলি, জুস ও আইস ললি। ক্যামেরায় ধরা পড়ে এসব খাবার তৈরিতে রাসায়নিক উপাদান ও ক্ষতিকর রং ব্যবহারের চিত্র।  কারখানার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি জানান, এসব উপাদান দিয়ে আসল ফলের পরিবর্তে কৃত্রিমভাবে শিশুখাদ্য তৈরি করেন তারা। কারখানার ভেতরের আরেকটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায় আরও ভয়াবহ চিত্র। সেখানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে পচা পণ্য ও ময়লা-আবর্জনা। সেখান থেকেই জেলি বের করছেন কয়েকজন। পরে এসব জেলি আবার প্যাকেটজাত করে বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছে। সাভারের আরেকটি কারখানায় তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট ও সন্দেশ। সেখানে অসংখ্য ড্রামে জমিয়ে রাখা হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় দিন আগের পচা মিষ্টির সিরা। সেই সিরা দিয়েই তৈরি হচ্ছে শিশুদের জন্য সন্দেশ, যা কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে ছড়িয়ে দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। প্যাকেটের গায়ে দুধ, চিনি ও বিভিন্ন উপাদানের কথা উল্লেখ থাকলেও ড্রামগুলোতে রয়েছে শুধু মিষ্টির সিরা ও পচা দই। এর মধ্যে মরে পচে আছে মাছি ও বিভিন্ন পোকামাকড়।  এসব উপাদান গরম করেই তৈরি করা হচ্ছে সন্দেশ ও চকলেট। কারখানার পরিবেশও অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। চারদিকে দুর্গন্ধে টেকা দায়। মিষ্টির সিরা ও ফ্লেভার ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানার এক কর্মচারী জানান, মিষ্টির দোকান থেকে ফেলে দেওয়া মিষ্টির সিরা সংগ্রহ করে আটা দিয়ে জ্বাল দেওয়া হয়। এতে মিষ্টির স্বাদ ও ফ্লেভার পাওয়া যায়। শুধু একটি বা দুটি কারখানা নয়, রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সাভার ও আশুলিয়ায় তৈরি হচ্ছে এমন ক্ষতিকর শিশুখাদ্য। এসব কারখানায় তৈরি পণ্যের গন্তব্য পুরান ঢাকার চকবাজার। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে এসব খাবার। এ বিষয়ে মুদি দোকানিরা বলছেন, তারা বিক্রি বন্ধ করলেও অন্য দোকানে এসব পণ্য বিক্রি হবে। একজন দোকানি বলেন, আমি যদি না বিক্রি করি, দেখা যাবে আমার পরিবর্তে আরেকটা দোকান বিক্রি করবে। বাংলাদেশে জন্মলগ্ন থেকেই এসব চলছে, এর কী হবে? এসব জিনিস বিক্রি করলেও আমি আমার বাচ্চাকে খাওয়াই না। দেশের শিশুখাদ্যের এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কী করছে, তা জানতে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হয় সময় সংবাদ। তবে তাদের বক্তব্যে উঠে আসে হতাশার চিত্র। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্যশিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ভেজালবিরোধী বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করছি। তারপরও এসব কমছে না। এর মূল কারণ তাদের অসততা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করি, তাদের পক্ষে এককভাবে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এসব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আরটিভি/এসআর
পচা দই-মিষ্টির সিরায় তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট-সন্দেশ!
আরও পড়ুন
গাড়িতে লেখা ‘প্রেস’, ৫২০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ভুয়া সাংবাদিক
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে বসা নিয়ে সাংবাদিককে মারধর, এরপর যা হলো
এমডির নির্দেশে বলাকায় ২১ দিন সাংবাদিক প্রবেশে বাধা, মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
বর্ণাঢ্য আয়োজনে বেরোবি সাংবাদিক সমিতির এক যুগপূর্তি উদযাপন