ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রাজিলে ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় ২৩ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৪০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৯ এএম
ছবি: আলজাজিরা

ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস গেরাইস রাজ্যে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা ও দুর্যোগ-প্রশিক্ষিত অনুসন্ধান কুকুর নিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া অন্তত ৪০ জন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাজ্যের জুইজ ডি ফোরো পৌরসভায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ১৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে দুর্যোগ-প্রশিক্ষিত কুকুর ও আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে কয়েক ডজন উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন, তবে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার তৎপরতা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

রাজ্যের সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রিও ডি জেনিরো থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত জুইজ ডি ফোরো শহরেই অন্তত ৪৪০ জন মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। শহরের মেয়র মার্গারিদা সালোমাও জানিয়েছেন যে, ওই এলাকায় অন্তত ২০টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধসে পড়েছে।

আরও পড়ুন

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আজ সকালে একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন, তবে এখনো মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জুইজ ডি ফোরো ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উবা শহরেও অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ব্রাজিলের ফায়ার ব্রিগেড মেজর ডিমেট্রিয়াস গৌলার্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি-কে জানান যে, সোমবার রাতে যখন প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল, তখন অনেক মানুষ বাড়ির ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। নদীগুলোর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় পুরো এলাকা কাদা ও পলিমাটির নিচে তলিয়ে গেছে।

মেয়র সালোমাও এই পরিস্থিতিকে তার প্রশাসনের ‘সবচেয়ে দুঃখজনক দিন’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, মাত্র চার ঘণ্টায় সেখানে ১৮০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসটি এই অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে আর্দ্র মাস হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছেন যে, সরকারের মূল লক্ষ্য এখন মানুষের জীবন বাঁচানো, বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা করা এবং মৌলিক পরিষেবাগুলো পুনরায় চালু করা।

বর্তমানে মিনাস গেরাইস ফায়ার সার্ভিসের শতাধিক কর্মকর্তা উদ্ধারকাজে মোতায়েন রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকার সম্মিলিতভাবে পুনর্গঠন কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে, যদিও বৃষ্টির পূর্বাভাস ও ভূমিধসের ঝুঁকি উদ্ধারকর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ, যা কথা হলো
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 
ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ, যা কথা হলো
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
একসময় আমেরিকার প্রায় প্রতিটি পকেট, কয়েনের জার কিংবা শিশুর পিগি ব্যাংকে দেখা যেত ছোট্ট এক সেন্টের মুদ্রা—পেনি। দোকানের কাউন্টারে খুচরা ফেরত, ছোটখাটো কেনাকাটা কিংবা সঞ্চয়ের প্রথম ধাপ—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে ছিল এই ছোট্ট মুদ্রাটি। কিন্তু ২৩৪ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার সেই পরিচিত পেনি বিদায়ের পথে। মার্কিন সিনেটে পেনি তৈরির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির বিল পাস হয়েছে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই বিল এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য যাচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রচলনের জন্য নতুন পেনি তৈরির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পেনির গল্প আজকের নয়।  ১৭৯২ সালের ‘কয়েনেজ অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এক সেন্টের মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ১৭৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল প্রথম পেনি তৈরি করে। সেই সময়ের পেনি ছিল বর্তমান মুদ্রার তুলনায় বড় এবং মূলত তামা দিয়ে তৈরি। এরপর আমেরিকার ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে থেকেছে পেনি।  ১৯০৯ সালে মুদ্রাটিতে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি যুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তামার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৪৩ সালে পেনির একটি সংস্করণ তামার পরিবর্তে ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এর ধাতব উপাদানও পরিবর্তিত হয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রার পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ফিলাডেলফিয়া টাকশালে প্রচলনের জন্য শেষ পেনিটি তৈরি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রচলিত পেনির নিয়মিত উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাসের অবসান ঘটে। তবে মানুষের হাতে থাকা পেনিগুলো এখনো বৈধ মুদ্রা হিসেবে থাকবে এবং সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা যাবে। পেনি তৈরির খরচই মূলত এর বিদায়ের অন্যতম বড় কারণ। মার্কিন টাকশালের হিসাবে, ২০২৪ সালে একটি পেনি তৈরি করতে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ সেন্ট খরচ হয়েছে। অথচ মুদ্রাটির মূল্য মাত্র ১ সেন্ট। একই বছরে প্রায় ৩২০ কোটি পেনি তৈরি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে নগদ অর্থের ব্যবহারও কমেছে।  কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হওয়ায় এক সেন্টের মতো ছোট মূল্যমানের মুদ্রার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। পেনি সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে গেলে নগদ লেনদেনে নতুন নিয়ম চালু হতে পারে।  ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’-এ মোট বিলের অঙ্ক কাছের পাঁচ সেন্টে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো মোট বিলের শেষ অঙ্ক ১, ২, ৬ বা ৭ হলে তা নিচের পাঁচ সেন্টে নামিয়ে নেওয়া হবে।  আর শেষ অঙ্ক ৩, ৪, ৮ বা ৯ হলে তা ওপরের পাঁচ সেন্টে নেওয়া হবে। এই নিয়ম শুধু নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্দিষ্ট সেন্ট পর্যন্ত সঠিক মূল্য পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ, আমেরিকার পকেট থেকে পেনি হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু দোকানের কাউন্টারে খুচরা হিসেবে পাওয়া সেই ছোট্ট কয়েন, শিশুর পিগি ব্যাংকে জমিয়ে রাখা প্রথম সঞ্চয় কিংবা পুরোনো কয়েনের জারে পড়ে থাকা এক সেন্ট—এসব স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ২৩৪ বছরের ইতিহাস সহজে মুছে যাওয়ার নয়। আরটিভি/এসআর
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানবজাতির জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক স্বেচ্ছামূলক চুক্তিতে সই করেছেন প্রযুক্তি খাতের ছয় শীর্ষ নির্বাহী।
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
ইরাকে থাকা সব সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নিয়ে দীর্ঘ দুই দশকের উপস্থিতি শেষে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অষ্টম তলার জানালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েও বেঁচে গেছেন ২১ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী।
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
আরও পড়ুন
রাফিনিয়াকে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার জালে এক হালি দিলো ব্রাজিল
বিকেলে মাঠে নামছে ব্রাজিল, মোবাইলে যেভাবে দেখবেন খেলা
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশে সাত পরিবর্তন