আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৩২ পিএম


আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি
ভারতের নিট পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল নয়াদিল্লি। ছবি: এএফপি

পরীক্ষাসংক্রান্ত কেলেঙ্কারির পর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ভারতের পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় এমপিদের সমর্থন পাওয়ার পর আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। 

রাজধানী নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে বুধবার (২২ জুলাই) অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে হাজার হাজার সমর্থকের বিশাল জমায়েত দেখা গেছে। 

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার আর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। খবর এএফপির। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-ভিত্তিক আন্দোলন সিজেপির নেতৃত্বে ভারতজুড়ে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তার সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা রাজধানী ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা যন্তর মন্তর ছাড়ব না। যে দেশে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছিল, সরকারের সমালোচনা করাকে দেশদ্রোহিতা বলা হতো, আমরা এখন সেই দেশকে জাগিয়ে তুলেছি।"

আরও পড়ুন

বেশিরভাগ তরুণ ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন মঙ্গলবার দেশটির বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার পর মোদি সরকারের জন্য বড় সংকট তৈরি করে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সোমবার (২০ জুলাই) আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো পুলিশি দমনপীড়নের জন্য সরকারের ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাহুল গান্ধীকে প্রতিবাদস্থল থেকে তুলে নিয়ে দুই ঘণ্টা আটকে রাখে পুলিশ। বুধবার কালো পোশাক পরে পার্লামেন্টে উপস্থিত হয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন তিনি। 

অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, তরুণেরা যখন রাজপথে, তখন প্রধানমন্ত্রী নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত মে মাসে, যখন দেশটির প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত আদালতে শুনানির সময় তরুণদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা এবং ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ককরোচ জনতা পার্টির, যা এখন বেকারত্ব ও সরকারি অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। সোমবার বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারগ্যাস প্রয়োগ করে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনলাইন মূল্যায়নে অনিয়মের কারণে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হলে এই অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতির উত্তাপ বুঝে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সংস্কার এবং আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে দিল্লি ছাড়িয়ে এখন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে চাপের মুখে থাকা সরকার কীভাবে এই অচলাবস্থা নিরসন করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission