ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব, ভয়াবহ সংকটের শঙ্কা ডব্লিউএইচওর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের বর্তমান প্রাদুর্ভাব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সংকটে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির মতে, এবারের পরিস্থিতি আগের অনেক প্রাদুর্ভাবের তুলনায় বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্বে ইবোলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায়। ওই সময়ে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এরপর ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ডিআরসির পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ইবোলায় প্রাণ হারান ২ হাজার ২৮৭ জন।

ডব্লিউএইচওর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত ডিআরসিতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ এবং মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১ হাজার জনের। পাশের দেশ উগান্ডাতেও ২০ জন আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে সর্বশেষ শনাক্ত রোগীও সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ হওয়ার পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, এবার ছড়াচ্ছে বান্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট কার্যকর চিকিৎসা নেই।

আরও পড়ুন

দ্বিতীয়ত, রোগটি কয়েক সপ্তাহ ধরে অশনাক্ত অবস্থায় ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এর পাশাপাশি গত এক বছরে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় রোগ শনাক্ত ও নজরদারি কার্যক্রমও দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্র ইতুরি প্রদেশ, যা উগান্ডা সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। দীর্ঘদিনের সংঘাত, নিরাপত্তা সংকট এবং সরকারি ব্যবস্থার প্রতি স্থানীয় মানুষের আস্থার ঘাটতির কারণে রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইবোলা মোকাবিলায় কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীরাও নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের সংকট, সংক্রমণের ভয়, বেতন বকেয়া থাকা এবং স্থানীয় মানুষের হামলার ঝুঁকির মধ্যেও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অনেক এলাকায় মানুষ এখনো ইবোলার অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান হওয়ায় চিকিৎসা নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

ইতুরির বুনিয়া শহরের কাছে রুয়ামপারা জেনারেল হাসপাতালে সম্প্রতি কয়েক ডজন স্বাস্থ্যকর্মী বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতিতে যান। ওই হাসপাতালে বড় একটি ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। এর আগে মে মাসে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা চিকিৎসাকেন্দ্রের একটি অংশে আগুন ধরিয়ে দেন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত কর্মীরা চরম ঝুঁকির মধ্যেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছেন।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ছেলের আসক্তি ছাড়াতে গিয়ে নিজেই জনপ্রিয় গেমার, তারকা খ্যাতি পেলেন বৃদ্ধা মা
ছেলের ভিডিও গেমের আসক্তি কাটাতে গিয়ে নিজেই অনলাইন গেমিং জগতের জনপ্রিয় তারকা হয়ে উঠেছেন ৬০ বছর বয়সী এক চীনা নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আন্টি জুয়ান’ নামে পরিচিত ঝোং জুয়ানজুয়ান এখন প্রতিদিন হাজারো তরুণের সামনে গেম খেলেন। দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের মেইঝৌ শহরের শহরতলিতে বসবাস করেন ঝোং। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার বছর আগে ভিডিও গেম খেলা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার গেমিং লাইভ-স্ট্রিম দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শক যুক্ত হন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা ঝোং জীবনের বিভিন্ন সময়ে সেলস ও শিশু পরিচর্যাসহ বিভিন্ন খণ্ডকালীন কাজ করেছেন। প্রায় এক দশক আগে কর্মজীবন থেকে অবসর নেন তিনি। তবে গেমিংয়ের সঙ্গে ঝোংয়ের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল অনেক আগেই ছেলের আসক্তিকে ঘিরে। প্রায় দুই দশক আগে মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় তাঁর ছেলে সোদে ভিডিও গেমে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন। এতে তার পড়াশোনায় ব্যাপক অবনতি ঘটে। ছেলেকে গেম থেকে দূরে রাখতে সে সময় প্রায়ই স্থানীয় ইন্টারনেট ক্যাফেতে ছুটে যেতেন ঝোং। কখনো কখনো সেখান থেকে ছেলেকে ধরে বাড়িতেও নিয়ে আসতেন। ২০২০ সালে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর সোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়িতে বসে গেম খেলতে শুরু করেন। গেমের প্রতি তরুণদের এমন আকর্ষণের কারণ বুঝতে এবার নিজেই গেমিংয়ের জগতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন ঝোং। মায়ের এই সিদ্ধান্তে শুরুতে অবাক হয়েছিলেন সোদে। তবে পরে ধৈর্য ধরে মাকে গেম খেলার নিয়মকানুন শেখাতে শুরু করেন তিনি। ৬০ বছর বয়সে এসে গেম শেখা অবশ্য সহজ ছিল না ঝোংয়ের জন্য। বয়সের কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং হাত-চোখের প্রতিক্রিয়ার গতি ধীর হওয়ায় শুরুতে নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। গেমের চরিত্রকে সোজা পথে হাঁটানোও তাঁর জন্য কঠিন ছিল। দেয়ালে ধাক্কা খাওয়া কিংবা ডিজিটাল সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার মতো সাধারণ বিষয়ও আয়ত্ত করতে সময় লেগেছে। তবে কোনো বাধাই তাকে থামাতে পারেনি। