ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রাম্পের দৃষ্টি থেকে দারিদ্র লুকোতে চাইছে গুজরাট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:২২ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন সফরের আগে ভারতের আহমেদাবাদে যেভাবে গরীব বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করা শুরু হয়েছে, শহরের অনেকেই তার তীব্র সমালোচনা করছেন।

যে মোতেরা স্টেডিয়ামে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একযোগে ভাষণ দেবেন বলে স্থির আছে, তার ঠিক সামনেই একটি বস্তির শদুয়েক বাসিন্দাকে উচ্ছেদের নোটিশ ধরানো হয়েছে।

এর আগে শহরে রাস্তার ধারের মলিন ঝুগ্গি-ঝোপড়িগুলো উঁচু দেয়াল তুলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চোখের আড়াল করারও চেষ্টা হয়েছে, সেখানেও বস্তিবাসীরা তাতে প্রবল ক্ষুব্ধ।

এক কথায়, মি ট্রাম্পের সফরের জন্য আহমেদাবাদ তার দারিদ্রের ছবি লুকোনোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুজরাটে পা রাখতে আর সপ্তাহখানেকও বাকি নেই, তার আগে যথারীতি সাজো সাজো রব পড়ে গেছে গোটা আহমেদাবাদ জুড়ে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে এই শহরের মোতেরায়, সেখানেই আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি 'নমস্তে ট্রাম্প' অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তার আগে ওই স্টেডিয়ামের কাছে একটি বস্তির গোটা পঞ্চাশেক পরিবারের দুশো লোককে উচ্ছেদের নোটিশ ধরিয়েছে আহমেদাবাদ পুর কর্তৃপক্ষ।

পুরসভার ধরানো কাগজ দেখিয়ে ওই বস্তির বাসিন্দা রমা মেদা বলছিলেন, "কর্পোরেশনের সাহেব এসে জোর করে এই কাগজ আমাদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে গেছে সাত দিনের মধ্যে এই এলাকা খালি করতে হবে।"

"কিন্তু আমরা যাবটা কোথায়? আমরা থাকার জন্য তো আর বাংলো চাইছি না, চাইছি শুধু এক টুকরো জমি!"

বস্তির প্রবীণ আরেক বাসিন্দা বলছিলেন, "গেল বিশ-পঁচিশ বছর ধরে এখানে থেকে মজদুরি করে খাচ্ছি। আজ হঠাৎ করে উঠে যাও বললে আমরা কোথায় যাব? আমাদের তাহলে অন্য কোথাও বসত করার জায়গা দিক।"

পুর কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করছে, বস্তিবাসীরা ওই জমি জবরদখল করে রেখেছেন বলেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।

তবে গেল কুড়ি বছরেরও বেশি সময় ধরে যে জমি তাদের হাতছাড়া হয়ে আছে, সেটা এখনই উচ্ছেদ করার কেন তাড়া সে প্রশ্নের সদুত্তর তাদের কাছেও নেই।

এদিকে এর মাত্র কদিন আগেই শহরের শরনিয়াবাস বা দেবশরণ বস্তিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রুট থেকে আড়াল করার জন্য রাস্তার পাশে প্রায় সাড়ে চার ফিট উঁচু দেয়াল তুলেছে আহমেদাবাদ কর্পোরেশন।

সেখানেও ক্ষুব্ধ বস্তিবাসীরা বলছিলেন, "রাষ্ট্রপতি এই রাস্তা দিয়ে যাবেন বলে আমাদের গরীব লোকগুলোকে ঢেকে দিতে হবে কেন?"

"দেয়াল তোলার বদলে অন্য কোনও উন্নয়ন তো করলে পারত বরং!"

কেউ কেউ আবার বলছেন, "এর চেয়ে বরং আমাদের কদিনের জন্য বের করে দিত - ঝোপড়পট্টির লোকজনকে এভাবে অপমান করার কী দরকার ছিল?"

শহরের সুপরিচিত প্রবীণ অ্যাক্টিভিস্ট নির্ঝরী সিনহাও বলছিলেন, এই সব ব্যাপার-স্যাপার দেখে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত ও হতাশ।

তিনি বলছিলেন, "যে রাস্তার পাশে দেয়াল তোলা হয়েছে, সেটা এয়ারপোর্ট থেকে শহরে আসার পথেই পড়ে।"

"এর আগেও চীনা প্রেসিডেন্ট বা জাপানি প্রধানমন্ত্রীর গুজরাট সফরের সময় সেগুলো তেরপলের চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়া হত - কিন্তু এবার কংক্রিটের দেয়াল তোলার কী হলো বুঝলাম না।"

"এমন কী আশেপাশের ছোটখাটো বহু পান ও চায়ের দোকানও কয়েকদিনের জন্য বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।"

"আমরা তো একটা গরীব দেশ, শুধু আমরা বিদেশি অতিথিদের জন্য মাত্রাতিরিক্ত খরচই করছি না - গরীব মানুষের রুটিও কেড়ে নিচ্ছি।"

আহমেদাবাদের বাসিন্দা শাহিনা শেখও মনে করেন, ট্রাম্পের সফরের নামে শহরে অনেক ভুলভাল খরচও হচ্ছে।

তিনি বলছিলেন, "ট্রাম্প আসছেন শোনার পর থেকেই দেখছি শহরের যে রাস্তাগুলো ভালো ছিল সেগুলোকেই আরও ভালো করা হচ্ছে, অথচ যে খারাপ রাস্তাগুলোর মেরামত দরকার সেগুলো যে-কে-সেই পড়ে আছে।"

"সবাই তো জানেন এখানে রাজনীতির কারকারবার, সেই অনুযায়ীই এসব হচ্ছে আর কী!"

"আর এই যে ট্রাম্পকে 'শো অফ' করার জন্য রাস্তা সারানোর নামে ভালো রাস্তাগুলোতেই খরচ করছে, এই টাকা তো আমাদের জনগণের পকেট থেকেই যাবে?"

কাজেই একদিকে সুন্দর রাস্তাকে আরও চকচকে করে তুলে, আর অন্যদিকে গরীব বস্তিকে প্রেসিডেন্টের নজর থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে আহমেদাবাদ।

