ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হয়েছে: ইইউর পর্যবেক্ষক প্রধান

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২০ পিএম
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস। ছবি সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট নিয়ে নিজেদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সার্বিকভাবে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসন অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে বলে মনে করে ইইউ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইইউর পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৮০৫টি ভোটকেন্দ্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। ইভারস আইজাবস বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় প্রার্থীরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের গণসংযোগ ও প্রচার কাজ চালাতে পেরেছেন, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম প্রধান শর্ত।

এছাড়া ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে জয় ও পরাজয় মেনে নিয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এমন সুস্থ ধারার চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই পর্যবেক্ষক প্রধান।

নির্বাচনের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

আরও পড়ুন

ইভারস আইজাবস বলেন, নির্বাচনে নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর কথাবার্তা ও আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকাটা নারী ক্ষমতায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারী প্রার্থীদের চরিত্রহরণ, যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য এবং পুরুষতান্ত্রিক ডিজিটাল হয়রানির ঘটনাগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা এই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ইইউ প্রতিনিধি দল।

পর্যবেক্ষক দলের প্রধান বলেন, গণতান্ত্রিক সুস্থ চর্চায় নারীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল হয়রানি বা চরিত্রহরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে। তবুও সামগ্রিক বিচারে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের কর্মতৎপরতায় ইইউ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের উপস্থিতি এবং ভোটদানের পরিবেশও ছিল সন্তোষজনক।

সংবাদ সম্মেলনে ইইউ প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও সুদৃঢ় হবে এবং নারী অধিকার রক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর পেল উইসকনসিন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উইসকনসিনের পরবর্তী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড ক্রাউলি। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির ১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হতে যাচ্ছেন তিনি। 
১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর পেল উইসকনসিন
ছয় মাসের চাকরি, আকাশেই কেটে গেল ৬৩ বছর!
মাত্র ছয় মাসের জন্য বিমানসেবিকার চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন ক্যারল ফেয়ার। পরিকল্পনা ছিল, এরপর বিয়ে করে সংসার শুরু করবেন।
ছয় মাসের চাকরি, আকাশেই কেটে গেল ৬৩ বছর!
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবদুল এল-সায়েদ। দেশটির মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই প্রার্থী। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম ব্যক্তি নির্বাচিত সিনেটর হতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাসে তার বিজয় নিশ্চিত করা হয়। মিশিগানের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয় পেয়েছেন তিনি। মিশরীয় পরিবারে জন্ম, বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে আবদুল এল-সায়েদের পূর্ণ নাম আবদুলরহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদ। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসে তার জন্ম। তার বাবা-মা দুজনই মিশরীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী। তার বাবা মোহাম্মদ এল-সায়েদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। উচ্চশিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ডেট্রয়েটের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। তার মা ফাতেন এল-কোমি পেশায় একজন নার্স প্র্যাকটিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে কর্মরত। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে ভর্তি হন। সেখানে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি মর্যাদাপূর্ণ রোডস স্কলারশিপ লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রিও অর্জন করেন। জনস্বাস্থ্য থেকে রাজনীতির মাঠে পেশাগত জীবনে আবদুল এল-সায়েদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মহামারিবিদ ও প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শহরটির আর্থিক সংকটের পর স্বাস্থ্য বিভাগ পুনর্গঠন এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করে তিনি পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবসেবা ও ভেটেরানস সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। তবে রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা অব্যাহত থাকে। ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন তিনি। এরপর সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটের আসনটি নিজের করে নেন। নীতিগত অবস্থান ও ঐতিহাসিক বিজয় নির্বাচনী প্রচারে আবদুল এল-সায়েদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ ও প্রভাব সীমিত করা। তিনি সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা বা ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে তার বক্তব্য তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে। তার এই বিজয় শুধু মিশিগানের রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর মুসলিম ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নির্বাচিত প্রতিনিধি যুক্ত হতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদের দায়িত্ব গ্রহণের কথা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য নির্বাচিত হওয়া আবদুল এল-সায়েদের এই অর্জন অভিবাসী পরিবারগুলোর নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আরটিভি/টিআর
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
ওহাইওর পরবর্তী গভর্নর হওয়ার লড়াইয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. অ্যামি অ্যাক্টন। তিনি বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস।
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
আরও পড়ুন
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্ত, পাস হলো ৬ বিল
বিএনপির মনোনয়ন পাননি বেবি নাজনিন
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের ফরম নিলেন ফারাজানা সিঁথি
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু শুক্রবার