হরমুজ নিয়ে ইরান-ওমান একমত, ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:৩৫ এএম


হরমুজ নিয়ে ইরান-ওমান একমত, ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
হরমুজ প্রণালী । ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের একটি নির্দিষ্ট পথ নির্ধারণে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান ও ওমান। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই বলে দাবি করেছে তেহরান। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও ইউরো নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রস্তাবিত জাহাজ চলাচলের পথের ভৌগোলিক অবস্থান চূড়ান্ত করে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, এ নিয়ে দুই দেশের একটি যৌথ বিবৃতি তৈরির কাজ চলছে। এতে প্রযুক্তিগত, আইনি, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তবে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী আবারও উন্মুক্ত করা হবে না।

আরও পড়ুন

এই সমঝোতার সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো, হরমুজ প্রণালীর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে জাহাজ থেকে ফি আদায় করতে চায় তেহরান। তবে জাতিসংঘের সমুদ্রবিষয়ক কনভেনশনের নিয়মের সঙ্গে এ দাবি সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দাবি, এই জলপথে সব দেশের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

ইসমাইল বাঘেই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘তৃতীয় পক্ষ’ উল্লেখ করে বলেন, কোনো বাধা না থাকলে ইরান ও ওমান যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবে। তবে মার্কিন নৌ অবরোধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে অন্যান্য পদক্ষেপ বহাল থাকলে শুধু এই সমঝোতা দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালীতে একটি মধ্য করিডোর গড়ে তোলা হবে, যা যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান ও ওমান। তেহরানের দাবি, এই আলোচনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করছে।

অন্যদিকে, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে এবং তা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, খুব দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে, অন্যথায় কঠোর হামলার মুখোমুখি হতে হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন পথ বন্ধ করে দেয়। বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়।

এ বিষয়ে ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সিটিনোভিচ বলেন, ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি এড়াতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে এর বাইরে সহজ বা বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্প ছিল না।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission