নাইজেরিয়ায় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে অপহৃত ৩০৮ জন নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের বিশেষ উপদেষ্টা বায়ো ওনানুগা এক বিবৃতিতে জানান, নাইজার ও কোয়ারা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপহৃত ৩০৮ জনকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ টিনুবু।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬৩ জনকে কোয়ারা রাজ্যের কাইয়ামা এলাকার ওরো সম্প্রদায় থেকে এবং ১৪৫ জনকে নাইজার রাজ্য থেকে অপহরণ করা হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সমন্বিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নাইজার রাজ্যের নিউ বুসা এলাকার কাইঞ্জি লেক জাতীয় উদ্যানের বনাঞ্চল থেকে অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়। দেশটির জাতীয় সন্ত্রাস দমন কেন্দ্রের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও রাষ্ট্রীয় সেবা বিভাগের সদস্যরা অংশ নেন।
সরকারের দাবি, নাইজেরিয়ার যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর এক দিনের অভিযানে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি কোয়ারা রাজ্যের কাইয়ামা এলাকায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে বহু বাসিন্দাকে অপহরণ করা হয়েছিল। তাদের উদ্ধারের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট, নিরাপত্তা বাহিনী এবং অভিযানে অংশ নেওয়া সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছে কোয়ারা রাজ্য সরকার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ নাইজেরিয়ায় বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। অপরাধী চক্র, বোকো হারাম-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং দস্যুরা নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল, সেখানে এই সংকট আরও ভয়াবহ। স্কুল, গির্জা ও মসজিদের মতো স্থানও হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি কাদুনা রাজ্যের একটি গ্রামের তিনটি গির্জা থেকে ১৭৭ জনকে অপহরণ করা হয়। এছাড়া গত মাসে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওয়ো রাজ্য থেকে মে মাসে অপহৃত অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী।
গত জুনে প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ টিনুবু জানান, গত এক বছরে দেশটির সেনাবাহিনী ১৩ হাজারের বেশি সন্ত্রাসীকে নিষ্ক্রিয় করেছে। একই সময়ে সেনাবাহিনী বোকো হারামের হাতে অপহৃত ৩৬০ জনকে উদ্ধার করেছে বলেও জানানো হয়।
এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট বলেন, এই সফল অভিযান দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ক্রমবর্ধমান দক্ষতা ও পারস্পরিক সমন্বয়ের প্রমাণ। একই সঙ্গে নাগরিকদের জীবন রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাহসিকতা ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেন তিনি।
আরটিভি/জেএমএ



