ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

হঠাৎ পুতিনকে নিয়ে আতঙ্কে ইউরোপ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

গত চার বছর ধরে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে হঠাৎ জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে রাশিয়ায়। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এবার আরও বড় পরিসরে যুদ্ধ শুরুর জন্য নড়েচড়ে বসেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নতুন করে সেনা নিয়োগের পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত বিভিন্ন দেশে ‘হাইব্রিড’ হামলা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য টেলিগ্রাফ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর ‘গোপন সেনা সমাবেশ’ বা স্টেলথ মোবিলাইজেশনের প্রস্তুতি চলছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এর আগে দাবি করেছিলেন, সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের পর রাশিয়া আরও তিন লাখ সেনা নিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নতুন গণনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা না করলেও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন বলছে, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক সেনা নিয়োগের পরিবর্তে ধাপে ধাপে নিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে মস্কো।

শুধু তাই নয়; নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশিয়া ইউক্রেনের পাশাপাশি এবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ আরও বাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন ইউরোপীয় নেতারা। হাইব্রিড যুদ্ধের মধ্যে সাইবার হামলা, ড্রোন হামলা, নাশকতা, তথ্যযুদ্ধ ও অন্যান্য গোপন তৎপরতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড হুমকি বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে সম্ভাব্য নাশকতা থেকে রক্ষার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ম্যাক্রোঁর ভাষ্যমতে, ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন কমাতে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে রাশিয়া।

রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক করেছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ‘হাইব্রিড হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে রাশিয়ার। এর মধ্যে পোল্যান্ডকেও লক্ষ্যবস্তু বানানো হতে পারে। টাস্কের আরও আশঙ্কা, হামলার পর রাশিয়া সেগুলোকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টাও করতে পারে।

রাশিয়ার সাম্প্রতিক তৎপরতায় আতঙ্কে আছে যুক্তরাজ্যও। ইউক্রেনকে দূরপাল্লার হামলায় সহায়তা করা হলে ইউক্রেনে থাকা ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনাগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে মস্কো।

ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি মস্কোর ব্রিটিশ দূতাবাসের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে তলব করে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য এই পদক্ষেপকে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।

এর আগে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ১০ কোটি পাউন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাজ্য।

এদিকে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই রাশিয়ার নতুন সেনা নিয়োগের প্রস্তুতির কথা বলে আসছে। গত আগস্টে জেলেনস্কি বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর অতিরিক্ত তিন লাখ সেনা নিয়োগ করতে পারে রাশিয়া।

ইউক্রেনের গোয়েন্দা ও বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা পরে দাবি করে, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে মোট ছয় লাখ সেনা নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে মস্কোর।

পশ্চিমা কর্মকর্তারা অবশ্য মনে করছেন, তিন লাখ নতুন সেনাকে দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মতো সামরিক সরঞ্জাম রাশিয়ার হাতে আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, প্রকাশ্য ও বড় আকারের গণনিয়োগের বদলে ‘গোপন সেনা নিয়োগ’ বা স্টেলথ মোবিলাইজেশনের মাধ্যমে জনবল বাড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। এর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এরই মধ্যে ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর সম্ভাবনা নিয়েও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইউরোপ থেকে ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে—এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে; যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ খবর অস্বীকার করেছে।

এ অবস্থায় মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার।

ইউরোপীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন ভবিষ্যতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরও প্রকাশ্য পদক্ষেপের দিকে যেতে পারে। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় অর্থবহ শান্তি আলোচনার বদলে সামরিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারেন পুতিন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সুইজারল্যান্ডের রাইন নদী থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার
সুইজারল্যান্ডের আর্গাউ ক্যান্টনের স্টাইন এলাকায় রাইন নদীর তীর থেকে এক ব্যক্তির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সি এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিহতের সঙ্গে একই কক্ষে বসবাস করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি বুরুন্ডির নাগরিক। গত ২৪ অক্টোবর তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরিচিতজনেরা পুলিশকে অবহিত করেন। পরদিন ২৫ অক্টোবর রাইন নদীর তীর থেকে একজনের লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলটি তাদের বসবাসের আশ্রয়কেন্দ্রের কাছেই অবস্থিত। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেহের বিভিন্ন অংশ কেটে আলাদা করা হয়েছিল। পরে সেগুলো আবর্জনার ব্যাগে ভরে রাইন নদীতে এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। পরে ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউট পরীক্ষার মাধ্যমে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে। এ ঘটনায় তদন্তে নামে আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশ। আশ্রয়কেন্দ্রের কয়েকজন বাসিন্দার আচরণও তদন্তকারীদের সন্দেহের জন্ম দেয়। পরে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আশ্রয়কেন্দ্র ও লাশ উদ্ধারের আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তে পাওয়া আলামতের ভিত্তিতে ৪৩ বছর বয়সি বাংলাদেশি এক নাগরিকের বিরুদ্ধে সন্দেহ জোরালো হয়। তিনি নিহত ব্যক্তির সঙ্গে একই কক্ষে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রাইনফেলডেন-লাউফেনবুর্গ জেলা অ্যাটর্নি কার্যালয় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা, সময়ক্রম ও উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোনো উদ্দেশ্য জড়িত থাকার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। জাতীয়রাজনীতি তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যার কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। তবে এসব সমস্যার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সূত্র: ব্লু নিউজ আরটিভি/এসআর
সুইজারল্যান্ডের রাইন নদী থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার
এবার জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি, পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ
ফ্রান্সের পর এবার শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবায় বাজেট সংকোচন, জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরুদ্ধে জার্মানির বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার তরুণ।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) ‘জেন-জি রেগেল্ট’ সংগঠনের ডাকে বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ প্রায় ৩৪টি শহরে এই কর্মসূচি পালিত হয়।  ইউরোপজুড়ে সম্প্রতি তরুণদের নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় জার্মানিতে এই বিক্ষোভ হলো। তবে জার্মানির আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভের একপর্যায়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং টুপি পরিহিত দাঙ্গাকারীরা কয়েকটি দোকানে লুটপাট চালায়।  ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, শহরের কেন্দ্রস্থলে বেশ কয়েকটি দোকানের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের লক্ষ্য করে মলোটোভ ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাধারণ মানুষকে শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া হামবুর্গ শহরেও কিছু জায়গায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আগুন জ্বালানোর ঘটনা ঘটেছে। আয়োজক সংগঠনের মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিচ বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ বা বলপ্রয়োগের জন্য নয়, বরং শান্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করতে এখানে এসেছি। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নত সহায়তা এবং সামরিক সেবার বিরোধিতাই আমাদের প্রধান দাবি।’ আয়োজকরা ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষের সমাগমের আশা করলেও পুলিশ জানিয়েছে, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে সবমিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেন। এদিকে সম্ভাব্য সহিংসতা ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় বার্লিনের বিলাসবহুল কুরফুর্স্টেনডাম শপিং বুলেভার্ডসহ বিভিন্ন এলাকার অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের জানালা ঢেকে দেয় এবং দোকানপাট আগেভাগে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করে। জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ‘চরমপন্থি’ গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে এই আন্দোলনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ফ্রান্সের বিক্ষোভের চিত্র স্মরণ করে হেস রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পিসেখ জানান, ফ্রান্সের মতো ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি জার্মানিতে মডেল হতে পারে না। বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেঞ্জের সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বোঝা চাপানোর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।  আরটিভি/এসআর
এবার জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল জার্মানি, পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ
আবারও বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে আবারও রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। শনিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় রাজধানী প্যারিস ও লিওনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জোটের দাবি, শনিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু প্যারিসেই ছিলেন দুই লাখ। তবে ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল তিন লাখ ২০ হাজার। রাজধানী প্যারিসে অংশ নেন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। প্যারিসে শুরুতে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ চললেও শনিবার মূল কর্মসূচির সমাপ্তিস্থলের কাছাকাছি গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লার পাত্র ও রাস্তার আসবাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শহরের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। বিক্ষোভের কারণে দেশটির গণপরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। প্যারিসের গণপরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আরএটিপি তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, শনিবার শহরের ৪০টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। আলজাজিরার প্রতিবেদন সুত্রে জানা গেছে, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ ব্যাপক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে ওঠে যে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় তার সংবাদকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়। লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ। অন্যথায় আরও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এ সময় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাকর্মীরা সরিয়ে নেন। অন্যদিকে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের সামনে হাত তুলে নিজেদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান জানান দেন। প্যারিসের উপকণ্ঠে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা কয়েক ডজন ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে ফুটপাতের পাথর তুলে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারেন। নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে অন্তত একটি অগ্নিসংযোগকারী বস্তু নিক্ষেপ করা হয়। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে এ পর্যন্ত অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
আবারও বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স
‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ গঠন নিয়ে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুমুল মারামারি
‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ গঠন নিয়ে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুমুল মারামারি
‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ গঠন নিয়ে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে তুমুল মারামারি
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
আরও পড়ুন
ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ
মহাবিপর্যয়ে ইউরোপ, ৫০ হাজার প্রাণহানি
ইউরোপের তিন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হ‌লো ৩৫ বাংলাদেশিকে
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দেশের ৫০০ মেরিন ক্যাডেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