
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রীদের কাজের অনুমতি বাতিলের প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চালু থাকা এই সুবিধা হারাতে পারেন হাজারো এইচ-৪ ভিসাধারী। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ভারতীয় পরিবারগুলোর।
এইচ-৪ ভিসা মূলত এইচ-১বি, এইচ-১বি-১, এইচ-২এ, এইচ-২বি বা এইচ-৩ ভিসাধারীদের নির্ভরশীল স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের দেওয়া হয়। তবে এই ভিসা নিজে কাজের অনুমতি দেয় না। যোগ্য স্বামী বা স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে চাকরি করতে আলাদা কাজের অনুমতিপত্র নিতে হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যোগ্য এইচ-৪ ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রীদের কাজের অনুমতিপত্র পাওয়ার সুযোগ বাতিল করতে চায়। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ২০১৫ সালে চালু হওয়া এই সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয়দের ওপর
এইচ-৪ কাজের অনুমতিপত্রধারীদের বড় একটি অংশ ভারতীয় নাগরিক। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কাজের অনুমতিপত্রের আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত আবেদনের ৯৩ শতাংশ পেয়েছিলেন ভারতীয় নাগরিকরা। তাদের মধ্যে ৯৪ শতাংশই ছিলেন নারী।
এছাড়া ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি আবেদনের প্রায় ৭১ শতাংশই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ছিল। ফলে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতীয় এইচ-১বি পরিবারগুলোর ওপর এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়তে পারে।
এখনই কাজের অনুমতি বন্ধ হচ্ছে না
তবে এটি এখনো শুধু একটি প্রস্তাব, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। তাই এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে এইচ-৪ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি বন্ধ হচ্ছে না।
নিয়মটি কার্যকর করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবিত নিয়মের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। এরপর জনগণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। সবশেষে চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে হবে।
এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈধ কাজের অনুমতিপত্র থাকা এইচ-৪ ভিসাধারীরা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।
এর আগেও বাতিলের উদ্যোগ হয়েছিল
এইচ-৪ কাজের অনুমতিপত্র বাতিলের উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে নির্দিষ্ট কিছু এইচ-৪ ভিসাধারীর কাজের অনুমতি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে সেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি। পরে ২০২১ সালে তা প্রত্যাহার করা হয়।
এবারের উদ্যোগটি এইচ-১বি ভিসাকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কয়েকটি পদক্ষেপের একটি। প্রশাসন নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি আরোপেরও প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউস এইচ-১বি কর্মীদের চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নেওয়ার জন্য বর্তমানে থাকা ৬০ দিনের সময়সীমা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে।
কারা এই সুবিধা পান
এইচ-৪ ভিসাধারীরা মূলত এইচ-১বি ভিসাধারীর স্বামী, স্ত্রী বা সন্তান। তবে কাজের অনুমতিপত্র পাওয়ার সুযোগ সবার জন্য নয়। সাধারণত এইচ-১বি ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রী গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে এইচ-৪ স্বামী বা স্ত্রী কাজের অনুমতিপত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন।
কাজের অনুমতিপত্র না থাকলে এইচ-৪ ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে চাকরি করতে পারেন না। তবে তারা সেখানে বসবাস করতে, চালকের লাইসেন্স নিতে এবং ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেন।
আরটিভি/জেএমএ


