ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ডিম্বাণু সংরক্ষণের সুযোগ বাংলাদেশেও, তবে চাইলেই কি করা যায়?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ পিএম
কাল্পনিক ছবি

নানা কারণে অনেক নারী সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা কিছুটা পিছিয়ে দেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমতে থাকে। বিশেষ করে মধ্য ত্রিশের পর এ সম্ভাবনা দ্রুত কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বয়স বাড়লে ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমজনিত ত্রুটির ঝুঁকিও বাড়ে। ফলে গর্ভধারণ হলেও কিছু জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন এ প্রযুক্তির সুযোগ রয়েছে। তবে চাইলেই যে কোনো নারী ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেই ভবিষ্যতে সন্তানধারণ নিশ্চিত হবে বিষয়টি এমন নয়।

বয়স কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর বয়সের পর নারীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। মধ্য ত্রিশের পর এই হার আরও দ্রুত কমে। ৪৫ বছর বয়সের দিকে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা খুবই কমে যায়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর গুণগত মানও কমতে পারে। একই সঙ্গে ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমাল অস্বাভাবিকতার ঝুঁকি বাড়ে। ফলে গর্ভধারণ হলে ভ্রূণের কিছু জিনগত বা জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ডিম্বাণু সংরক্ষণ কীভাবে করা হয়?

ডিম্বাশয়ে থাকা ডিম্বাণুগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকতেই সেগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা যায়। এ জন্য প্রথমে হরমোন ইনজেকশনের মাধ্যমে একসঙ্গে একাধিক ডিম্বাণুকে পরিণত করে তোলা হয়। সাধারণত ৮ থেকে ১২ দিন পর নির্দিষ্ট সময়ে ডিম্বাণু সংগ্রহের প্রক্রিয়া করা হয়।

এ সময় রোগীকে ঘুমের ওষুধ বা চেতনানাশক দেওয়া হয়। এরপর ট্রান্সভ্যাজাইনাল সনোগ্রাফি বা টিভিএস প্রোবের সাহায্যে বিশেষ সূচের মাধ্যমে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়।

সংগৃহীত ডিম্বাণু তরল নাইট্রোজেনের অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে।

পরবর্তী সময়ে ওই নারী সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সংরক্ষিত ডিম্বাণু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনা হয়। এরপর শুক্রাণুর মাধ্যমে ডিম্বাণুর নিষেক ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। পরে সেই ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

কারা ডিম্বাণু সংরক্ষণ করতে পারেন?

ক্যানসারে আক্রান্ত কোনো নারীর চিকিৎসার কারণে ভবিষ্যতে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে আগেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তানধারণের একটি সম্ভাবনা ধরে রাখার সুযোগ দিতে পারে।

এ ছাড়া সুস্থ কোনো নারী ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিতে চাইলে তিনিও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। তবে ডিম্বাণু সংরক্ষণ তাঁর জন্য উপযুক্ত কি না, তা নির্ভর করবে বয়স, শারীরিক অবস্থা, ডিম্বাণুর মজুত ও গুণগত মানসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেই কি সন্তানধারণ নিশ্চিত?

না। ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তানধারণের নিশ্চয়তা দেয় না। বিশেষ করে সংরক্ষিত ডিম্বাণু পরে গলিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় আনার সময় কিছু ডিম্বাণু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এরপর নিষেক ও ভ্রূণ তৈরির ক্ষেত্রেও সাফল্য নিশ্চিত নয়।

এ ছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে নারীর অন্যান্য শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপনের পরও গর্ভপাতসহ বিভিন্ন জটিলতার আশঙ্কা থাকতে পারে। ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলেও ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্মগত ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে ঠেকানো সম্ভব এমন নিশ্চয়তাও নেই।

ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ডিম্বাণু সংগ্রহের আগে দেওয়া হরমোন ইনজেকশনের কারণে কারও কারও ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম (OHSS) হতে পারে। এতে ডিম্বাশয় ফুলে যাওয়া, শরীরে পানি জমা, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, বমি বা পাতলা পায়খানা হতে পারে।

