ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি: কড়া নিরাপত্তার মধ্যে যেভাবে ঘটে পুরো ঘটনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে গুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় আড়াই হাজার উপস্থিত অতিথির সামনে মঞ্চে বসা ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প। গুলি চলার সঙ্গে সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে দ্রুত সেখান থেকে বের করে নিয়ে যান।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে এক বন্দুকধারী শটগান নিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করে।
এক প্রতিবেদনে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

এফবিআই সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শটগানধারী এক ব্যক্তি সিক্রেট সার্ভিসের এক এজেন্টকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

গুলিটি এজেন্টের শরীরে থাকা প্রোটেক্টিভ গিয়ারে (সুরক্ষামূলক পোশাক) লাগায় তিনি বড় ধরনের আঘাত থেকে বেঁচে যান।

আরও পড়ুন

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিএনএনের সাংবাদিক উলফ ব্লিটজার জানান, হামলাকারীর কাছে একটি ‘বড় ধরনের অস্ত্র’ ছিল এবং তিনি প্রায় ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন।

তিনি বলেন, আমি হামলাকারীর কয়েক ফুট দূরে ছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পাই। পরে পুলিশ এসে আমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।
গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নৈশভোজে উপস্থিত প্রায় ২ হাজার ৬০০ অতিথি টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন। সিক্রেট সার্ভিসের সশস্ত্র কমান্ডোরা দ্রুত ডাইনিং রুমে ঢুকে পড়েন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি প্রথমে ডায়াসের নিচে মাথা নিচু করে অবস্থান নেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই এজেন্টরা তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান।

ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি লেখেন, ওয়াশিংটন ডিসিতে এক অদ্ভুত সন্ধ্যা কাটল।

সিক্রেট সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চমৎকার কাজ করেছে।

গুলির ঘটনায় কোল টমাস অ্যালেন নামের এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ৩১ বছর বয়সী কোল ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্স এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় শিক্ষক বলে জানিয়েছে ডেইলি মেইল।

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনের কাছে একটি শটগান, একটি হ্যান্ডগান এবং একাধিক ছুরি পাওয়া গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাস্থল হিলটন হোটেলের একজন অতিথি ছিলেন কোল টমাস। ট্রাম্পকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাতে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের তল্লাশি চৌকি ভেঙে ভেতরে ঢোকার পরপরই তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনার পর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, তাকে মেঝেতে উপুড় করে ফেলে রাখা হয়েছে এবং কর্মকর্তারা তাকে নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে ‘অসুস্থ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার সঙ্গে কেউ যুক্ত ছিল না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনের ফেডারেল প্রসিকিউটর জিনিন পিরো জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের দুটি এবং ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে হামলার একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরো অভিযোগ আনা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবদুল এল-সায়েদ। দেশটির মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই প্রার্থী। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম ব্যক্তি নির্বাচিত সিনেটর হতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাসে তার বিজয় নিশ্চিত করা হয়। মিশিগানের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয় পেয়েছেন তিনি। মিশরীয় পরিবারে জন্ম, বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে আবদুল এল-সায়েদের পূর্ণ নাম আবদুলরহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদ। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসে তার জন্ম। তার বাবা-মা দুজনই মিশরীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী। তার বাবা মোহাম্মদ এল-সায়েদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। উচ্চশিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ডেট্রয়েটের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। তার মা ফাতেন এল-কোমি পেশায় একজন নার্স প্র্যাকটিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে কর্মরত। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে ভর্তি হন। সেখানে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি মর্যাদাপূর্ণ রোডস স্কলারশিপ লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রিও অর্জন করেন। জনস্বাস্থ্য থেকে রাজনীতির মাঠে পেশাগত জীবনে আবদুল এল-সায়েদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মহামারিবিদ ও প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শহরটির আর্থিক সংকটের পর স্বাস্থ্য বিভাগ পুনর্গঠন এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করে তিনি পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবসেবা ও ভেটেরানস সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। তবে রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা অব্যাহত থাকে। ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন তিনি। এরপর সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটের আসনটি নিজের করে নেন। নীতিগত অবস্থান ও ঐতিহাসিক বিজয় নির্বাচনী প্রচারে আবদুল এল-সায়েদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ ও প্রভাব সীমিত করা। তিনি সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা বা ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে তার বক্তব্য তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে। তার এই বিজয় শুধু মিশিগানের রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর মুসলিম ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নির্বাচিত প্রতিনিধি যুক্ত হতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদের দায়িত্ব গ্রহণের কথা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য নির্বাচিত হওয়া আবদুল এল-সায়েদের এই অর্জন অভিবাসী পরিবারগুলোর নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আরটিভি/টিআর
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
ওহাইওর পরবর্তী গভর্নর হওয়ার লড়াইয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. অ্যামি অ্যাক্টন। তিনি বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস।
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর ডেব হাল্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ডেব হাল্যান্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর ডেব হাল্যান্ড
পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হলেন ইলহান ওমর
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ইলহান ওমর।
পঞ্চমবারের মতো কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হলেন ইলহান ওমর
আরও পড়ুন
‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’, তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে ইরানের হুমকি
নির্বাচনে ভরাডুবির পেছনে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করলেন ট্রাম্প
কংগ্রেসে হারের পর এবার ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প
‘আমি থাকলে হারত না রিপাবলিকানরা’, নির্বাচনে হারার পর ট্রাম্প