
স্পেসএক্স-এর ক্রু ১৩ মহাকাশ স্টেশনের সাথে সংযুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে এমন একজন মহাকাশচারীও রয়েছেন যিনি ৬ মাসের এই অভিযানে তার তৃতীয় সন্তানের জন্মের সময় উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
ছয় মাসের মহাকাশ অভিযানে গিয়ে পৃথিবীতে নিজের তৃতীয় সন্তানের জন্মের সময় পাশে থাকতে পারবেন না কানাডার নভোচারী জোশুয়া কুট্রিক। স্ত্রী হিদার কুট্রিকের গর্ভে থাকা তাদের তৃতীয় সন্তান পৃথিবীর আলো দেখবে নভোচারীর মহাকাশে থাকার সময়ই।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল মহাকাশ বাহিনী স্টেশন থেকে চার নভোচারী ও মহাকাশচারীকে নিয়ে একটি রকেট আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করে। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে উৎক্ষেপণের পর প্রায় ৭ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে দলটি।
এই অভিযানে রয়েছেন নাসার দুই নভোচারী জেসিকা ওয়াটকিনস ও লুক ডেলানি, রাশিয়ার মহাকাশচারী সের্গেই তেতেরিয়াতনিকভ এবং কানাডার নভোচারী জোশুয়া কুট্রিক। তাদের নিয়ে গঠিত এই দলটি মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে সেখানে থাকা সাত সদস্যের সঙ্গে যোগ দিয়েছে।
দলের অধিনায়ক জেসিকা ওয়াটকিনস ভূতত্ত্বে পিএইচডি করেছেন। ২০২২ সালে তিনি মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছিলেন। অন্য তিনজনের জন্য এটি প্রথম মহাকাশযাত্রা। লুক ডেলানি ও জোশুয়া কুট্রিক দুজনই সাবেক সামরিক পরীক্ষামূলক বিমানচালক। আর সের্গেই তেতেরিয়াতনিকভ আগে রাশিয়ার সাবমেরিন বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জোশুয়া কুট্রিক ও তার স্ত্রী হিদারের দুই সন্তান রয়েছে। তাদের বয়স ৫ ও ৭ বছর। এবার তাদের তৃতীয় সন্তানের জন্ম হওয়ার কথা নভেম্বরের শেষ দিকে, অর্থাৎ কুট্রিকের ছয় মাসের মহাকাশ অভিযানের প্রায় দুই মাসের মাথায়।
মহাকাশে যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুট্রিক লিখেছেন, তিন সন্তান ও অনাগত সন্তানকে রেখে যাওয়া তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ। তবে মানুষের নতুন কিছু আবিষ্কারের অভিযাত্রায় এ ধরনের ত্যাগের বিষয়টি তিনি মেনে নিয়েছেন।
মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে এবার এমন চতুর্থ ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে, যখন কোনো দম্পতির সন্তান জন্ম নেবে এবং সেই সময় তাদের একজন পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে থাকবেন।
মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে কুট্রিক বলেন, শেষ পর্যন্ত মহাকাশে পৌঁছাতে পেরে তার বিশ্বাসই হচ্ছে না। কানাডার পতাকা আবার মহাকাশ স্টেশনে দেখতে পেরে তিনি আনন্দিত বলেও জানান।
এই অভিযানে কানাডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন নির্মাণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির পাশাপাশি কানাডা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে আসছে। কুট্রিক মহাকাশে যাওয়া ১৭তম কানাডীয় নভোচারী।
নতুন দলটি মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানোর পর আগের দলটির সঙ্গে দায়িত্ব হস্তান্তর শুরু হয়েছে। আগের দলের অধিনায়ক জেসিকা মেয়ার, লুক হ্যাথাওয়ে, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার নভোচারী সোফি আদেনো এবং মহাকাশচারী আন্দ্রেই ফেদিয়ায়েভ ২৩৫ দিনের অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরবেন।
তাদের পৃথিবীতে ফেরার জন্য ৫ অক্টোবর মহাকাশ স্টেশন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরদিন ৬ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের অবতরণের কথা।
এদিকে নতুন দলটি মহাকাশ স্টেশনে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রযুক্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে হৃদ্রোগ ও পারকিনসন রোগ নিয়ে গবেষণা, দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের জন্য ফসল উৎপাদন, মহাকাশে রক্তপ্রবাহের অস্বাভাবিকতা বোঝা এবং নভোচারীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম পরীক্ষা অন্যতম।
এছাড়া চলতি মাসের শেষ দিকে ও নভেম্বরের শুরুতে মহাকাশ স্টেশনের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে কয়েকটি কাজ করার কথা রয়েছে। অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও বিভিন্ন মালবাহী মহাকাশযান সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মহাকাশ স্টেশনে থাকা নতুন দলটির অভিযান প্রায় ছয় মাস চলবে। এই সময় বিজ্ঞান গবেষণা, মহাকাশে চলাফেরা এবং স্টেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের পাশাপাশি পৃথিবী থেকে দূরে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্যও এটি হবে আবেগঘন এক সময়।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


