ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ঘুমন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি বাড়িতে ঢুকে শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার পর ঘটনাস্থলে পুলিশের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ২৩ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা ভুল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনির গ্লেন অ্যালপাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে একদল হামলাকারী গ্লেন অ্যালপাইনের একটি দোতলা বাড়িতে প্রবেশ করে। ওই সময় বাড়িটিতে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। হামলাকারীরা সরাসরি ২৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর ঘরে গিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

নিহত মার্কো তাপিয়ার (২৩) পেশাগত লিঙ্কডইন পেজ অনুসারে, তাপিয়া সিডনি ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র এবং ইঞ্জিনিয়ার্স উইদাউট বর্ডারস ইউটিএস-এর একজন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন।

Web-Image.

নিহত মার্কো তাপিয়া; সিডনি ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

ঘটনার পর মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত হামলাকারীদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক পুলিশ দীর্ঘ সময় ধরে আলামত সংগ্রহ করে। বাড়িটির সামনের দরজাসহ বিভিন্ন স্থান খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন তারা।

ক্যাম্পবেলটাউন এলাকার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেচেন অ্যাটকিনস জানান, হামলায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলাকারীরা ভুল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, নিহত তরুণের বিরুদ্ধে বড় কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। শুধু একটি সড়ক-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। তার পরিবারের সদস্যরা তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি এলোমেলোভাবে কোনো বাড়িতে হামলার ঘটনা নয়। বরং নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আশ্বস্ত করেছে পুলিশ।

এদিকে, ঘটনার কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অপরাধজগতের পরিচিত ব্যক্তি দাবি করেন, হামলাকারীরা ভুল ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। নির্বাসনে থাকা অপরাধী চক্রের কথিত সহপ্রতিষ্ঠাতা ইজাইয়া উতাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ভুল ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। এমনকি সঠিক বাড়িতেও যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট তাদের নজরে এসেছে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

সিডনিতে সাম্প্রতিক সময়ে ভুল পরিচয়ের কারণে সহিংসতার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৮৫ বছর বয়সী ক্রিস বাগসারিয়ানকে ভুল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে কনডেল পার্কে নিজের বাড়ির সামনে প্লাম্বার জন ভার্সাচিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনাটিকেও ভুল পরিচয়ের ঘটনা বলে সন্দেহ করেছিল।

সিডনিতে সাম্প্রতিক গুলির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের বিরোধীদলীয় নেতা কেলি স্লোয়ান। তিনি বলেন, চলতি বছরেই শহরটিতে ৫০টি গুলির ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তবে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস মিনস বলেন, সহিংস অপরাধ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও পুলিশকে আরও বেশি সম্পদ ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সরকার বিপুল পরিমাণ সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ঘটনার বিষয়ে যেকোনো তথ্য থাকলে তা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ছোট কোনো তথ্যও হামলাকারীদের শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠতে পারে।

নিহত তরুণের মৃত্যুর বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে।

সূত্র: অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, নাইন নিউজ সিডনি, দ্য সিনিয়র

