ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

মহাকাশে প্রথম সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান, গবেষণায় নতুন মোড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

শ্বেত বামন নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে মানুষের চোখে সবুজ দেখায়, এমন একটি নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

সাধারণত নক্ষত্রের রং তার তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। তাই বেশির ভাগ নক্ষত্রকে কমলা, সাদা বা নীল দেখায়। তবে সূর্যের মতো নক্ষত্রের জীবন শেষ হলে যে ঘন অবশিষ্টাংশ তৈরি হয়, তাকে শ্বেত বামন বলে। এসব নক্ষত্রে বিভিন্ন ধরনের রং দেখা যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার গবেষণার প্রধান লেখক ও যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডস এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বেশির ভাগ শ্বেত বামন নক্ষত্রের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। এসব নক্ষত্রের বাইরের স্তরে অস্বাভাবিক কিছু প্রক্রিয়ার কারণে তাদের আলো ও রঙে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।

শ্বেত বামন নক্ষত্রের রঙে এই পরিবর্তনের কারণ হলো এর বায়ুমণ্ডলে থাকা হিলিয়াম ও অন্যান্য মৌলের পারস্পরিক ক্রিয়া। নক্ষত্রভেদে এসব মৌলের পরিমাণ আলাদা হয়। নক্ষত্রটি তার জীবদ্দশায় কোন কোন বস্তুর সংস্পর্শে এসেছে, তার ওপরও এই পার্থক্য নির্ভর করতে পারে।

গবেষণার প্রধান লেখক মার্ক হল্যান্ডস জানান, লোহা, ম্যাগনেসিয়াম ও সোডিয়ামের মতো মৌল, যা সাধারণত পাথর ও শিলায় পাওয়া যায়, কখনো কখনো শ্বেত বামন নক্ষত্রের পৃষ্ঠেও দেখা যায়। এটি নক্ষত্রটির আশপাশে আগে কোনো গ্রহব্যবস্থা থাকার ইঙ্গিত হতে পারে।

আবার কোনো গ্রহাণুর মতো বস্তু নক্ষত্রটির খুব কাছে চলে এসেও এসব মৌল সেখানে জমা হতে পারে।

হল্যান্ডসের মতে, গ্রহাণুর মতো কোনো পাথুরে বস্তু শ্বেত বামন নক্ষত্রের খুব কাছে চলে এলে নক্ষত্রটির মহাকর্ষীয় টানে তা ভেঙে ধুলা ও ছোট ছোট টুকরোয় পরিণত হয়। পরে এসব ধ্বংসাবশেষ নক্ষত্রটির ওপর পড়ে এবং এর বাইরের স্তরের সঙ্গে মিশে যায়।

এসব পদার্থ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, পাথুরে বস্তুগুলো কী কী উপাদানে তৈরি ছিল। এভাবে শ্বেত বামন নক্ষত্রের সাহায্যে দূরবর্তী গ্রহের গঠন ও রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

হল্যান্ডস বলেন, শ্বেত বামন নক্ষত্রকে একধরনের প্রাকৃতিক পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করে গ্রহের উপাদান বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়েগো ক্যাম্পাসের জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাডাম বার্গাসার বলেন, শ্বেত বামন নক্ষত্রের মহাকর্ষে গ্রহ ভেঙে গেলে তার ভেতরে থাকা বিভিন্ন উপাদানের অনুপাত বিশ্লেষণ করা যায়। এর মাধ্যমে গ্রহটি কিভাবে তৈরি হয়েছিল, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া সম্ভব।

তিনি বিষয়টিকে অপরাধের ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহের সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা যেমন ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেন, তেমনি শ্বেত বামন নক্ষত্রের চারপাশে থাকা পদার্থ পরীক্ষা করে বহু আগে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রহের গঠন ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন।

মানুষের সঙ্গে মহাকাশের যোগসূত্র

এই গবেষণায় মার্ক হল্যান্ডস পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা ১৫১টি শ্বেত বামন নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