সূত্র- বিবিসি বাংলা

এম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
নতুন বছরের শুরু থেকে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় হাইকমিশন। হাইকমিশনের দূতাবাস প্রধান রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি বিধি-নিষেধ অনুযায়ী কুয়ালালামপুরের আম্পাং শাখার পাসপোর্ট অফিসের কার্যালয় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) থেকে পরবর্তী রোববার (১০ জানুয়ারি) পর্যন্ত সাময়িকভাবে সবধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার পর পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম আরও বেগবান করার মাধ্যমে প্রত্যাশীদের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, যারা অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রেখেছেন তাদের নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়। এক্ষেত্রে ১০ জানুয়ারির পর কাছাকাছি সময়ে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন পুনরায় নির্ধারণ করে যথাসময়ে অবহিত করা হবে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ২ ও ৩ জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়ার জহুর বারু প্রদেশে পাসপোর্ট ডেলিভারি সেবার কার্যক্রম অব্যহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এফএ
টানা ১০ দিন বন্ধ মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেবা
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারতের আসাম প্রদেশে ৭০০ মাদরাসাকে স্কুলে রূপান্তর করবে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সরকার বলছে, মসজিদের ঈমামের চেয়ে ভারতে ডাক্তার, পুলিশ, আমলা ও শিক্ষক বেশি প্রয়োজন। তাই মাদরাসার সিলেবাসকে নিম্নমানের শিক্ষা আখ্যায়িত করে স্কুলে রূপান্তরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।  এই সংক্রান্ত একটি বিল বৃহস্পতিবার আসামের আইনসভায় পাস হয়েছে। আসামের শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা প্রাদেশিক আইনসভাকে জানিয়েছেন, নতুন বছরের এপ্রিলের মধ্যে ৭০০ এর অধিক মাদরাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে সেখানে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর গার্ডিয়ান। হেমন্ত বিশ্বাসের দাবি মাদ্রাসায় পার্থিব বা বৈষয়িক কোনো বিষয় পড়ানো হয় না। তাই তারা মাদ্রাসা বন্ধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিষয়টিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট দেশে মোদি সরকারের মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। ওয়াজেদ আলী চৌধুরী নামে কংগ্রেসের একজন আইনপ্রণেতা বলেন, ‘এটা মুসলিমদের শেকড় উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত।’ এফএ
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে বেশ কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে নিজেদের তৈরি করা ভয়ংকর অত্যাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের  যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থানডার ব্লক-৩ প্রদর্শন করলো পাকিস্তান। গেলো বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির বিমানবাহিনীর দূরবর্তী উচ্চ রাডার প্রযুক্তি ও ফায়ারিং ক্ষমতা সম্পন্ন ১৪টি যুদ্ধবিমান পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তানের প্রভাবশালী মিডিয়া ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মুজাহিদ আনোয়ার খান জানান, জাতীয় বহরে দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বর্পূণ মাইলফলক। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনী যখন আঞ্চলিক ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে, সেসময় জেএফ-১৭ থানডার যুদ্ধবিমান যুদ্ধক্ষেত্রে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।   একই সঙ্গে পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উৎপাদন ও চীনা বিমান শিল্পের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন। এম
ভয়ংকর যুদ্ধবিমান বানালো পাকিস্তান
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
মহামারি করোনা ভাইরাসকে সাথে করেই পেছনে ফেলতে হচ্ছে আরও একটি বছর। শুরু হবে নতুন বছর। ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করার জন্য বিভিন্ন রকম রীতি রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অবাক করার বিষয় হল, বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যাদের বর্ষবরণ উদযাপনের রীতি একদমই ব্যতিক্রম। আরটিভি অনলাইন পাঠকদের জন্য ব্যতিক্রমী বর্ষবরণ উদযাপনের রীতিনীতি তুলে ধরা হল নিচে- ১. কলম্বিয়ায় খালি স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে পড়া: দেশটির মানুষ ঘুরতে অনেক ভালোবাসেন। তাদের কাছে ভ্রমণ এতটাই পছন্দ যে, নতুন বছর উদযাপনেও তাদের প্রত্যাশা থাকে ঘুরতে যাওয়া। থার্টি ফাস্ট নাইটে রাত ১২টা বাজলে কলম্বিয়ার মানুষ একটি খালি স্যুটকেস হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। বাড়ির চারপাশে হাঁটাহাঁটি করেন তারা। নতুন বছরের কোনো এক সময় এই খালি স্যুটকেস পূর্ণ হবে- এ আশাতেই পালন করেন এই রীতি। ২. জাপানে প্রাকৃতিক সাজসজ্জা : জাপানে নতুন বর্ষবরণ করাকে বলা হয় ‘ওশোগাতসু’। দেশটিতে এই উৎসবটি পরিবারের সাথে উদযাপন করা হয়। সেখানে পরিবারের সবাই একসাথে ঘরকে পরিষ্কার এবং সজ্জিত করে। এরপর তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার জন্য  প্রাকৃতিক সাজসজ্জা যেমন পাইন শাখা, বরই ফুল এবং বাঁশগুলি