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশে খুনের মামলা ধামাচাপা দিতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার ১
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলীয় নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রভাবিত করা এবং পুলিশের চূড়ান্ত নথি থেকে নিজের নাম কাটার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার ঘুষ দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিল ও ফৌজদারি তদন্তের গতিপথ পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার আদালতে মামলা ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) নিশ্চিত করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্রিসবেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের রেডব্যাঙ্ক প্লেইনসের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি নিহত নারীর পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি (বাংলাদেশি) সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ বাংলাদেশে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার সূত্রপাত ঘটনাটির শুরু হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিস (কিউপিস) এএফপির কাছে একটি প্রতিবেদন হস্তান্তর করে জানায়, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এক নারী বাংলাদেশে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। রিপোর্টটি পাওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় খোঁজ শুরু হয়। তবে ঠিক তার পরদিনই বাংলাদেশ পুলিশ অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষকে জানায়, তারা বাংলাদেশে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ পুলিশের ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়, মৃত্যুটি স্বাভাবিক ছিল না এবং এটি একটি ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’। অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের বিদেশে অবস্থানকালে হত্যা, অপমৃত্যু বা গুরুতর ক্ষতির শিকার হওয়ার ঘটনাগুলোর বিচারে অস্ট্রেলিয়ার ‘ক্রিমিনাল কোড’ বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে এএফপির। এর ভিত্তিতে এএফপির বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সংস্থাটির নিজস্ব আলাদা একটি তদন্তকাজ শুরু করে, যা বাংলাদেশ পুলিশের চলমান তদন্তের পাশাপাশি আলাদাভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। দুই বছরের পরিকল্পনা ও ৯০ হাজার ডলার লেনদেন এএফপির গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ দুই বছর ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মোট প্রায় ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ) বাংলাদেশে পাঠান। এই অর্থ পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মৃত্যুর ঘটনার মূল তদন্তকে নিজের অনুকূলে প্রভাবিত করা এবং বাংলাদেশ পুলিশের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড থেকে তাঁর নাম পুরোপুরি বাদ দেওয়া। তদন্ত জোরদার করতে এএফপির কর্মকর্তারা সিডনি ও ব্রিসবেনের একাধিক শীর্ষস্থানীয় আর্থিক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক তল্লাশি চালান। সে সময় আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের গোপন রেকর্ড, ডিজিটাল ট্রানজেকশন তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বাজেয়াপ্ত করা হয়। দীর্ঘ দুই বছরের নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর, গতকাল (২১ সেপ্টেম্বর) কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাঙ্ক প্লেইনস এলাকার দুটি আবাসিক ভবনে একযোগে অভিযান চালায় এএফপির বিশেষ দল। অভিযানকালে ওই ৫১ বছর বয়সী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি তাঁর ঘর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ফৌজদারি কার্যবিধির ৭০.২(১) ধারায় বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অস্ট্রেলীয় আইন অনুযায়ী, এই ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। এএফপি জানিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনে বিদেশি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার দায়ে তাদের ইতিহাসে এ ধরনের মামলা প্রথম হলেও, অপরাধটির ভয়াবহতার বিচারে এটি একটি ঐতিহাসিক আইনি দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘুষ ও দুর্নীতি দমনে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান এই তদন্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর থেকে এএফপির বৈদেশিক ঘুষ ও দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘টাস্কফোর্স সোলারিস’। এটি বহু বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ মাল্টিডিসিপ্লিনারি দল, যা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে কাজ করে। এএফপি ‘ব্রাইবারি প্রিভেনশন নেটওয়ার্ক’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এটি ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং সরকারি সংস্থার একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবসা ও সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে। ঘটনাটি নিয়ে এএফপির কমান্ডার স্টিফেন জয় এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় কিংবা বিদেশে—যেকোনো জায়গাতেই বিচারিক বা তদন্তপ্রক্রিয়াকে দুর্নীতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এএফপি এ জাতীয় কর্মকাণ্ডকে বিন্দুমাত্র সহ্য করবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিই—বিশেষ করে যখন কোনো গুরুতর অপরাধের তদন্তের ফল পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালানো হয়। যারা অর্থ দিয়ে বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে বা প্রভাব খাটাতে চাইবে, তাদের আইনগত জবাবদিহির মুখোমুখি হতেই হবে।’ কমান্ডার জয় জানান, আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে এএফপি নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। অস্ট্রেলীয় পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, নাম কাটাতে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটির বিপরীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বাংলাদেশি নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর মূল তদন্তটি এখনো শেষ হয়নি। আরটিভি/এসআর
বাংলাদেশে খুনের মামলা ধামাচাপা দিতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার ১
বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই দেশের বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত রয়েছে নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।  তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের সাধারণ অবস্থান হলো—ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখা। এ সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নেওয়াই ভারতের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে কোনো নতুন তথ্য থাকলে তা জানানো হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মুখপাত্র আরো বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থার মধ্যেই সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ভারত প্রস্তুত। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের যোগাযোগ রয়েছে। ভারতের বহুপক্ষীয় বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’তে বাংলাদেশের সি-১৩০জে পরিবহন বিমান অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গেও ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।  জবাবে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ভারতের মূল অবস্থান অপরিবর্তিত—নয়াদিল্লি একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায়। আরটিভি/এসআর  
বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায় ভারত, জানালেন জয়সওয়াল
জাতিসংঘে ইরানকে দুটি প্রস্তাব দিলেন ট্রাম্প
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের সামনে দুটি ভিন্ন পথের প্রস্তাব দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে পুনর্গঠনের সুযোগ, অন্যদিকে চুক্তি না হলে সম্ভাব্য ভয়াবহ সংঘাতের মুখে পড়ার সতর্কতা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, আমি কী তাদের এমন এক নরকের দিকে ঠেলে দেব, যেখানে টিকে থাকার কোনো সুযোগ থাকবে না। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মহান হওয়ারও কোনো আশা থাকবে না। তবে এমন কঠোর সতর্কতার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।  তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই চুক্তি হতে পারে। তেহরানের জন্য চুক্তিতে রাজি না হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় কূটনৈতিক উদ্যোগ আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আরটিভি/এসআর  
জাতিসংঘে ইরানকে দুটি প্রস্তাব দিলেন ট্রাম্প
মামদানির ‘ভিশন জিরো’ পরিকল্পনা, নিউইয়র্কে আসছে গাড়িমুক্ত পথচারী এলাকা
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি শহরের সড়ক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা ‘Vision Zero Reimagined’ পরিকল্পনায় শহরের প্রথম কিছু পথচারী-নির্ভর ও গাড়িমুক্ত জেলা তৈরির উদ্যোগ রাখা হয়েছে।
মামদানির ‘ভিশন জিরো’ পরিকল্পনা, নিউইয়র্কে আসছে গাড়িমুক্ত পথচারী এলাকা
সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের
নিজের সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ার অপরাধে নিজের জন্মদাতা মা-বাবার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পরিকল্পনা করেছেন ২৭ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণ।  মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী রাফায়েল স্যামুয়েল জানান, শিশুদের পৃথিবীতে নিয়ে আসা অনুচিত, কারণ পরবর্তীতে তাদের সারা জীবন ধরে বহু কষ্ট ও ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। রাফায়েল স্যামুয়েল বিষয়টি অনুধাবন করেন যে জন্মের আগে কারও সম্মতি নেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। তবে তার মতে, জন্ম নেওয়াটা তো আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না। তাই যেহেতু তিনি বা অন্য কেউ স্বেচ্ছায় জন্ম নিতে চায়নি, সেহেতু আজীবন বেঁচে থাকার সব ধরনের খরচ মা-বাবারই বহন করা উচিত বলে যুক্তি দেন তিনি। সাধারণ কোনো পরিবারে এমন অযৌক্তিক দাবি সম্পর্কের ইতি ঘটাতে পারত, তবে পেশায় আইনজীবী রাফায়েলের মা-বাবার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিপরীত। তারা বিষয়টিকে হাস্যরসাত্মক ও ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।  রাফায়েলের মা কবিতা কার্নাড স্যামুয়েল এক বিবৃতিতে জানান, আমি আমার ছেলের সাহসের প্রশংসা করি যে মা-বাবা দুজনই আইনজীবী জেনেও সে আমাদের আদালতে নেওয়ার কথা ভাবছে। ও যদি কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারে যে আমরা কীভাবে জন্মের আগে তার সম্মতি নিতে পারতাম, তবে আমি আমার ভুল স্বীকার করে নেব। স্যামুয়েলের এই ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা মূলত ‘অ্যান্টি-ন্যাটালিজম’ বা ‘জন্মবিরোধিতা’ দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই দর্শনের অনুসারীদের মতে, মানবজীবন নানা দুঃখ-কষ্টে পূর্ণ; তাই মানুষের সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। এতে ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যা সার্বিকভাবে এই গ্রহ এবং অন্যান্য পশুপাখির বেঁচে থাকার জন্য অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এক বছর আগে ‘নিহিলানন্দ’ (Nihilanand) নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে নিজের বেশ কিছু ডিজিটাল পোস্টার ছড়িয়ে দেন রাফায়েল। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি শিশুকে এই পৃথিবীতে আসতে বাধ্য করা এবং ক্যারিয়ার গড়তে চাপ দেওয়া কি অপহরণ বা দাসত্বের শামিল নয়? তবে মা-বাবার সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই বলে জানান স্যামুয়েল। তিনি জানান, তার জীবন বেশ ভালোই কাটছে এবং তিনি বিষণ্ণ নন। তবে তিনি মনে করেন, মানুষের অস্তিত্ব ছাড়া পৃথিবী আরও সুন্দর হতে পারত। যদিও কোনো বিচারক এই মামলা গ্রহণ করবেন না বলে তিনি জানেন, তবুও এই বিষয়ে বৈশ্বিক জনসচেতনতা ও আলোচনা তৈরির লক্ষ্যেই তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতে চান বলে জানান। আরটিভি/এসআর  
সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে খুনের মামলা ধামাচাপা দিতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার ১
জেমসের পা ছুঁয়ে সালাম করলেন কলকাতার রূপম
বিবিএলে খেলতে নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি ছাড়লেন চ্যাপম্যান
দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টের দল ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার