
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি মোটেলে যৌন ও মাদক ব্যবসা চালানোর অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক দম্পতিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
ডামফ্রিস শহরের রেড কার্পেট ইন নামের মোটেলটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্তের পর গত ১৫ জানুয়ারি ভোরে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি হলেন ৫২ বছর বয়সী কোশা শর্মা ওরফে ‘মা’ বা ‘মামা কে’ এবং ৫৫ বছর বয়সী তরুণ শর্মা ওরফে ‘পপ’ বা ‘পা’।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া একই মামলায় মার্গো ওয়ালডন পিয়ার্স, জোশুয়া রডেরিক এবং রাশার্ড পেরিশ স্মিথ নামে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঁচজনের বিরুদ্ধেই ফেন্টানিলসহ নিয়ন্ত্রিত মাদক সরবরাহে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের প্রত্যেককে ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
বিচার বিভাগ জানায়, অভিযুক্তরা শুক্রবার প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির হন। তদন্তে জানা গেছে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে কোশা ও তরুণ শর্মা তাদের মালিকানাধীন একটি এলএলসির মাধ্যমে রেড কার্পেট ইন মোটেলটি ইজারা নিয়ে পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী- মোটেলের তৃতীয় তলায় চলা অবৈধ কার্যক্রম থেকে তারা লাভের একটি অংশ পেতেন।
সংবাদমাধ্যম ফক্স ফাইভের খবরে বলা হয়েছে, যৌন ব্যবসা ও মাদক পাচার নিয়ে বহু বছর ধরে তদন্তের পর এফবিআই ও প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টি পুলিশের যৌথ অভিযানে মোটেলটিতে হানা দেওয়া হয়। ১৫ জানুয়ারি সকাল ৬টার কিছু আগে অস্ত্র হাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোটেলের পার্কিং এলাকায় প্রবেশ করেন। অভিযানের ভিডিও ফুটেজ স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের মে থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ওই মোটেলে ৯টি যৌন ব্যবসা সংক্রান্ত লেনদেন এবং ১৫টি নিয়ন্ত্রিত মাদক কেনাবেচার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১১টি ছিল ফেন্টানিল এবং চারটি কোকেন।
ভার্জিনিয়ার পূর্বাঞ্চলের মার্কিন অ্যাটর্নি লিন্ডসি হ্যালিগান এক বিবৃতিতে বলেন, মাদক ও যৌন পাচার সমাজকে ধ্বংস করে, দুর্বল মানুষকে শোষণ করে এবং সহিংসতা ও আসক্তিকে উসকে দেয়। মানবিক দুর্ভোগ থেকে লাভবান হওয়া অপরাধচক্র ভেঙে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ মামলার তদন্তে এফবিআইয়ের সঙ্গে প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টি পুলিশ ও ভার্জিনিয়া স্টেট পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
আরটিভি/এমএইচজে



