ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নিষেধাজ্ঞার শৃঙ্খল ভাঙতে জার্মানিতে প্রকাশ পেলো ইরানি সংগীতশিল্পীদের অ্যালবাম

আহাম্মদ উল্লাহ সিকদার

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৩৪ পিএম
সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক রাজনীতির কারণে ইরান অনেকটাই আলাদা হয়ে পড়লেও ইরানি সংগীত শিল্পীদের বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করতে এগিয়ে এসেছে জার্মানি।

এ বছরের শুরুতে ৩০এম রেকর্ড প্রতিষ্ঠা করেন ম্যাথিয়াস কোচ। হামবুর্গ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ২০ নভেম্বর তাদের প্রথম গানের অ্যালবাম প্রকাশ করেছে। অ্যালবামটিতে গান করেছেন দুজন ইরানি গায়ক। প্রচলিত ইরানি সংগীতের সঙ্গে আধুনিকতা ছোঁয়া দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এই অ্যালবামে।

৪৯ বছর বয়সী কোচ আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতি আমার গভীর আকর্ষণ আছে। আমি কামঞ্চে, তার, সেতার এবং দফের মতো ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র পছন্দ করি।

২০১৬ সালে তেহরান ও বিশ্বশক্তির মধ্যে একটি পরমাণু চুক্তি কার্যকর হওয়ার কিছুদিন পর তিনি প্রথমবারের মতো ইরান যান। এই চুক্তির আওতায় ইরানের উপর বহুপক্ষীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হয়।

ফলে ইরানি শিল্পী ও শ্রোতাদের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যায়। তেহরান ও অন্যান্য কয়েকটি শহরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিল্পীদের বেশ কয়েকটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়। পরে অভূতপূর্ব চাহিদার কারণে পারফরম্যান্সের সময় আরও বাড়ানো হয়।

জার্মান ইলেকট্রনিক ব্যান্ড শিলার, ইতালিয়ান পিয়ানোবাদক এবং সুরকার লুডোভিকো আইনাউডি এবং ইকুয়েডরের সংগীতশিল্পী লিও রোজাসের মতো শিল্পীরা মিলাদ টাওয়ারসহ তেহরানের বেশ কয়েকটি আইকনিক ভেন্যুতে শো করেছিলেন।

বামদাদ আফশার ও ওটাগ ব্যান্ড

২০১৭ সালে জার্মান সুরকার মার্টিন কোহলস্টেডট এবং আইসল্যান্ডের মাল্টি-ইন্সট্রুমেন্টালিস্ট ওলাফুর আর্নাল্ডসের পারফরম্যান্সের আয়োজকদের একজন ছিলেন কোচ। কিন্তু ২০১৮ সালের মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এককভাবে ওই পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনেন। এসময় তিনি ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও প্রতিশ্রুতি দেন।

এই ঘোষণার কিছুদিন পর গ্র্যামিজয়ী জাপানি শিল্পী কিতারোর বহু প্রত্যাশিত সিরিজ পারফরম্যান্স বাতিল করা হয়। কারণে তার ব্যান্ড সদস্যদের মধ্যে আমেরিকানও রয়েছে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের উপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ; বিশেষত দেশটির পুরো আর্থিক খাতকে কালোতালিকাভুক্ত করে।

পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র মূলত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো টার্গেট করে যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয় তাতে ইরান, ইরাক, সুদান বা সিরিয়ার নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি যারা ইরান ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক ছিলেন তারাও প্রভাবিত হন।

কোচ বলেন যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তার ৩০এম রেকর্ড প্রতিষ্ঠার অন্যতম একটি কারণ ছিল। তিনি বলেন, আমি ইরানি সংগীতশিল্পীদের জন্য বিশেষ করে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে তাদের সংগীত প্রকাশ এবং তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে তাদের প্রবেশাধিকার দিতে চেয়েছি।

হুশিয়ার খায়াম (বামে)

আমি মনে করি ইরানের সংগীত মনোমুগ্ধকর, যা বিশ্বব্যাপী দর্শক প্রিয়তা পাওয়ার দাবিদার বলেন কোচ। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ইরানি শিল্পীরা যদি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে চায় তাহলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি ফি দেয়ার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।

কোচ বলেন, সুতরাং আমি তাদের ন্যায্য চুক্তি, ভাল মূল্য এবং ইউরোপ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে কনসার্ট এজেন্সি, প্রকাশক এবং মিডিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার জন্য ব্যাপক পরামর্শের প্রস্তাব দিতে চাই। ৩০এম রেকর্ডসের প্রথম প্রজেক্ট ‘রাজ’ ফার্সি ভাষায় ‘সিক্রেট’ ২০ নভেম্বর প্রকাশ পেয়েছে।

