
যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে নিরাপত্তা নিয়ে ঘটনার পর সেখানে থাকা সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে ওই ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
রোববার (৪ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রস্তুতি ও বিভিন্ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মার্কিন বোমারু বিমান নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমান পরিচালনাকারী সদস্যরা এখনো যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায় নির্ভুলভাবে হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে লন্ডনের ২০-এর কোঠায় থাকা পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ করা হয়।
পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যুক্ত তিনটি গাড়ি থেকে পেট্রলসহ আগুন দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারে এমন একটি দাহ্য পদার্থ পাওয়া যায়। তবে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
পরে ওই পাঁচজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
এরপর যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকেও সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। লন্ডন থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকেও জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম গত সপ্তাহে বলেন, বিমানঘাঁটির ওই ঘটনায় ইরানের ভূমিকা থাকার বিষয়ে তাদের কাছে শক্ত ইঙ্গিত রয়েছে। তবে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো জটিল ও গুরুতর তদন্তের মধ্যে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যুক্তরাজ্য।
ইরানি কর্মকর্তারা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একাধিকবার বলে আসছেন, ইরানে হামলার জন্য ব্যবহৃত যেকোনো সামরিক ঘাঁটিকে তারা বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবেন।
তবে লন্ডনে ইরানের দূতাবাস গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির ঘটনার সঙ্গে ইরানকে জড়ানোর অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে, নিরাপত্তা ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


