
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য লুইজিয়ানায় নিজেদের সবচেয়ে বড় উৎক্ষেপণ কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে ইলন মাস্কের মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। প্রায় ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিতব্য এই কেন্দ্রের নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্টারবেস, লুইজিয়ানা’।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্পেসএক্স জানায়, আগামী বছর এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার একর বা ৫০ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠবে বিশাল এই মহাকাশ ঘাঁটি। এটি টেক্সাসে স্পেসএক্সের বর্তমান সদর দপ্তর ও ফ্লোরিডার অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি নতুন একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নতুন ঘাঁটি থেকে বছরে হাজার হাজার মহাকাশযান উৎক্ষেপণের সক্ষমতা তৈরি করা হবে। পৃথিবীর কক্ষপথ, চাঁদ, মঙ্গলগ্রহসহ আরও দূরের মহাকাশ অভিযানে এখান থেকে উৎক্ষেপণ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্পেসএক্সের লক্ষ্য, ২০২৯ সালে লুইজিয়ানার নতুন ঘাঁটি থেকে প্রথম ‘স্টারশিপ’ উৎক্ষেপণ করা।
এই প্রকল্পের ফলে ওই অঞ্চলে সরাসরি ৩ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি পরোক্ষভাবে আরও ৮ হাজার ১০০টির বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে লুইজিয়ানা অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থা।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, নতুন ঘাঁটিতে কর্মরতদের গড় বেতন ওই অঞ্চলের বর্তমান গড় বেতনের তুলনায় ১৯২ শতাংশ বেশি হবে। তাদের মতে, প্রকল্পটি লুইজিয়ানাকে ভবিষ্যৎ মহাকাশ প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে।
লুইজিয়ানার নতুন ঘাঁটির নাম রাখা হয়েছে টেক্সাসের আরেকটি স্পেসএক্স কেন্দ্রের নামের সঙ্গে মিল রেখে। ২০২৫ সালে টেক্সাসের ক্যামেরন কাউন্টির বাসিন্দারা স্পেসএক্সের পরীক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত এলাকার একটি অংশকে ‘স্টারবেস’ নামে শহর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দেন।
মঙ্গলগ্রহে পৌঁছানোসহ মহাকাশ নিয়ে বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে ইলন মাস্কের। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মহাকাশে তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের মতো প্রকল্প নিয়েও কাজ করছে তার প্রতিষ্ঠানগুলো।
সম্প্রতি স্পেসএক্স ও টেসলা টেক্সাসে প্রায় ১ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার ব্যয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ তৈরির একটি বিশাল কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে বড় ধরনের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের কাছে লাভজনক হওয়ার সক্ষমতা প্রমাণের চাপ রয়েছে স্পেসএক্সের ওপর। সম্প্রতি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৩০ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে শেয়ারের দাম এখনো প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ




