
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার পূর্বাঞ্চলীয় শহরতলী এলাকা আনন্দপুরের নাজিরাবাদে পাশাপাশি দু’টি গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) আনন্দপুরের নাজিরাবাদে পাশাপাশি দুই গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। এই গুদাম দুটির একটি ছিলো ডেকোরেটরসের এবং অন্যটি মোমো ও কোমল পানীয় তৈরির কারখানার।
পুলিশের বরাতে জানা গেছে, ২৫ জানুয়ারি রাতে ডেকোরেটরসের গুদামের কর্মীরা পিকনিক করছিল। মোমো কারখানার কর্মীরাও কাজ করছিল। মোমো কারখানার গুদামটিতে ছিলো প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ।
অভিযোগ উঠেছে, মোমো কারখানা থেকে দুই গুদামে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে মোমো কারখানার মালিকপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, পাশের ডেকোরেটরসের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
আনন্দপুর অঞ্চলটি কলকাতার কাছাকাছি হলেও আসলে এটি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বারুইপুর মহকুমার (উপজেলা) অন্তর্গত। বারুইপুরের পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ঠিক কত জন ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দগ্ধ দেহাংশ দেখে পরিচয় জানার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।
যাদের মরদেহ ও দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। আগুন লাগার সময়ে গুদাম দু’টিতে কতজন ছিল- এখনও জানা যায়নি। সামনে লাশের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অগ্নিকাণ্ডের পর এই দুই গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস পালিয়ে যান। কিন্তু মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ এই দুই গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করে। গঙ্গাধর দাবি করেন, মোমো কারখানা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ধৃত গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে। তিনি ৪০ বছর ধরে ডেকোরেটরসের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনায় গভীর শোক জানানো হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার রুপি সহায়তা প্রদান করা হবে।
আরটিভি/এমআই