প্রস্তুত করতে থাকে। ৩. ইকুয়েডরে বিখ্যাতদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো : ইকুয়েডরের মানুষরা বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে রাস্তায় বের হয়ে ‘কুশপুত্তলিকা’ পুড়িয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় এবং অভিনয়শিল্পীসহ বিখ্যাত সকল ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উল্লাস করা হয়। আগামী বছর এ উদযাপন ভাগ্য ফেরাবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৪. চীনে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা : দেশটিতে নতুন বছরে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে প্রবেশ দরজা লাল রঙ করা হয়ে থাকে। দেশটিতে লাল রঙকে সুখ এবং সৌভাগ্যের প্রতীক হিসাবে ধরা হয়। আর এভাবেই দেশটিতে বরণ করা হয় নতুন বছর। ৫. জার্মানিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয় সিসার টুকরায় : জার্মানিতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য বছরের শেষ মুহূর্তে সবাই ভাগ্য পরীক্ষার খেলায় মেতে উঠেন। ভাগ্য পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটিও ব্যতিক্রম। শুরুতে সিসার টুকরা গরম করে গলিয়ে তাতে পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করা হয়। পরে সিসার আকৃতি অনুযায়ী ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে বিশ্বাস জার্মানদের। সিসা হৃদয়ের মত হলে ভালোবাসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর মুকুটের মত হলে প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হবেন- এমনটাই বিশ্বাস করেন তারা। ৬. সুইজারল্যান্ডে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রাখা : দেশটির মানুষজনের নতুন বছর উদযাপন এক অদ্ভুত সাংস্কৃতির। তারা নতুন বছর উপলক্ষে না খেয়ে মেঝেতে ক্রিম ফেলে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বাস নতুন বছরে ঐশ্বর্য আসবে। ৭. লাতিন আমেরিকায় অন্তর্বাসের রঙের ওপর ভাগ্য নির্ধারণ : লাতিন আমেরিকার দেশ অর্থাৎ মেক্সিকো, ব্রাজিল, বলিভিয়া ইত্যাদি দেশগুলোয় বছরের শেষ মুহূর্তে নতুন অন্তর্বাস কেনার জন্য সবাই মার্কেটে ভিড় জমায়। তাদের বিশ্বাস, বর্ষ বরণে নতুন অন্তর্বাস পড়নে থাকলে নতুন বছরে ভালো কিছু আসবে। তবে এই অন্তর্বাসের জন্য নির্দিষ্ট দুটি রঙও রয়েছে- লাল ও হলুদ রঙ। লাল পড়লে ভালোবাসা পাবে এবং হলুদ বয়ে আনবে সফলতা। ৮. ফিলিপাইনে অদ্ভুত খাবার খাওয়া : ফিলিপাইনে নতুন বর্ষবরণে সকল বয়সী মানুষ গোলাকার খাবার খায়। এছাড়াও তারা এদিন পকেটে মুদ্রা রাখে এবং প্রচুর পোশাক পড়েন। গোলাকার আকৃতি মূলত নতুন বছরে আর্থিক উৎসাহ বৃদ্ধি করবে বলে বিশ্বাস তাদের। ৯. ইতালিতে ঘরের আসবাব ছুড়ে ফেলা: ইতালিতে নববর্ষে দেশটির নেপলস শহরবাসীরা উদ্ভটভাবে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, তারা বছরের শেষ দিন ঘরের আসবাব, রান্নাঘরের থালা-বাসনসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলেন। পুরাতন সব কিছু ফেলে দিয়ে নতুন কিছু বরণ করে নেওয়ার প্রতীকী অর্থে এসব করেন ওই শহরের বাসিন্দারা। ১০. স্পেনে আঙুর খেয়ে বর্ষবরণ: স্পেনের নাগরিকদের বর্ষবরণ বলা যেতে পারে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১২টি করে আঙুর খেয়ে থাকেন স্প্যানিশরা। নতুন বছরে উন্নতি হবে এমন আশায় নির্দিষ্ট-সংখ্যক আঙুর খাওয়ার রীতি পালন করে থাকেন তারা। ১৯০৯ সাল থেকে দেশটির আলিকান্তে শহরের ওয়াইন প্রস্তুতকারীরা ব্যতিক্রমী এই রীতি চালু করেন। যা এখনো প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে। এসআর/এমকে
অন্তর্বাসের রঙে বর্ষবরণ করে যে দেশ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় রয়েছেন করোনা ভ্যাকসিনের টিকা প্রস্তুতকারী ফার্ম ও বোতলজাত পানি ব্যবসায়ী ঝং শানশান। ই–কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মাকে পেছনে ফেলেছে। ২০২০ সালেই ঝংয়ের সম্পদ বেড়েছে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। ঝং শানশানের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৭ হাজার ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার। সূত্র বিবিসি ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, এশিয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় ঝং শানশান। যিনি বিশ্বের ১১তম শীর্ষ ধনী। ঝং পরিচিত বেশি লোন উলফ নামে। ঝংয়ের কর্মজীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। সাংবাদিকতা, মাশরুমের চাষ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করেছেন তিনি। এপ্রিলে ভ্যাকসিন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার তিন মাস পর হংকংয়ের শেয়ারবাজারে আনেন তার বোতলজাত পানির প্রতিষ্ঠান নোংফু স্প্রিংকে। ১৯৯৬ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশে এটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে নোংফুর শেয়ার। বেইজিং ওয়ানটাই বায়োলজিক্যালের শেয়ার বেড়েছে দুই হাজার শতাংশের বেশি। করোনার ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো এটি। ৬৬ বছর বয়সী ঝং শানশান সেপ্টেম্বরে জ্যাক মাকে সরিয়ে চীনের শীর্ষ ধনীর অবস্থান নেন। এবার মুকেশ আম্বানিকে সরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন। এফএ
এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন পানি ব্যবসায়ী
আরও পড়ুন
ভারতে ৭০০ মাদরাসা স্কুলে রূপান্তর করবে বিজেপি
ভারত থেকে এলো ১০ ট্রাক বিস্ফোরক
ভারত থেকে আমদানিকৃত চালের কেজি ৩৪ টাকা
ভারত থেকে আমদানি হচ্ছে সজনা