ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের মানুষ শুধু সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। তিনি মার্কিন রেডিও উপস্থাপক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার মাইকেল স্যাভেজের একটি পডকাস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন, যেখানে ভারত, চীনসহ কয়েকটি দেশকে ‘হেল-হোল’ বা নিকৃষ্ট দেশ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয় এবং এই দুই দেশের মানুষ শুধু সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে বলে মন্তব্য করা হয়।

স্যাভেজ তার ‘স্যাভেজ নেশন’ পডকাস্টে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন, ভারত ও চীন থেকে অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দিয়ে সেই শিশুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক বানাচ্ছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই শিশু নাগরিক হয়ে যায়, এরপর তারা তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে— ভারত, চীন বা অন্য কোনো ‘হেল-হোল’ দেশ থেকে।

এছাড়া তিনি ভারতীয় ও চীনা অভিবাসীদের উদ্দেশে কটূক্তি করে বলেন, তারা 'ল্যাপটপ হাতে গ্যাংস্টার', যারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিরোধিতা করে আসছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো দেশে এই সুবিধা নেই। তবে বাস্তবে কানাডা, মেক্সিকোসহ প্রায় ৩০টিরও বেশি দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব চালু রয়েছে।

আরও পড়ুন

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প কিছু ক্ষেত্রে এই সুবিধা সীমিত করতে নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যা নিয়ে দেশজুড়ে আইনি বিতর্ক শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, দেশটিতে জন্মগ্রহণকারী প্রায় সব শিশুই নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রাখে। ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ এই সাংবিধানিক অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

বর্তমানে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। আদালতের রায় এই ইস্যুতে ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আসন্ন রায় নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, আদালত যদি তার বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি ও মর্যাদাহানির কারণ হতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্প, ফের অভিযানের পরিকল্পনা 
ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার রোডম্যাপ পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্প, ফের অভিযানের পরিকল্পনা 
জাপানে ঘরজামাই হয়ে থাকার সুযোগ, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও
জাপানে দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক ও আইনি প্রথা আছে, যেখানে মেয়ের স্বামীকেই দত্তক নিয়ে পরিবারের ছেলে ও উত্তরসূরি বানানো হয়। এই প্রথার নাম ‘মুকোয়োশি’—সহজ বাংলায় বলা যায়, ‘দত্তক ঘরজামাই’। বিশ্বের অনেক দেশে দত্তক নেওয়ার সঙ্গে শিশুকে নতুন পরিবারে বড় করে তোলার ধারণাই বেশি পরিচিত। জাপানের ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকেও দত্তক নেওয়ার রীতি বেশ প্রচলিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির মোট দত্তকের ৯০ শতাংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে নিয়ে। সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের এভাবে পরিবারে নেওয়া হয়। তবে এর পেছনে শুধু পারিবারিক আবেগ নয়, অনেক সময় থাকে ভবিষ্যতের হিসাব-নিকাশও। জাপানে বহু পুরোনো ব্যবসা এখনও পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হয়। কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে কিংবা পরিবারের নিজের ছেলেকে ব্যবসার উত্তরসূরি হিসেবে উপযুক্ত মনে না হলে তারা একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নিতে পারে। আর সেই ব্যক্তি যদি মেয়ের স্বামী হন, তাহলে বিষয়টি আরও সহজ হয়ে যায়। বিয়ের পর তাকে দত্তক নেওয়া হলে তিনি শ্বশুরবাড়ির পদবি গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে পরিবারের ব্যবসা, সম্পদ এবং উত্তরাধিকারও তার হাতে চলে আসতে পারে। অর্থাৎ, সম্পর্কটা শুধু ‘জামাই’তে থেমে থাকে না। তিনি হয়ে ওঠেন পরিবারেরই একজন—অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী কর্তা। ‘মুকোয়োশি’র পেছনে সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি হলো ধারাবাহিকতা। পরিবারের পদবি যেন হারিয়ে না যায়, ব্যবসার নেতৃত্ব যেন পরিবারের বাইরে চলে না যায় এবং বহু বছরের প্রতিষ্ঠান যেন পরবর্তী প্রজন্মেও টিকে থাকে—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে ধরে রাখার পথ হিসেবেই প্রথাটি ব্যবহৃত হয়েছে। জাপানি সমাজে ঐতিহ্যগতভাবে বিয়ের পর স্ত্রী স্বামীর পদবি গ্রহণ করেন। ফলে কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে পরিবারের পদবি টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে তাকে পরিবারের পদবি দেওয়ার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করা হয়। এভাবেই একজন জামাই একই সঙ্গে হয়ে ওঠেন পরিবারের ছেলে, ব্যবসার উত্তরসূরি এবং বংশের নাম বহনকারী। জাপানের বড় ব্যবসার ইতিহাসেও ‘মুকোয়োশি’র ছাপ রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশনের নেতৃত্বে একাধিকবার দত্তক পুত্রের আগমন ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকিও ছিলেন এই প্রথায় পরিবারে আসা একজন দত্তক ঘরজামাই। নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটার মতো জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সম্পর্ক দেখা গেছে। ফলে জাপানের কিছু বিখ্যাত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক ধারাবাহিকতার পেছনেও রয়েছে এই অদ্ভুত অথচ কার্যকর সামাজিক রীতি। ‘মুকোয়োশি’র ব্যবহার ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উত্তরাধিকার পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে দত্তক নেওয়ার ঘটনা রয়েছে। বিশেষ করে নিঃসন্তান দম্পতিরা ভবিষ্যতে সম্পদ কার হাতে যাবে, সেটি নিশ্চিত করতে এই পথ বেছে নিতে পারেন। দত্তক প্রক্রিয়াটি জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে নিবন্ধিত হয়। দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ওই ব্যক্তি নতুন পরিবারের পদবি গ্রহণ করেন এবং জন্মসন্তানের মতোই উত্তরাধিকার ও পারিবারিক দায়িত্ব পান। তবে এর সঙ্গে দায়িত্বও আসে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের দেখাশোনার দায়িত্বও দত্তক নেওয়া সন্তানের ওপর বর্তাতে পারে। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই ব্যবস্থায় কি বিদেশিদেরও জায়গা আছে? প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি থাকা বিদেশিরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক হতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তি শর্ত পূরণ করলে জাপানি পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক সন্তান হতে পারেন। তবে দত্তক হলেই জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া যায় না। সেগুলোর জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। জন্মহার কমছে, গুরুত্ব বাড়ছে উত্তরাধিকারীর আধুনিক জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ার সঙ্গে এই প্রথার গুরুত্বের একটি নতুন মাত্রাও তৈরি হয়েছে। অনেক পারিবারিক ব্যবসার মালিকের সন্তান থাকলেও ছেলে নেই। আবার নিজের সন্তান ব্যবসা পরিচালনায় আগ্রহী বা উপযুক্ত না-ও হতে পারেন। তখন পরিবারের সামনে প্রশ্ন আসে—শত বছরের ব্যবসা কে চালাবে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে কোনো কোনো পরিবার পুত্রসন্তান জন্মের অপেক্ষায় না থেকে একজন উপযুক্ত ‘জামাই’কেই বেছে নেয়। এমনকি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য জাপানে বিশেষ ম্যাচমেকিং সেবারও অস্তিত্ব রয়েছে। এ নিয়ে জাপানে একটি প্রচলিত কথাও আছে—‘ছেলে তুমি বেছে নিতে পারো না, কিন্তু জামাই বেছে নিতে পারো।’ তবে সময়ের সঙ্গে ‘মুকোয়োশি’ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আধুনিক জাপানে নারীরা ব্যবসা, রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফলে শুধু পুরুষ উত্তরাধিকারী খোঁজার পুরোনো ধারণা কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তারপরও প্রথাটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কারও কাছে এটি একজন জামাইকে পরিবারের ছেলে করে নেওয়ার গল্প। কারও কাছে এটি শত বছরের ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখার কৌশল। আবার কারও কাছে পরিবারের পদবি, সম্পদ ও উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজন্মের হাতে পৌঁছে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক ব্যবস্থা। জাপানের ‘মুকোয়োশি’ তাই শুধু দত্তক নেওয়ার গল্প নয়। এর ভেতরে আছে বিয়ে, পরিবার, ব্যবসা, উত্তরাধিকার এবং বদলে যাওয়া সমাজের এক অদ্ভুত সহাবস্থানের গল্প। আরটিভি/এসএস
জাপানে ঘরজামাই হয়ে থাকার সুযোগ, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও
ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করল প্রতিবেশীসহ ৩ মুসলিম দেশ
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্য এবং দেশটির তিন মুসলিম প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক অংশীদার তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
405908
টেসলার ব্যাটারি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে ছাই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হারিকেন হেলেনের তাণ্ডবের সময় গ্যারেজে থাকা বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলার ব্যাটারি সিস্টেম লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে এসে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
টেসলার ব্যাটারি বিস্ফোরণে আগুন, পুড়ে ছাই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি
নিউইয়র্কে সরকারি চাকরি, আবেদন অক্টোবর পর্যন্ত
নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির তালিকায় ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কয়েকটি পদে আবেদন চলছে। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া বিজ্ঞপ্তিগুলোর মধ্যে অরেঞ্জ কাউন্টিতে ফায়ার সেফটি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, চেনাঙ্গো কাউন্টিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স এবং অ্যালবানিতে স্বাস্থ্যসেবার আর্থিক কার্যক্রমসংক্রান্ত পদ রয়েছে।
নিউইয়র্কে সরকারি চাকরি, আবেদন অক্টোবর পর্যন্ত
আরও পড়ুন
ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্প, ফের অভিযানের পরিকল্পনা 
এবার ডিজেল রপ্তানি বন্ধে যে সিদ্ধান্ত জানালেন ট্রাম্প
বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে আপাতত স্বস্তি যুক্তরাষ্ট্র-চীনের
মার্কিন গ্রিড সংস্কারে ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিল জ্বালানি বিভাগ