
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশে এক ব্যক্তির পাকস্থলী থেকে ১৮০টি লোহার পেরেক, চুম্বক, কয়েন, স্ক্রু ও নাট-বল্টুসহ এক কেজির বেশি ওজনের বিভিন্ন ধাতব বস্তু অপসারণ করেছেন চিকিৎসকরা।
বারবার বমি ও তীব্র পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ওই ব্যক্তির পাকস্থলীতে এসব ধাতব বস্তু থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। রোববার (৯ আগস্ট) ইউনান ডেইলির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে ইউনান প্রদেশের থার্ড পিপলস হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ইমেজিং স্ক্যানে তার পাকস্থলীর ভেতর বিপুল পরিমাণ ধাতব বস্তু একত্র হয়ে একটি বড় পিণ্ডের মতো অবস্থায় দেখা যায়। এতে পাকস্থলী ফুলে গিয়ে নিচের দিকে ঝুলে পড়েছিল।
পরে শুক্রবার (৭ আগস্ট) প্রায় তিন ঘণ্টার অস্ত্রোপচার করে তার পাকস্থলী থেকে এক কেজির বেশি ওজনের এসব ধাতব বস্তু বের করে আনেন চিকিৎসকরা। উদ্ধার করা জিনিসগুলোর মধ্যে প্রায় ১০ সেন্টিমিটার লম্বা একটি পেরেকও ছিল।
হাসপাতালের হেপাটোবিলিয়ারি ও প্যানক্রিয়াটিক সার্জারি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক লি ওয়েই জানান, এসব ধাতব বস্তু গিলে ফেলার কারণে ওই ব্যক্তির পাকস্থলীতে আলসার ও ক্ষত তৈরি হয়েছিল। তবে ভাগ্যক্রমে কোনো পেরেক পাকস্থলীর দেয়াল ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে যায়নি এবং অন্ত্রেও প্রবেশ করেনি।
চিকিৎসক জানান, পাকস্থলীতে থাকা চুম্বকের কারণে পেরেকগুলো পরস্পরের সঙ্গে আটকে গিয়েছিল। এমনকি কিছু পেরেকও চুম্বকের সংস্পর্শে এসে চৌম্বকীয় শক্তি অর্জন করেছিল।
বর্তমানে ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালটিতে এর আগে পেরেক, তার কিংবা লাইটার গিলে ফেলা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও, একসঙ্গে ১৮০টি পেরেক গিলে ফেলার ঘটনা এবারই প্রথম।
হুবেই ডেইলির নিউজ পোর্টাল জিমু নিউজকে ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এত বিপুলসংখ্যক পেরেক ও অন্যান্য ধাতব বস্তু গিলে ফেলেছিলেন, তা তারা জানেন না।
এদিকে চিকিৎসক লি ওয়েই সতর্ক করে বলেছেন, কোনো বস্তু গিলে ফেললে সেটি এমনিতেই পরিপাকতন্ত্র দিয়ে বের হয়ে যাবে এমনটা ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ধাতব ও ধারালো বস্তু পরিপাকতন্ত্রের সরু অংশে আটকে গিয়ে গুরুতর ক্ষত বা ছিদ্র তৈরি করতে পারে। এর ফলে পেরিটোনাইটিসসহ জীবন-হুমকিস্বরূপ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তাই এ ধরনের কোনো বস্তু গিলে ফেলার ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: গ্লোবাল টাইমস
আরটিভি/এসকে