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গেমিংয়ে দক্ষ হয়ে ওঠেন ঝোং। ২০২২ সাল থেকে নিজের গেম খেলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ-স্ট্রিম করা শুরু করেন তিনি। সাধারণ মানের কম্পিউটার ও গেমিং সরঞ্জাম ব্যবহার করেও তার দক্ষতা নজর কাড়ে দর্শকদের। এ পর্যন্ত অনলাইন গেমে ৮ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়েছেন তিনি। কৌশলভিত্তিক শুটিং গেমই তার সবচেয়ে পছন্দের। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক গেমিং অঙ্গনেও পরিচিতি পান ঝোং। সে সময় জনপ্রিয় শুটিং গেম ‘কাউন্টার-স্ট্রাইক: গ্লোবাল অফেন্সিভ’ (CS)-এর একটি বিশেষ অনলাইন প্রদর্শনী ম্যাচে খেলার আমন্ত্রণ পান তিনি। ছেলের গেমিং আসক্তি ছাড়ানোর চেষ্টা থেকেই যে যাত্রার শুরু, তা আজ ঝোংকে পরিণত করেছে জনপ্রিয় গেমার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তারকায়। হাজারো তরুণ দর্শকের কাছে ‘আন্টি জুয়ান’ এখন বয়সকে হার মানানো অধ্যবসায়, ধৈর্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। আরটিভি/এসকে
ছেলের আসক্তি ছাড়াতে গিয়ে নিজেই জনপ্রিয় গেমার, তারকা খ্যাতি পেলেন বৃদ্ধা মা
রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
রসায়নের অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে অ-রৈখিক প্রভাব এবং স্ব-অনুঘটন আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের অঁরি বি কাগান এবং জাপানের কেনসো সোয়াই।  সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বুধবার (৭ অক্টোবর) এই বছরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। তাদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার আধুনিক ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি এবং মানবদেহের জন্য কার্যকরী রাসায়নিক কণা তৈরিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বিজয়ীরা সনদ ও মেডেলের পাশাপাশি পুরস্কারের অর্থ পাবেন, যা তাদের মধ্যে সমবণ্টন করা হবে। ১৯০১ সালে প্রবর্তনের পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রসায়নে নোবেল পুরস্কার মোট ১১৮ বার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়সহ কিছু বছর এই বিভাগে পুরস্কার দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের নতুন ২ জন বিজ্ঞানীসহ এ পর্যন্ত রসায়নে মোট নোবেল বিজয়ীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০২ জনে। বিজ্ঞানের ইতিহাসে মাত্র ২ জন বিজ্ঞানী রসায়নে দুইবার করে নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন, ফ্রেডরিক সেঙ্গার (১৯৫৮ ও ১৯৮০) এবং কে. ব্যারি শার্পলেস (২০০১ ও ২০২২)। এছাড়া কিংবদন্তি বিজ্ঞানী মেরি ক্যুরি দুই ভিন্ন বিষয়ে নোবেল পেয়েছিলেন, ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ১৯১১ সালে রসায়নে। নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানী ইয়াকোবুস হেনরিকুস ফান্ট হফ ১৯০১ সালে রসায়নে প্রথম নোবেল পান। রাসায়নিক গতিবিদ্যা এবং দ্রবণের অসমোটিক চাপ আবিষ্কারের মাধ্যমে রসায়নের ভিত্তি গড়ার জন্য তিনি এই পুরস্কার পান। ২০২৫ সালে জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, যুক্তরাজ্য/অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড রবসন এবং জর্ডান/যুক্তরাষ্ট্রের ওমর এম. ইয়াগি। মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক বা ধাতব-জৈব কাঠামো তৈরির যুগান্তকারী প্রযুক্তির জন্য যৌথভাবে তারা এই পুরস্কার পান। রসায়নে সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল পাওয়ার রেকর্ডটি ফরাসি বিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক জোলিও-কুরির। ১৯৩৫ সালে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি তার স্ত্রী ইরেন জোলিও-ক্যুরির সাথে যৌথভাবে নোবেল পান। কেবল রসায়নেই নয়, নোবেলের পুরো ইতিহাসেই সবচেয়ে বেশি বয়সে পুরস্কার পাওয়ার অনন্য রেকর্ড বিজ্ঞানী জন বি. গুডএনাফের। ২০১৯ সালে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরির নেপথ্য অবদানের জন্য যখন তিনি নোবেল পান, তখন তার বয়স ছিল ৯৭ বছর। নারী বিজয়ী: রসায়নে এ পর্যন্ত মোট ৮ জন নারী নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এই তালিকায় প্রথম নামটি বিজ্ঞানী মেরি কুরির (১৯১১)। রীতি অনুযায়ী, আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোমে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৬ সালের রসায়নের এই দুই নতুন নোবেলজয়ীর হাতে মেডেল, ডিপ্লোমা ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৮১ সামরিক বিমান-ড্রোন-হেলিকপ্টার হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরুর পর থেকে গত আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সমরাস্ত্রের মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার।
ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৮১ সামরিক বিমান-ড্রোন-হেলিকপ্টার হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
স্বামীকে হত্যা করে স্ত্রী বললেন হৃদরোগে মৃত্যু, বেরিয়ে আসল চাঞ্চল্যকর তথ্য
ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাট জেলায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিককে ডেকে এনে স্বামীকে পিটিয়ে ও ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর ‘হৃদরোগ’ বলে চালিয়ে দিয়েছিলেন স্ত্রী। তবে মৃতের নিজের মুঠোফোনে লুকিয়ে থাকা একটি চ্যাটের মাধ্যমে এই ঘটনার সত্যতা সামনে এসেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে মিরাটের লোহিয়া নগর এলাকায়। নিহত যুবকের নাম তালিব (৩০)। চার বছর আগে পেশায় বিউটিশিয়ান ইলমার (২৭) সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ঘটনার দিন ইলমা তার বড় ভাই আকরামকে জানান, কাজ থেকে ঘরে ফিরে তালিব হঠাৎ প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিছানায় ঢলে পড়েন তিনি এবং সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে।  আকস্মিক হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে ভেবে কোনো ধরনের সন্দেহ ছাড়াই শোকাহত পরিবার ধর্মীয় রীতি মেনে তালিবের মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে। তবে দাফনের কিছুদিন পর থেকেই পরিবারের লোকজনের মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে।  গত ১ অক্টোবর তালিবের চাচাতো ভাই রইস তথ্য খোঁজার উদ্দেশ্যে ইলমার বাড়িতে যান। তালিবের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি অনেক খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছিল না; ইলমা কৌশলে সেটি কাপড়ের স্তূপের নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন। তবে তল্লাশি চালিয়ে রইস ফোনটি উদ্ধার করেন। ফোনটির মেসেজ ঘাঁটতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। সেখানে আমান নামের এক যুবকের সঙ্গে তালিবের তীব্র বাদানুবাদের চ্যাট দেখতে পান রইস, যেখানে তালিব স্পষ্টভাবে আমানকে তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ ও কথা বলতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন।  এই প্রমাণের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যরা ইলমাকে চাপ দিয়ে জেরা শুরু করতেই ভেঙে পড়েন তিনি এবং স্বামীকে ঠান্ডা মাথায় হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। স্বীকারোক্তিতে ইলমা দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জেরে তালিব প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এমনই এক বিবাদের পর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পরকীয়া প্রেমিক আমানকে ডেকে পাঠান। আমান তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে পৌঁছান।  এরপর তিনজন মিলে তালিবকে বেদম মারধর করেন। একপর্যায়ে আমান গলার ওড়না (চুন্নি) পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তালিবের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিলে তালিবের মৃত্যুর পর তাকে বিয়ে করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমান। কোতোয়ালি অঞ্চলের সার্কেল অফিসার (সিও) সংগ্রাম সিং জানান, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার কবর থেকে তালিবের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।  অভিযুক্ত স্ত্রী ইলমাকে বর্তমানে পুলিশের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত প্রেমিক আমানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আরটিভি/এসআরর
স্বামীকে হত্যা করে স্ত্রী বললেন হৃদরোগে মৃত্যু, বেরিয়ে আসল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর
সৌদি আরবে অবস্থানরত অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রক্রিয়া আরও সহজ করল দেশটির সরকার। নতুন নিয়মে স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সঙ্গে নেয়ার সুযোগ থাকছে। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ বলছে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করল দেশটির সরকার। নতুন এই নিয়মে অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের কাজের ভিসার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের সৌদি আরবে আনার সুযোগ দিয়েছে দেশটির সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য সৌদি আরবে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ করা। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য বিদেশি কর্মীরা তাদের স্ত্রী বা স্বামী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সৌদি আরবে নিয়ে যেতে পারবেন। সংবাদমাধ্যম বলছে, পরিবারের যোগ্য সদস্যদের প্রবেশ ভিসা বিদেশি কর্মীর ওয়ার্ক ভিসার প্রক্রিয়া চলার সময়ই দেয়া যাবে। তবে এ জন্য আবেদনের সব শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ পরিবারকে সৌদি আরবে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নিজের ওয়ার্ক ভিসা পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী তাদের বসবাসের অনুমতিপত্র বা রেসিডেন্স পারমিট দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। আরটিভি/এসআর
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর
আরও পড়ুন
কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব, মৃত্যু বেড়ে ২৬৪২
ভাইরাসের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা
কঙ্গোতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইবোলা, আক্রান্ত ৩ হাজার ছাড়াল
ভারতে প্রবেশে মানতে হবে নতুন নির্দেশনা