
বিলাসবহুল ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জ্যাকব অ্যান্ড কোং-এর নতুন এক সৃষ্টি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঘড়ির ডায়ালে খোদাই করা এশিয়ার শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির কনিষ্ঠ পুত্র অনন্ত আম্বানির একটি প্রতিকৃতি। হীরা ও নীলকান্তমণিতে ঘেরা এই ঘড়িতে কেন আম্বানি তনয়ের প্রতিবিম্ব স্থান পেল—তা নিয়ে কৌতূহল এখন তুঙ্গে। মূলত এটি কেবল একটি ঘড়ি নয় বরং অনন্ত আম্বানির স্বপ্নের প্রকল্প ‘ভান্তারা’র প্রতি এক অনন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
এই ঘড়িটি তৈরির নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর আবেগ ও দায়বদ্ধতার গল্প। ৩ হাজার ৫০০ একর জুড়ে বিস্তৃত অনন্তের ব্যক্তিগত বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্র ‘ভান্তারা’র মূল দর্শনকে এই ঘড়িতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রত্নখচিত এই ঘড়িটির ডায়ালের ঠিক মাঝখানে বসানো হয়েছে অনন্ত আম্বানির একটি হাতে আঁকা ক্ষুদ্র প্রতিকৃতি। তার চারপাশে পাহারাদারের মতো দাঁড়িয়ে আছে নিখুঁত কারুকার্যে তৈরি সিংহ ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ভাস্কর্য। প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ১৩৭ কোটি রুপি মূল্যের এই ঘড়িতে ৩৯৭টি দুষ্প্রাপ্য রত্ন ব্যবহার করা হয়েছে যার কারুকাজ সম্পন্ন করতে লেগেছে শত শত ঘণ্টা। এই ঘড়িতে হীরা, সবুজ নীলকান্তমণি ও গারনেটের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মতে, ঘড়িটির কেন্দ্রে থাকা অনন্তর মূর্তিটি মূলত প্রাণীদের প্রতি তার ‘দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধান ও মমত্ববোধের’ প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
যদিও বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়, তবে গত বছর অনন্ত আম্বানির প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানের সুবাদে সারা বিশ্ব এই কেন্দ্রের নাম জানতে পারে। বিল গেটস, মার্ক জাকারবার্গ থেকে শুরু করে কিম কার্দাশিয়ান ও রিহানার মতো বৈশ্বিক তারকাদের উপস্থিতিতে এই ভান্তারা হয়ে উঠেছিল আভিজাত্য ও প্রকৃতির এক মেলবন্ধন।
বিলাসবহুল এই ঘড়িটি এখন পর্যন্ত বাজারে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি এবং এর সঠিক দামও আনুষ্ঠানিকভাবে গোপন রাখা হয়েছে। তবে ঘড়ি বিশেষজ্ঞ সংস্থা ‘ওয়াচোপিয়া’র মতে, এর নির্মাণশৈলী ও রত্নের ব্যবহার একে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ঘড়ির তালিকায় স্থান করে দিয়েছে। বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে উদ্বোধন হওয়া এই ‘ভান্তারা’ এখন আম্বানি পরিবারের আভিজাত্য ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ও ঘড়ি শিল্পের এক অনন্য অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়েছে।
আরটিভি/এআর

