
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ১১ বছর ধরে কর্মরত এক সেনা সদস্যের স্ত্রীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করার ঘটনায় বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। পাঁচ বছরের ছেলে মাকে ছাড়া দিন কাটাচ্ছে। স্ত্রীকে দেশে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ওই সেনা সদস্য।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস জারামিলো বলেন, দীর্ঘদিন দেশের সেবা করলেও এখন নিজেকে প্রতারিত মনে হচ্ছে।
তার স্ত্রী মাইসা লোপেস এলিয়াসার ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে ২০১৯ সালে ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে জারামিলোর সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তারা স্ত্রীর অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন।
গত ৮ জুলাই একটি অভিবাসন সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারের জন্য পরিবারটি আট ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে আলাবামার মন্টগোমারিতে যায়। জারামিলোর দাবি, সাক্ষাৎকারের সময় এক কর্মকর্তা তার স্ত্রীকে তার ও তাদের পাঁচ বছরের ছেলে নোয়ার কাছ থেকে আলাদা করে দেন। কিছুক্ষণ পরই জানানো হয়, তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।
জারামিলো বলেন, ছেলের সামনেই স্ত্রীকে আটকের খবর দেওয়া হয়েছিল। সেই মুহূর্তের কথা মনে করতেও তার কষ্ট হয়।
অভিবাসন আইনজীবী মাইকেল গাহাগানের ভাষ্য অনুযায়ী, মাইসা আগে আঙুলের ছাপ দেওয়ার একটি নির্ধারিত সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। জারামিলো বলেন, তারা মনে করেছিলেন, বিয়ের পর নতুন কাগজপত্র জমা দেওয়ায় আগের ওই সাক্ষাতের আর প্রয়োজন নেই।
তবে আইনজীবীর মতে, একটি আবেদন অন্য আবেদন বাতিল করে না। নির্ধারিত সাক্ষাতে অনুপস্থিত থাকার পর তার আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হতে পারে এবং পরে গ্রেপ্তারের প্রশাসনিক পরোয়ানা জারি হতে পারে। একপর্যায়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
বর্তমানে মাইসা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের একটি আটক কেন্দ্রে রয়েছেন। তার স্বামী জানিয়েছেন, সেখানে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় আছেন।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে তাদের পাঁচ বছরের ছেলে। স্কুল শুরু হলেও এবার প্রথমবারের মতো তার মা পাশে নেই। জারামিলো বলেন, ছেলের মানসিক অবস্থাই এখন তার সবচেয়ে বড় চিন্তা।
স্ত্রীকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হলে কী করবেন—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটিই এখন তার সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন। এ ঘটনায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবেও চাপে রয়েছেন এবং সেনাবাহিনীতে নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইতোমধ্যে একজন আইনজীবী নিয়োগ করে মামলাটি পুনরায় খোলার আবেদন করেছেন জারামিলো। আইনজীবীর মতে, মামলাটি পুনরায় খোলার আবেদন গৃহীত হলে বিচারক বিষয়টি পর্যালোচনার সময় স্ত্রীকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া থামতে পারে।
জারামিলো বলেন, তারা আইন ভাঙার চেষ্টা করছেন না, বরং আইন মেনেই সমস্যার সমাধান চান। তিনি আইনপ্রণেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে তার পরিবারকে একত্রিত করতে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
সূত্র: কেএমভিটি ডট কম
আরটিভি/জেএমএ


