
চীনের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেশটিকে ‘বিশ্বের কারখানায়’ রূপান্তর করার রূপকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি মারা গেছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সাবেক এই প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বেইজিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৬ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ঝু রংজি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষুরধার বাকপটু ও দূরদর্শী এই অর্থনৈতিক সংস্কারক ১৯৯০-এর দশকে চীনের রাষ্ট্রীয় শিল্পখাতে আমূল সংস্কার আনেন। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) চীনের ঐতিহাসিক অন্তর্ভূক্তিতে তিনি প্রধান নেতৃত্ব দেন, যা পরবর্তীতে দেশটিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির দ্বিতীয় পরাশক্তিতে পরিণত হতে সাহায্য করে।
সাবেক নেতা দেং শিয়াওপিংয়ের ১৯৭৯ সালের সংস্কার নীতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ঝু রংজি। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির কঠোর রক্ষণশীল অবস্থান ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুংকার দিয়ে তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি ১০০টি কফিন প্রস্তুত রেখেছি; যার ৯৯টি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য আর একটি আমার নিজের জন্য।’
ঝু রংজি ১৯৯৮ সালে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবাসন খাতকে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেন, যা চীনে আবাসন খাতের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটায়। এ ছাড়া ১৯৯০-এর দশকে উপ-প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন অর্থনৈতিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর কর ব্যবস্থা প্রণয়ন ছিল তার অনন্য সাফল্য।
১৯২৮ সালে হুনান প্রদেশে জন্ম নেওয়া ঝু রংজি নিজের সুনির্দিষ্ট মতামতের জন্য কর্মজীবনের শুরুতে রাজনৈতিক রোষানলে পড়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তার দক্ষতা ও দূরদর্শিতার কারণে তিনি পার্টি ও সরকারের শীর্ষ পদে আসীন হন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অবসর নেওয়ার পর থেকে এই দূরদর্শী নেতা একেবারেই জনসম্মুখের আড়ালে ছিলেন।
আরটিভি/এআর