অ্যালবাম প্রকাশের আগে আন্তর্জাতিক বড় দুটি প্লাটফর্ম স্পটিফাই ও ফিজিক্যাল ভিনাইলে দুটি গান প্রকাশ করা হয়। খুব শিগগিরই সিডি এডিশন বের হবে। কোচ বলছেন, যোগ্যতা অনুযায়ী প্রাপ্য সম্মান পাবে এই সংগীত।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় ইরানের বড় একটি প্রদেশ সিস্তান ও বেলুচিস্তানের ধারার সংগীতই মূলত এই অ্যালবামে ফোকাস পেয়েছে। এছাড়া ইরানের ‘হিলিং মিউজিক’ গোয়াটিও অ্যালবামে স্থান পেয়েছে, যা দুজন পুরুষ ও একজন নারীর কণ্ঠে আধুনিক ইলেকট্রনিক মিউজিকের সাহায্যে নতুনত্ব পেয়েছে।

এই অ্যালবামটি মূলত সুরকার ও পিয়ানোবাদক হুশিয়ার খায়াম এবং সংগীতশিল্পী ও পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমা ও থিয়েটার সংগীত সুরকার বমাদাদ আফশারের মধ্যে কোলাবোরেশন।

বামদাদ আফশার

২০১৫ সালে তেহরানে ওটাগ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা আফশার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো এটি আন্তর্জাতিক পিয়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং কাজ প্রকাশের রাস্তাকে উন্মুক্ত করে।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আমরা যদি কোনও আন্তর্জাতিক গ্রুপ হতে চাই, তাহলে বাইরের কোনও লিঙ্ক না থাকলে কাজের জন্য সুযোগ হওয়াটা কঠিন। আফশার বলেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কোভিড-১৯ মহামারি দ্বৈত আঘাত তার পেশাগত জীবনের সবদিককে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।

তিনি বলেন, দুই বছর আগের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে আট গুণ। আমার বেশ কিছু ট্রিপ ও পারফরম্যান্স বাতিল হয়ে গেছে। ‘রাজ’ নিয়ে আমি খায়ামের প্রস্তাবের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছিলাম কারণ আমার আগের একক এবং ওটাগের জন্য কাজগুলো মূলত ইরানের ঐতিহ্যবাহী সংগীতকে কেন্দ্র করে ছিল।

চলতি বছর ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সংগীতের জন্য পুরস্কার পায় ইরানি চলচ্চিত্র ‘স্কিন’। সেখানে শামান স্টাইলের তুর্কমেন এবং মঙ্গোল সংগীতের সঙ্গে বৈদ্যুতিক ট্রান্স সংগীতের মিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন আফশার। তিনি এবং ওটাগ তাদের সবশেষ অ্যালবামে দক্ষিণ বুশেহেরের সংগীতও ব্যবহার করেছেন, যা শিগগিরই প্রকাশ পাবে।

জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘৩০এম’ ‘সিমর্গ’ নামের সংক্ষিপ্ত। ফার্সি ভাষায় ৩০ এর উচ্চারণ ‘সি’ এবং ‘মর্গ’ শব্দের অর্থ পাখি অর্থাৎ সিমর্গ হচ্ছে পৌরাণিক একটি পার্সিয়ান পাখি। ১২ শতাব্দীর সুপরিচিত ফার্সি কবি এবং সুফি আত্তার অব নিশারপুরের একটি কবিতা কনফারেন্সেস অব দ্য বার্ডস’র গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই নাম রাখা হয়েছে।

ম্যাথিয়াস কোচ

পৌরাণিক গল্প অনুযায়ী, পাখিদের রাজা সিমর্গকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে এক ঝাঁক পাখি। দীর্ঘ এবং কঠোর যাত্রা শেষে ৩০টি পাখি লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে তারা দেখতে পায় রাজার কোনও অস্তিত্ব নেই এবং শেষপর্যন্ত তারাই রাজা হয়ে যায়।

কোচ বলেন, ইরানি শিল্প ও সংগীত নিয়ে কাজ করতে চায় ৩০এম রেকর্ডস কারণ এগুলো খুব সমৃদ্ধ। ৩০এম রেকর্ডস প্রতিষ্ঠাতার আগে বহু বছর জার্মান ও ইউরোপিয়ান প্রতিষ্ঠানে এবং মিউজিক ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে কোচের। তিনি বলেন, ইরান থেকে আরও বিভিন্ন ধরনের সংগীত প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

প্রতিষ্ঠানটি ‘দিস ইজ তেহরান?’ শিরোনামে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বিভিন্ন ইরানি শিল্পী গান নিয়ে একটি কম্পাইল অ্যালবাম প্রকাশের পরিকল্পনা করছে। এই অ্যালবামে ইলেকট্রনিক মিউজিশিয়ান আতা এবতেকার এবং সুরকার পেদরেম বাবায়েইয়ের গানও থাকবে।

