ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মুসলিম প্রতিবেশীর স্বপ্ন পূরণে খ্রিষ্টান যুবকের অনন্য নজির

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
মিশরীয় খ্রিষ্টান নাগরিক মিনা। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম প্রতিবেশীর ওমরাহ পালনের স্বপ্ন পূরণ করতে একটি কোরআনভিত্তিক ইসলামিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন মিনা নামে মিশরীয় এক খ্রিষ্টান নাগরিক।

শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে বিনা মূল্যে ওমরাহ পালনের সুযোগও জিতে নেন তিনি। তবে পুরস্কারটি নিজের জন্য নয়; প্রতিবেশী উম আলির হাতে তুলে দেওয়াই ছিল তার শুরু থেকেই একমাত্র লক্ষ্য।

মিসরে ইসলামিক ধর্ম প্রচারক ড. আয়মান আবু ওমরের একটি লাইভ সম্প্রচার দেখছিলেন মিনা। সেখানে তিনি জানতে পারেন, তার দীর্ঘদিনের মুসলিম প্রতিবেশী উম আলি, যিনি মোনা নামেও পরিচিত কোরআনবিষয়ক প্রশ্নের জবাব দিয়ে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।

প্রতিযোগিতার বিজয়ীর জন্য ছিল সম্পূর্ণ খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ। উম আলির ওমরাহ পালনের দীর্ঘদিনের ইচ্ছার কথা জানতেন মিনা। তাই নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কোনো দ্বিধা না করে তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মিনা বলেন, ‘আমি খ্রিষ্টান, কিন্তু এই ইসলামিক ধর্মীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ওম আলির জন্য উমরাহর সুযোগটি জিতে নেওয়া।’

প্রতিযোগিতায় নিজের জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে তিনি ৫০ থেকে ৬০ বারেরও বেশি সঠিক জবাব জমা দেন। অবশেষে তার প্রচেষ্টা সফল হয়। প্রতিযোগিতার বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হন মিনা; কিন্তু বিজয়ের আনন্দ নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তিনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পুরস্কারটি তার মুসলিম প্রতিবেশী উম আলিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

উম আলির কাছে ওমরাহ পালন ছিল বহুদিনের লালিত স্বপ্ন। তিনি এমন সময় পবিত্র মক্কায় যাওয়ার সুযোগ চেয়েছিলেন, যখন শারীরিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ ও হাঁটাচলা করার সক্ষমতা তার থাকবে। মিনা যখন তাকে ওমরাহর সুসংবাদটি দেন, তখন আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন উম আলি। নিজের বাড়িতে বসেই তিনি আনন্দাশ্রু মুছতে থাকেন। মিনা বলেন, ‘আমি জানতাম না, ওমরাহ এত আনন্দ এনে দিতে পারে।’

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান
নিষেধাজ্ঞা, চাপ কিংবা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মুখে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না এবং দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান
দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১১
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরের কাছে একটি আবাসিক ভবনে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিবর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। 
দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১১
সোনার খনি ধসে সুদানে ৮২ জন নিহত
আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সোনার খনি ধসে অন্তত ৮২ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সোনার খনি ধসে সুদানে ৮২ জন নিহত
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১
দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের মহাসড়কে একাধিক যানবাহনের (দু’টি মিনিবাস ট্যাক্সি ও একটি এসইউভি) মধ্যে সংঘর্ষে ২১ জন নিহত হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১
কঙ্গোয় স্কুলে আগুন, শিশুসহ নিহত ২৪
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় বুকাভু শহরের একটি প্রাথমিক স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে পালাতে গিয়ে অন্তত ১৪ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বুকাভু শহরের বাগিরা এলাকার ‘উজামা প্রাথমিক স্কুলে’ ক্লাস চলাকালীন সময়ে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়ে, ক্লাস চলাকালীন হুট করেই আগুনের সূত্রপাত হয়। পুরো স্কুলটি কাঠের তৈরি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ক্লাসরুমে ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রাণ বাঁচাতে ছাত্র-ছাত্রীরা ভবনের ওপর তলা থেকে নিচে লাফ দিতে শুরু করে। স্কুলটির এক শিক্ষক সাইমন কাসামিরা চিকিৎসারত অবস্থায় জানান, ক্লাস চলার সময় হঠাৎ শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনতে পাই। কেউ ওপরের তলা থেকে নিচে লাফ দিচ্ছিল, আবার কেউ মূল দরজা দিয়ে বাইরে পালানোর চেষ্টা করছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই আশপাশ থেকে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের খোঁজে ছুটে আসেন। দেখতে দেখতে পুরো কাঠের ভবনটি আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের পর পর তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও পদদলনের ঘটনা। স্থানীয় নেতা প্যাট্রিস বুদুগে জানান, আগুনের ভয়াবহতায় শিশুরা হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে একে অপরকে মাড়িয়ে যায়। এতে অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় শুধু স্কুলই নয়, আশপাশের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক হিসাবে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে এবং মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।  পরবর্তীতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ (M23) এক বিবৃতিতে জানাই, এ ঘটনায় ১৯ জন মেয়ে ও ৫ জন ছেলেসহ মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে বর্তমানে ২৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিকটস্থ একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, আমাদের এখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই চারজন এবং হাসপাতালে আনার পর ১০ জনের মৃত্যু হয়। নিহত ১৪ জন শিশুর সবার বয়সই ১০ বছরের নিচে। এ ছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও ২৭ জনকে শহরের অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কঙ্গোর এই পূর্বাঞ্চলীয় শহর বুকাভু পাহাড়ঘেরা এবং এখানকার অধিকাংশ ঘরবাড়ি কাঠ দিয়ে তৈরি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে এখানে প্রায়ই মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।  এর আগে গত অক্টোবরেও এক অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু। শহরটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার তীব্র ঘাটতি থাকায় সহজেই এসব আগুন মারাত্মক আকার ধারণ করে। আরটিভি/এসআর
কঙ্গোয় স্কুলে আগুন, শিশুসহ নিহত ২৪
আরও পড়ুন
কায়রোর আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
মিশরে বাস উল্টে ২২ জনের মৃত্যু
বিশ্বকাপ সাফল্যের পর পুরস্কার পেলেন মিশর কোচ হোসাম হাসান
মিশরের আকাশে শুক্রবার দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণের বিরল দৃশ্য