ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বস্তি গুঁড়িয়ে দিলো বেঙ্গালুরু পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:৪১ পিএম
ছবি সংগৃহীত

দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরু শহরে পুলিশ ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মিলে ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের বস্তি’ সন্দেহে প্রায় ২০০ বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তবে অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, পুলিশ এই উচ্ছেদ অভিযানে যাদের বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে তারা সবাই ভারতের নাগরিক এবং তাদের কাছে এদেশের বৈধ পরিচয়পত্রও আছে।

তাদের আরও অভিযোগ, শহরের বিজেপি বিধায়ক অরবিন্দ লিম্বাভালিই সোশ্যাল মিডিয়াতে তথাকথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে লাগাতার উসকানিমূলক পোস্ট করে চলেছেন। আর এর ভিত্তিতেই পুলিশ বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে এই অভিযান শুরু করেছে।

বেঙ্গালুরুর বেলান্ডার শহরতলিসহ আরও কয়েকটি জায়গায় তথাকথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে এই অভিযান শুরু হয় শনিবার রাতে। দফায় দফায় তা চলতে থাকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা ধরে।

শহরের একটি এনজিও’র কর্মী আর কলিমুল্লা বিবিসি বাংলাকে বলেন, কুন্দনহাল্লি, মোনেকালাসহ মোট চারটি জায়গায় একসঙ্গে বুলডোজার নিয়ে পুলিশ হানা দেয়। তারা বলে, বাংলাদেশিদের দুই ঘণ্টার মধ্যে ঘর খালি করে দিতে হবে। আমি ও আমাদের টিম তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও কোনও লাভ হয়নি।

তিনি বলেন, পুলিশ ঘরে ঢুকে খাবার পানির পাত্রও লাথি মেরে উল্টে দেয়, কেটে দেয় বিদ্যুৎ সংযোগ। সঙ্গে চলতে থাকে বাংলাদেশিদের নামে গালাগালি।

স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেল সুবর্ণা নিউজেও দাবি করা হতে থাকে তাদের স্টিং অপারেশনেই ফাঁস হয়েছে যে ওই বস্তির বাসিন্দারা বাংলাদেশি। ওই চ্যানেলটি জানায়, পুলিশকে ঘুষ দিয়েই তারা ভারতের কাগজপত্র বানিয়েছে, এটা প্রকাশ হওয়াতেই না কি পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।

এদিকে বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার ভাস্কর রাও যদিও দাবি করেছেন নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতেই তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন, আইনজীবী ও সমাজকর্মী দর্শনা মিত্র কিন্তু বিবিসিকে অন্য ছবিই তুলে ধরলেন।

দর্শনা মিত্র বলছিলেন, আসলে বেঙ্গালুরুর অর্থনীতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারাথাল্লিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর নতুন ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে, অনেক অফিস গড়ে উঠেছে। আর এর ফলে ইনফর্মাল সেক্টরে গৃহকর্মী, আবাসন খাতের শ্রমিক, স্বুলবাসের চালক - এরকম অসংখ্য কাজের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে, যেগুলো মেটাতে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা থেকে দলে দলে লোকজন সেখানে যাচ্ছেনও।

তিনি বলেন, তাদের মধ্যে প্রচুর লোকই বাঙালি, আর মাইগ্রেশন প্যাটার্নটা স্টাডি করলেই দেখা যাবে তারা বেশির ভাগই গেছেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদের মতো মুসলিম-অধ্যুষিত জেলাগুলো থেকে। এখন বাঙালি মুসলিমদের মধ্যে কে পশ্চিমবঙ্গের বা কে বাংলাদেশি, কর্নাটকের পুলিশ বা একজন কান্নাডিগা আপাতদৃষ্টিতে সেই ফারাক যেহেতু করতে পারছে না - তাই তাদের অ্যাপ্রোচাটাই হল মুসলিম হলেই তাদের বাংলাদেশি বলে চালিয়ে দাও।

দর্শনা মিত্র বলেন, এখানে কোনও বাছবিচারের ব্যাপারই নেই- এবারের ঘটনায় লোকজন তো তাদের পরিচয়পত্র বা আইডি প্রুফ দেখাতেও চেয়েছিল, কিন্তু ব্যাঙ্গালোর পুলিশ তা চেক করারও প্রয়োজন বোধ করেনি।

এদিকে শনিবার ও রোববারের এই বস্তি ভাঙচুরের পেছনে অনেকেই তুলে ধরছেন গত সপ্তাহে টুইটারে শাসক দল বিজেপির অত্যন্ত প্রভাবশালী বিধায়ক ও কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতা অরবিন্দ লিম্বাভালির একগুচ্ছ পোস্টকে। লিম্বাভালির পোস্ট করা একটি ভিডিওতে শহরের একটি বস্তিকে দেখিয়ে দাবি করা হয়, সেটাই নাকি বেঙ্গালুরুতে ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের মূল কেন্দ্র’।

সেখানে তাদের আলাদা রাস্তা আছে, মাসে পাঁচ থেকে আট হাজার রুপিতে বস্তিতে ঘরভাড়া নিয়ে থাকছে তারা- আলাদা বিদ্যুৎ সংযোগ, পানির লাইন, নিজস্ব দোকানপাটও বানিয়ে নিয়েছে, বলেও জানানো হয়।