একই বছরের শেষদিকে আরেকটি অ্যালবাম প্রকাশ করবে ৩০এম রেকর্ডস। ইলেকট্রনিক মিউজিশিয়ান সাবা আলিজাদে’র সুরে ওই অ্যালবামের নাম ‘কামাঞ্চে মিটস ইলেকট্রনিক মিউজিক’। সুরের বেদনাদায়ক সৌন্দর্য এবং বিট আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য পারফেক্ট এবং এর পেছনের গল্পগুলোও সংগীতকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে বলেন কোচ।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
নতুন বছরের শুরু থেকে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় হাইকমিশন। হাইকমিশনের দূতাবাস প্রধান রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কুয়ালালামপুরের আম্পাং শাখার পাসপোর্ট অফিসের কার্যালয় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী রোববার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত সাময়িকভাবে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম আরও বেগবান করার মাধ্যমে প্রত্যাশীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, যারা অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রেখেছেন তাদের নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়। এক্ষেত্রে ১০ জানুয়ারির পর কাছাকাছি সময়ে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন পুনরায় নির্ধারণ করে যথাসময়ে অবহিত করা হবে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২ ও ৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ার জহুর বারু প্রদেশে পাসপোর্ট ডেলিভারি সেবার কার্যক্রম অব্যহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এফএ
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারতের আসাম প্রদেশে ৭০০ মাদরাসাকে স্কুলে রূপান্তর করবে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সরকার বলছে, মসজিদের ঈমামের চেয়ে ভারতে ডাক্তার, পুলিশ, আমলা ও শিক্ষক বেশি প্রয়োজন। তাই মাদরাসার সিলেবাসকে নিম্নমানের শিক্ষা আখ্যায়িত করে স্কুলে রূপান্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।  এই সংক্রান্ত একটি বিল বৃহস্পতিবার আসামের আইনসভায় পাস হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা প্রাদেশিক আইনসভাকে জানিয়েছেন, নতুন বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ এর অধিক মাদরাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান। হেমন্ত বিশ্বাসের দাবি মাদ্রাসায় পার্থিব বা বৈষয়িক কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশে মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াজেদ আলী চৌধুরী নামে কংগ্রেসের একজন আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এটা মুসলিমদের শেকড় উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত।’ এফএ
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে বেশ কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে নিজেদের তৈরি করা ভয়ংকর অত্যাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের  যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থানডার ব্লক-৩ প্রদর্শন করলো পাকিস্তান। গেলো বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির বিমানবাহিনীর দূরবর্তী উচ্চ রাডার প্রযুক্তি ও ফায়ারিং ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি যুদ্ধবিমান পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তানের প্রভাবশালী মিডিয়া ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খান জানান, জাতীয় বহরে দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বর্পূণ মাইলফলক। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনী যখন আঞ্চলিক ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে, সেসময় জেএফ-১৭ থানডার যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।   একই সঙ্গে পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন ও চীনা বিমান শিল্পের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন। এম
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে- ১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি। ২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য  প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে। ৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর। ৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা। ৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে। ৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা। ৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা। ১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে। এসআর/এমকে
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় রয়েছেন করোনা ভ্যাকসিনের টিকা প্রস্তুতকারী ফার্ম ও বোতলজাত পানি ব্যবসায়ী ঝং শানশান। ই–কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মাকে পেছনে ফেলেছে। ২০২০ সালেই ঝংয়ের সম্পদ বেড়েছে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। ঝং শানশানের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৭ হাজার ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার। সূত্র বিবিসি ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় ঝং শানশান। যিনি বিশ্বের ১১তম শীর্ষ ধনী। ঝং পরিচিত বেশি লোন উলফ নামে। ঝংয়ের কর্মজীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। সাংবাদিকতা, মাশরুমের চাষ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেছেন তিনি। এপ্রিলে ভ্যাকসিন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার তিন মাস পর হংকংয়ের শেয়ারবাজারে আনেন তার বোতলজাত পানির প্রতিষ্ঠান নোংফু স্প্রিংকে। ১৯৯৬ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশে এটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে নোংফুর শেয়ার। বেইজিং ওয়ানটাই বায়োলজিক্যালের শেয়ার বেড়েছে দুই হাজার শতাংশের বেশি। করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো এটি। ৬৬ বছর বয়সী ঝং শানশান সেপ্টেম্বরে জ্যাক মাকে সরিয়ে চীনের শীর্ষ ধনীর অবস্থান নেন। এবার মুকেশ আম্বানিকে সরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন। এফএ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
আরও পড়ুন
কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিলো জার্মানি
জার্মানিতে পথচারীদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেয়ায় নিহত ২
বড়দিনের আগে টিকা পেতে পারে জার্মানরা
সন্ত্রাসবাদ রুখতে ইমামদের প্রশিক্ষণ দেবে জার্মানি