জটিলতা বেশি হলে দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া, তীব্র পেটব্যথা, অনবরত বমি, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা রক্ত জমাট বাঁধার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া হরমোনের প্রভাবে ডিম্বাশয় বড় ও ভারী হয়ে গেলে সেটি নিজের অক্ষের ওপর মুচড়ে যেতে পারে, যাকে ওভারিয়ান টরশন বলা হয়। এটি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এমন একটি পরিস্থিতি।

ডিম্বাণু সংগ্রহের সময় যোনিপথ বা ডিম্বাশয়ের রক্তনালিতে আঘাত লাগারও আশঙ্কা থাকে। বিরল ক্ষেত্রে মূত্রথলি, অন্ত্র বা আশপাশের রক্তনালিতেও আঘাত লাগতে পারে। সংক্রমণের ঝুঁকিও পুরোপুরি বাদ যায় না।

খরচও কম নয়

ডিম্বাণু সংরক্ষণের পুরো প্রক্রিয়া তুলনামূলক ব্যয়বহুল। ডিম্বাণু সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পাশাপাশি ফ্রিজারে সংরক্ষিত ডিম্বাণুর জন্য প্রতিবছর অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।

তাই ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। একই সঙ্গে যে প্রতিষ্ঠানে প্রক্রিয়াটি করানো হবে, সেখানে ডিম্বাণু সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ভবিষ্যতে ব্যবহারের প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ সব মিলিয়ে মোট খরচ সম্পর্কে আগেই বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তানধারণের একটি সুযোগ ধরে রাখার প্রযুক্তি হলেও এটি কোনো নিশ্চয়তা নয়। কার জন্য এটি উপযুক্ত, কখন করা ভালো এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কতটা এসব সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতেই নেওয়া উচিত।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’র সেবা পেয়েছেন ৬ লাখেরও বেশি রোগী
সৌদি আরবের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ফলে অবহেলিত গড়ইখালী ও আশপাশের অঞ্চলের দুস্থ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য বঞ্চনার অবসান হতে চলেছে।
বাংলাদেশ-সৌদি ‘ভাসমান হাসপাতাল’র সেবা পেয়েছেন ৬ লাখেরও বেশি রোগী
প্রতি মঙ্গলবার বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন হয় এই হাসপাতালে 
কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি মঙ্গলবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন করা হবে। দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আজ থেকে পুনরায় এই হাসপাতালে সিজারিয়ান (সিজার) অপারেশন কার্যক্রম চালু হলো।
প্রতি মঙ্গলবার বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন হয় এই হাসপাতালে 
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৮ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৮২৩ জনে। এ সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৪ হাজার ৭৩ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮২ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৫৪৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে একই সময়ে হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছেন আরও একজন। ফলে এক দিনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৮ জনে। অন্যদিকে, নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০৫ জন। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩১৮ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ জন রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশে হাম পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়ছে। আরটিভি/এসকে
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
অক্টোবরে রেকর্ড প্রাণহানির পর ডেঙ্গুতে এবার আরও ৬ জনের মৃত্যু
গেল অক্টোবর মাসে রেকর্ড ১৭৪ জনের মৃত্যুর পর আবারও চোখ রাঙানি দিচ্ছে ডেঙ্গু। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অক্টোবরে রেকর্ড প্রাণহানির পর ডেঙ্গুতে এবার আরও ৬ জনের মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর প্রাণহানি
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশু এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৭ জনে।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর প্রাণহানি
আরও পড়ুন
গর্ভধারণের আগে কফি নিয়ে যে বিষয়টি জানা জরুরি
গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয় কেন
গর্ভধারণে ব্যর্থতা থাইরয়েডের সমস্যার জন্যও হতে পারে
কিশোরী বয়সে গর্ভধারণে যেসব ঝুঁকি রয়েছে