ভিডিওটিতে আরও বলা হয়, রোজই সেখানে তারা নতুন লোকজনও নিয়ে আসছে, বাংলাদেশিদের রমরমা বেড়েই চলেছে। এই পোস্টের পর সাতদিনও যেতে না-যেতেই ঠিক সেই বস্তিটিই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।

অ্যাক্টিভিস্ট জকি সোমান বিবিসিকে বলছিলেন, বিজেপির ওই বিধায়ক গত তিন বছর ধরেই এই একই জিনিস করে আসছেন, অভিবাসী শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলে তাদের তাড়ানোর জিগির তুলছেন। তিনি বলেন, ভারতের বৈধ নাগরিকদের এভাবে অপমান করার জন্য তার বিরুদ্ধে আমরা এখন মানহানির মামলাও করতে যাচ্ছি।

ভারতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি তৈরির নামে মুসলিমরা যে হয়রানি ও ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন, ফলে বেঙ্গালুরুতে তা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলেও এই সমাজকর্মীদের বক্তব্য।

এ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
নতুন বছরের শুরু থেকে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় হাইকমিশন। হাইকমিশনের দূতাবাস প্রধান রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কুয়ালালামপুরের আম্পাং শাখার পাসপোর্ট অফিসের কার্যালয় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী রোববার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত সাময়িকভাবে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম আরও বেগবান করার মাধ্যমে প্রত্যাশীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, যারা অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রেখেছেন তাদের নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়। এক্ষেত্রে ১০ জানুয়ারির পর কাছাকাছি সময়ে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন পুনরায় নির্ধারণ করে যথাসময়ে অবহিত করা হবে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২ ও ৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ার জহুর বারু প্রদেশে পাসপোর্ট ডেলিভারি সেবার কার্যক্রম অব্যহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এফএ
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারতের আসাম প্রদেশে ৭০০ মাদরাসাকে স্কুলে রূপান্তর করবে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সরকার বলছে, মসজিদের ঈমামের চেয়ে ভারতে ডাক্তার, পুলিশ, আমলা ও শিক্ষক বেশি প্রয়োজন। তাই মাদরাসার সিলেবাসকে নিম্নমানের শিক্ষা আখ্যায়িত করে স্কুলে রূপান্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।  এই সংক্রান্ত একটি বিল বৃহস্পতিবার আসামের আইনসভায় পাস হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা প্রাদেশিক আইনসভাকে জানিয়েছেন, নতুন বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ এর অধিক মাদরাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান। হেমন্ত বিশ্বাসের দাবি মাদ্রাসায় পার্থিব বা বৈষয়িক কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশে মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াজেদ আলী চৌধুরী নামে কংগ্রেসের একজন আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এটা মুসলিমদের শেকড় উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত।’ এফএ
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে বেশ কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে নিজেদের তৈরি করা ভয়ংকর অত্যাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের  যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থানডার ব্লক-৩ প্রদর্শন করলো পাকিস্তান। গেলো বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির বিমানবাহিনীর দূরবর্তী উচ্চ রাডার প্রযুক্তি ও ফায়ারিং ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি যুদ্ধবিমান পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তানের প্রভাবশালী মিডিয়া ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খান জানান, জাতীয় বহরে দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বর্পূণ মাইলফলক। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনী যখন আঞ্চলিক ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে, সেসময় জেএফ-১৭ থানডার যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।   একই সঙ্গে পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন ও চীনা বিমান শিল্পের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন। এম
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে- ১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি। ২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য  প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে। ৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর। ৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা। ৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে। ৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা। ৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা। ১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে। এসআর/এমকে
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় রয়েছেন করোনা ভ্যাকসিনের টিকা প্রস্তুতকারী ফার্ম ও বোতলজাত পানি ব্যবসায়ী ঝং শানশান। ই–কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মাকে পেছনে ফেলেছে। ২০২০ সালেই ঝংয়ের সম্পদ বেড়েছে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। ঝং শানশানের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৭ হাজার ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার। সূত্র বিবিসি ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় ঝং শানশান। যিনি বিশ্বের ১১তম শীর্ষ ধনী। ঝং পরিচিত বেশি লোন উলফ নামে। ঝংয়ের কর্মজীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। সাংবাদিকতা, মাশরুমের চাষ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেছেন তিনি। এপ্রিলে ভ্যাকসিন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার তিন মাস পর হংকংয়ের শেয়ারবাজারে আনেন তার বোতলজাত পানির প্রতিষ্ঠান নোংফু স্প্রিংকে। ১৯৯৬ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশে এটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে নোংফুর শেয়ার। বেইজিং ওয়ানটাই বায়োলজিক্যালের শেয়ার বেড়েছে দুই হাজার শতাংশের বেশি। করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো এটি। ৬৬ বছর বয়সী ঝং শানশান সেপ্টেম্বরে জ্যাক মাকে সরিয়ে চীনের শীর্ষ ধনীর অবস্থান নেন। এবার মুকেশ আম্বানিকে সরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন। এফএ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
আরও পড়ুন
হালুয়াঘাটে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
দ্বৈত নাগরিকত্বধারী বাংলাদেশিদের তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট
যে ৭টি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ বেশি
পাটগ্রামে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু