
নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে জানা জরুরি। বিশেষ করে বাসায় হঠাৎ ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইসিইর এজেন্ট এলে আতঙ্কিত না হয়ে কী করতে হবে, তা আগে থেকেই জানা থাকলে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্স এমওআইএর ‘নো ইয়োর রাইটস’ নির্দেশনায়ও অভিবাসীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১. ওয়ারেন্ট না দেখে দরজা খুলবেন না
আইসিই এজেন্ট দরজায় এলেই তাকে বাসায় ঢুকতে দিতে হবে এমন নয়। সাধারণভাবে কারও সম্মতি ছাড়া বাসায় প্রবেশের জন্য বিচারকের স্বাক্ষর করা বৈধ জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট প্রয়োজন।
আইসিই বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট এবং আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর করা জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট এক নয়।
দরজা না খুলেই এজেন্টকে ওয়ারেন্ট দেখাতে বলা যায়। দরজার নিচ দিয়ে কাগজটি দিতে বা জানালার মাধ্যমে দেখাতেও বলা যেতে পারে। ওয়ারেন্টে বিচারকের স্বাক্ষর আছে কি না, ঠিকানা সঠিক কি না এবং যে জায়গায় প্রবেশ করতে চাওয়া হচ্ছে সেটি ওয়ারেন্টের আওতায় আছে কি না এসব যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বৈধ জুডিশিয়াল ওয়ারেন্ট থাকলে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া উচিত নয়।
২. প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ থাকার অধিকার আছে
আইসিই এজেন্ট আপনার জন্মস্থান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পদ্ধতি কিংবা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারেন। এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ থাকার অধিকার একজন ব্যক্তির রয়েছে।
তবে কখনোই মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা ভুয়া কাগজপত্র দেখানো উচিত নয়।
৩. না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর নয়
আইসিইর হেফাজতে নেওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের নথিতে স্বাক্ষর করতে বলা হতে পারে। এসব নথির আইনি প্রভাব অনেক সময় সাধারণ মানুষের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা কঠিন।
তাই কোনো কাগজের অর্থ বা আইনি প্রভাব পরিষ্কারভাবে না বুঝলে আইনজীবীর পরামর্শ ছাড়া তাতে স্বাক্ষর না করাই নিরাপদ।
৪. আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে
কেউ আটক হলে দ্রুত একজন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইমিগ্রেশন কোর্টের কার্যক্রম ক্রিমিনাল কোর্টের মতো নয়। সরকার সাধারণত নিজের খরচে আটক ব্যক্তির জন্য ইমিগ্রেশন আইনজীবী নিয়োগ করে দেয় না।
এ কারণে আগে থেকেই বিশ্বস্ত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি বা লিগ্যাল সার্ভিস সংস্থার যোগাযোগের তথ্য পরিবারের সদস্যদের কাছে রাখা জরুরি।
নিউইয়র্ক সিটির এমওআইএ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে নিউইয়র্কবাসীদের জন্য বিনামূল্যে ও গোপনীয় ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সহায়তার ব্যবস্থা রেখেছে। আইসিই বাসায় এলে বা পরিবারের কেউ আটক হলে এমওআইএর ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইন ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। এছাড়া ৩১১ নম্বরে ফোন করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বলেও সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়।
৫. শান্ত থাকুন, শারীরিকভাবে বাধা দেবেন না
আইসিই এজেন্টের উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পালানোর চেষ্টা, ধাক্কাধাক্কি বা শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
নিজের আইনি অধিকার ব্যবহার করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে শারীরিকভাবে বাধা না দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এবং এজেন্টদের কাজে বাধা না দিয়ে পরিস্থিতি নথিবদ্ধ করাও সম্ভব হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত বাসার ভেতরে অন্য ব্যক্তির কথোপকথন রেকর্ড করার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
পরিবারের কেউ আটক হওয়ার আগেই একটি জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করে রাখা উপকারী। গুরুত্বপূর্ণ ইমিগ্রেশন নথির কপি, আইনজীবীর যোগাযোগের তথ্য এবং জরুরি অবস্থায় সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের দায়িত্ব কে নেবেন এসব আগে থেকেই ঠিক করে রাখা যেতে পারে।
মূল নথি এমন নিরাপদ জায়গায় রাখা উচিত, যেখানে প্রয়োজনের সময় বিশ্বস্ত পরিবারের সদস্য তা খুঁজে পেতে পারেন।
নিউইয়র্ক সিটির এমওআইএর লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টারগুলো বিভিন্ন অভিবাসী এলাকায় বিনামূল্যে ইমিগ্রেশন সহায়তা দেয় এবং বাংলাতেও তথ্য পাওয়া যায়। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস না থাকলেও সহায়তা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইসিই দরজায় এসেছে মানেই একজন ব্যক্তির সব অধিকার শেষ হয়ে যায় না। আবার নিজের অধিকার প্রয়োগ করার অর্থও এজেন্টদের শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া নয়। দরজা খোলার আগে ওয়ারেন্ট যাচাই করা, প্রয়োজন হলে চুপ থাকার অধিকার ব্যবহার করা, না বুঝে কোনো কাগজে স্বাক্ষর না করা, দ্রুত আইনি সহায়তা নেওয়া এবং পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করাই হতে পারে পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।
আরটিভি/এসকে