তিনি জানান, সবুজ রঙের নক্ষত্রটিতে প্রধানত ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও লিথিয়াম রয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি শ্বেত বামন নক্ষত্রের রং ছিল স্যামন মাছের মতো গোলাপি। নক্ষত্রটিতে কার্বনের পরিমাণ বেশি থাকায় এমন রং দেখা গেছে।

গবেষণায় অংশ না নেওয়া অধ্যাপক অ্যাডাম বার্গাসার বলেন, সবুজ নক্ষত্রটির বৈশিষ্ট্য তাকে আরও জানতে আগ্রহী করে তুলেছে। বিশেষ করে, কেন নক্ষত্রটির ওপর এত বেশি পদার্থ জমা হচ্ছে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে, এ ধরনের অদ্ভুত নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করতে পারে। তবে পৃথিবী থেকে শ্বেত বামন নক্ষত্রের প্রকৃত রং সরাসরি দেখা সম্ভব নয়। তাই বিজ্ঞানীরা নক্ষত্র থেকে আসা আলো বিশ্লেষণ করে এর রং নির্ণয় করেন। আলোর এই বিশ্লেষণকে বলা হয় বর্ণালী বিশ্লেষণ। এর মাধ্যমে নক্ষত্রে কী কী উপাদান রয়েছে এবং এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য কেমন, তা জানা যায়।

পেন স্টেট স্ক্র্যানটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাগনেস কিম বলেন, সবুজ নক্ষত্রটি নিয়ে গবেষণায় ব্যবহৃত তথ্য আগে থেকেই জানা ছিল। তাই এই গবেষণা থেকে শ্বেত বামন নক্ষত্র সম্পর্কে নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য না-ও পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি এসব নক্ষত্রকে বোঝার একটি নতুন ও আকর্ষণীয় দিক তুলে ধরেছে।

অধ্যাপক বার্গাসারের মতে, নক্ষত্রের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সেগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করার পদ্ধতি ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণায় সহায়তা করবে।

গবেষণার প্রধান লেখক মার্ক হল্যান্ডস ভবিষ্যতে আরও শ্বেত বামন নক্ষত্রের আলো বিশ্লেষণ করতে চান। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা পৃথিবী থেকে আরো দূরের নক্ষত্রও পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গবেষণাটি আরএএস টেকনিকস অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টস (আরএএসটিআই) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি বেয়ে উঠে আজান দেন, নামাজ পড়ান সিবগাতুল্লাহ
পূর্ব তুরস্কের ভান শহরে এক যুবক প্রতিদিন দুর্গম ও খাড়া পথ পাড়ি দিয়ে ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদে যান। সেখানে তিনি নামাজের ইমামতি করেন এবং তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের স্বাগত জানান। সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ গত পাঁচ মাস ধরে ঐতিহাসিক সুলেইমান খান মসজিদে ভারপ্রাপ্ত ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মসজিদে পৌঁছাতে তাকে আতাতুর্ক কালচারাল পার্ক থেকে প্রায় ৫ হাজার সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। মসজিদটি ভান দুর্গের পাথুরে চূড়ায় অবস্থিত। কষ্টকর এই যাত্রা সত্ত্বেও বিলমেজ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি আজান দেন, জামাতে নামাজ পড়ান এবং পর্যটকদের মসজিদ ও এলাকার ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য জানান। মসজিদটি ঠিক কবে নির্মিত হয়েছিল, তা জানা যায়নি। তবে জানা যায়, ১৫৩৪ সালে উসমানীয় সুলতান সুলেইমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট এটি সংস্কার করেছিলেন। তিন বছর আগে মসজিদটি আবার সংস্কার করা হয় এবং নামাজের জন্য খুলে দেয়া হয়। বিলমেজ বলেন, বর্তমান দায়িত্ব নেয়ার আগে তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর এবং স্থানীয় মুফতি কার্যালয়গুলোর অধীনে বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। প্রতিদিনের এই ওঠানামা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যদিও এটি ক্লান্তিকর, তবু সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, আমি কাজটি উপভোগ করি। কারণ, আমি স্বেচ্ছায় এটি করি।’ বিলমেজ বলেন, তিনি জোহরের নামাজের আগে মসজিদে পৌঁছান এবং এশার নামাজের পর নিচে নেমে আসেন। মসজিদটি জাদুঘর অধিদপ্তরের অধীন হওয়ায় এখানে ফজর ও এশার নামাজের নিয়মিত জামাত হয় না। দুর্গ দেখতে আসা দর্শনার্থীরাও মসজিদটি ঘুরে দেখেন। সেখানে বিলমেজ তাদের স্বাগত জানান এবং মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কে তথ্য দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দর্শনার্থীরা শুধু দুর্গ দেখেই থেমে থাকেন না; তারা সুলেইমান খান মসজিদও পরিদর্শন করেন। এটি সুলতান সুলেইমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি স্থাপনা।’ বিলমেজ আরও জানান, এই দায়িত্ব পালনের ফলে তার ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বেড়েছে। এতে বিদেশি দর্শনার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং মসজিদ, উরার্তীয় দুর্গ ও পুরোনো ভান শহরের ইতিহাস ব্যাখ্যা করা তার জন্য সহজ হয়েছে। তিনি দর্শনার্থীদের সঙ্গে ইসলাম নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বও আয়োজন করেন। তার মতে, এ ধরনের আলোচনা উভয় পক্ষের জন্যই উপকারী। নিজের কাজের বিষয়ে বলতে গিয়ে বিলমেজ জানান, দুর্গের চূড়ায় পৌঁছে চারপাশের দৃশ্য উপভোগ করলে কঠিন যাত্রার কষ্ট সার্থক মনে হয়। তিনি বলেন, ‘ক্লান্তিকর যাত্রার পর যখন আমি চূড়ায় পৌঁছাই এবং চারপাশের দৃশ্য দেখি, তখন এমন সুন্দর ও মূল্যবান দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’ তিনি আরও বলেন, মানুষের দোয়া পাওয়া, এমনকি তাদের মুখে ‘সৃষ্টিকর্তা আপনার ওপর সন্তুষ্ট হোন’ কথাটি শোনাও আমার জন্য সম্মানের। সূত্র: ডেইলি সাবাহ আরটিভি/এসআর
প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি বেয়ে উঠে আজান দেন, নামাজ পড়ান সিবগাতুল্লাহ
পানামায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর আট দিনে ৭৪৬টি আফটারশক
পানামায় গত সপ্তাহে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভূমিকম্পের কারণে পরিবর্তন ঘটেছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। 
পানামায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর আট দিনে ৭৪৬টি আফটারশক
ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তান 
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান অঞ্চলে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় এ ভূমিকম্প আঘাত হানে।  ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল বেলুচিস্তানের সুরাব শহরের প্রায় ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের (জিএফজেড) তথ্য অনুযায়ী, একই অঞ্চলে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। সংস্থাটি ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ৬ বলে জানিয়েছে। তবে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এসআর
ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তান 
বিশ্বে খাদ্য অপচয় বছরে ১০৫ কোটি টন, শীর্ষে কোন দেশ
বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১০৫ কোটি টন খাবার নষ্ট হয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে, প্রতি পাঁচ প্লেট খাবারের প্রায় এক প্লেটই শেষ পর্যন্ত ডাস্টবিনে ফেলা হয়। ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার মুখে ছিল।
বিশ্বে খাদ্য অপচয় বছরে ১০৫ কোটি টন, শীর্ষে কোন দেশ
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে কড়া জবাব দিলো পাকিস্তান
সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক আলোচনা সভায় বলেছেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তান থেকে কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলে ভারত তার চেয়েও কঠোর জবাব দেবে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে কড়া জবাব দিলো পাকিস্তান
আরও পড়ুন
চাঁদে যাচ্ছে পাকিস্তানের চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’
মহাকাশে বাবা, সন্তানের জন্ম হবে পৃথিবীতে 
মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মহড়া, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হচ্ছে নতুন মহাকাশ একাডেমি