ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

একসঙ্গে জন্ম নেওয়া ৪ শিশুসহ ৭ সন্তান নিয়ে বিপাকে অস্ট্রেলিয়ান দম্পতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় এক নারী একসঙ্গে চারটি সুস্থ কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম খুবই বিরল ঘটনা।

এই জন্মের পর এক রাতেই পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনে।

এর আগে এই দম্পতির তিনটি সন্তান ছিল। নতুন চার কন্যাশিশুর জন্মের পর এখন তাদের মোট সাত সন্তান। পরিবারে নতুন সদস্যদের আগমনে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হলেও একই সঙ্গে বেড়েছে দৈনন্দিন নানা চ্যালেঞ্জ।

সবচেয়ে বড় সমস্যার একটি হলো যাতায়াত। পরিবারের আটজন সদস্যকে একসঙ্গে বহন করার মতো বড় গাড়ি তাদের নেই। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে পরিবারের যে গাড়িটি রয়েছে, তাতে সাত সন্তান ও বাবা-মাকে একসঙ্গে নিরাপদে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে হাসপাতালে যাওয়া, শিশুদের স্কুলে আনা-নেওয়া কিংবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে কোথাও বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পরিবারের মা একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন। তার লক্ষ্য, একটি ১০ আসনের ভ্যান কেনা। এমন একটি গাড়ি থাকলে পুরো পরিবার একসঙ্গে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে এবং দৈনন্দিন কাজও অনেক সহজ হবে। শিশুদের বাবা-মা বলেছেন, একসঙ্গে চার কন্যাশিশুর জন্ম তাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের এবং স্মরণীয় ঘটনার একটি। তবে এত বড় পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে এখন অনেক বেশি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, নবজাতকদের জন্য প্রতিদিন বিপুলপরিমাণ ডায়াপার, শিশুখাদ্য, পোশাক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হচ্ছে। এসব নিয়মিত খরচের পাশাপাশি পরিবারের জন্য উপযুক্ত একটি বড় গাড়ির ব্যবস্থা করাও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনগুলোর একটি।

বিবিসি জানিয়েছে, এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা। চার নবজাতক ও অন্য তিন শিশুর দেখাশোনায় তারা বিভিন্নভাবে সহায়তা করছেন। বিশেষ করে সন্তানদের জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে পরিবারের ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এই বিরল জন্মের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বাবা-মাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তাদের সাহস ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন।

আরও পড়ুন

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পরিবারটির প্রধান লক্ষ্য হলো একটি উপযুক্ত ১০ আসনের গাড়ি কেনা এবং সাত সন্তানের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করা। নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারা সবার সহযোগিতা ও সমর্থন পাওয়ার আশা করছেন।

আরটিভি /এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজন পার্কে নতুন আল ফুরকান মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!
নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য স্টেটে যাওয়ার টিকিট খুঁজতে শুধু একটি বিমানবন্দর ও নির্দিষ্ট তারিখে আটকে থাকলে কম দামের ফ্লাইট চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, রয়েছে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে।
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, রয়েছে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
নিউইয়র্কে প্রচণ্ড গরম কেবল অস্বস্তির বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও। সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গরমের কারণে বা গরমে বিদ্যমান অসুস্থতা বেড়ে গিয়ে বছরে আনুমানিক ৫০০ নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়।
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াইয়ে ৪ বছরের শিশু
যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের চার বছর বয়সী শিশু এলেনা। সাধারণ শিশুর মতোই খেলাধুলা আর পরিবারের সঙ্গে পাহাড়ের ট্রেইলে হেঁটে আনন্দময় শৈশব কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎই নিচের মাড়ির বাঁ পাশে দাঁতব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। মা সারাহ লাপোস্তাতো শুরুতে ভেবেছিলেন হয়তো নতুন দাঁত উঠছে কিংবা খাবারের কণা আটকে সাধারণ সংক্রমণ হয়েছে। তাৎক্ষণিক দন্তচিকিৎসক ও ওরাল সার্জনের শরণাপন্ন হলে এক্স-রে রিপোর্টেও তেমন আশঙ্কাজনক কিছু মেলেনি; মাড়িতে খাবারের টুকরো আটকে থাকা বা সাধারণ সিস্ট ধারণা করে ছয় সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যথা কমার বদলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ফুটবল খেলে বেড়ানো দুরন্ত শিশুটি একপর্যায়ে তীব্র ক্লান্তিতে বিছানা থেকেই উঠতে পারছিল না। এর মধ্যে চোখের চারপাশে অচেনা কালশিটে দাগ দেখা দিলে মা সারাহ দেরি না করে এলেনাকে জরুরি ভিত্তিতে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। রক্ত পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতার লক্ষণ ধরা পড়ার পর দ্রুত পাঠানো হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য স্তব্ধ করে দেয় বাবা-মাকে—এলেনার পেটে সফটবলের সমান আকারের একটি টিউমার ধরা পড়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, সে নিউরোব্লাস্টোমা নামের একটি বিরল ও মারাত্মক ক্যানসারে আক্রান্ত। রোগ শনাক্তের সময় এলেনার শরীরে ক্যানসার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসা পরিভাষায় যার তীব্রতা মাপার 'কুরি স্কোর' ছিল ৩০-এর মধ্যে ২৫। পরবর্তী এক বছর এই ছোট্ট শিশুর ওপর দিয়ে চলে চিকিৎসার এক কঠিন ঝড়। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার, পাঁচ দফা কেমোথেরাপি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আওতায় চার দফা ইমিউনোথেরাপি, পেট থেকে টিউমার অপসারণ, দুটি স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং ১২ দিনের রেডিয়েশন থেরাপি সহ্য করতে হয় তাকে। চিকিৎসার চরম সংকটময় সময়ে দুই দফা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) লড়তে হয়েছে তাকে। চিকিৎসার ব্যয়ভার ও স্বাস্থ্যবীমা সচল রাখতে মা-বাবা উভয়েই পুরো সময় চাকরি ধরে রাখেন। হাসপাতালের লম্বা সময় আর ঘরের বড় মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তারা। দীর্ঘ ও অবিরাম চিকিৎসার সুফল মিলতে শুরু করেছে এলেনার শরীরে; রেডিয়েশন শেষ হওয়ার পর তার কুরি স্কোর ২৫ থেকে নাটকীয়ভাবে নেমে এসেছে মাত্র ১-এ। বর্তমানে সে চিকিৎসার তৃতীয় ধাপে ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছে এবং সামনের এমআইবিজি স্ক্যানে এই স্কোর শূন্যে নেমে আসবে—এমন আশাতেই বুক বাঁধছেন চিকিৎসকরা। আরটিভি/ এসকেডি
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াইয়ে ৪ বছরের শিশু
আরও পড়ুন
হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকের পাশে লাশ মাটিচাপা দিয়ে সবজির চারা লাগানোর অভিযোগ
অস্ট্রেলিয়ায় ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান
আবারও সচল ‘বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনা’ সেই খনি
অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক জয়কে আর্জেন্টিনা ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করলেন কোচ সিমন্স