ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সরকারবিরোধী বিক্ষোভকালে গ্রেপ্তার সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হাজারো বিক্ষোভকারীর একজন এরফান সোলতানি। ফাইল ছবি

ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত তরুণ এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে দেশটির সরকার।

সোলতানির পরিবারের সদস্য এবং নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও-এর বরাত দিয়ে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।

২৬ বছর বয়সী তরুণ এরফান সোলায়মানি পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। রাজধানী তেহরানের শহরতলী এলাকা কারাজে তার বাসা। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার অভিযোগে গত ৮ জানুয়ারি কারাজে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। তারপর মাত্র তিন দিনের বিচারের ভিত্তিতে তাকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়।

আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় সোলতানির পরিবারের কোনো স্বজন কিংবা বন্ধুকে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের বরাতে জানা গেছে, সোলতানির বোন একজন নিবন্ধিত ও পেশাদার আইনজীবী। তিনিও থাকতে পারেননি। গতকাল বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল।

সোলতানির আত্মীয় সোমায়েহ নামের এক নারী সিএনএনকে বলেছেন, খবর পেয়েছি যে সোলতানির দণ্ড কার্যকর হয়নি। তবে, তার দণ্ড এখন পর্যন্ত বাতিলও হয়নি। আমরা আরও তথ্যের অপেক্ষায় আছি।”

পরে মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও এক প্রতিবেদনে জানায় যে সোলতানির মৃত্যুদন্ড স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে এক মত বিনিময়সভায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ হয়েছে। বিক্ষোভকালে আটক কিংবা গ্রেপ্তারদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনাও স্থগিত রেখেছে ইরান। আমরা নির্ভরযোগ্য কর্তৃপক্ষ থেকে এ তথ্যের নিশ্চয়তা পেয়েছি।

আরও পড়ুন

এর আগের দিন মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনতাকে ইরানের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার নির্দেশনা দিয়ে সেই বার্তায় ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে বিক্ষোভ দমন করতে নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে। এসব নির্বোধ হত্যা যতদিন না বন্ধ হয়, ততদিন পর্যন্ত ইরানের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আমি বৈঠক করব না।

এছাড়া, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে বলেও ওইদিন হুঁশিয়ার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই ‘খুব কঠোর ব্যবস্থা’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক হামলা এবং ২০১৯ সালে ইসলামিক স্টেটের তৎকালীন নেতা আবু বকর আল-বাগদাদিকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক আকারে সরকার পতনের আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও ততো তীব্র হচ্ছে।

বড় ধরনের এ আন্দোলন-বিক্ষোভ ওঠার প্রাথমিক কারণ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি। বছরের পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।

জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ।

এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।

এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের বিভিন্ন সরকারি ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এমনকি ইরানের জাতীয় পতাকাও ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায় বিক্ষোভে। সরকার পতনের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুও চাওয়া হয় বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে।

এ অবস্থায় বিক্ষোভরত জনতাকে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। তেহরান বারবার দাবি করে আসছে, এ বিক্ষোভের পেছনে সরাসরি মদদ আছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদও ইরানের এ বিক্ষোভে নিজেদের হাত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে ইরান, সেইসঙ্গে দেশজুড়ে পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনীকে। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সংঘাতে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করছে পশ্চিমা বিভিন্ন মিডিয়া ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
১২ বছরের অপেক্ষার পর অন্তঃসত্ত্বা, যমজ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু
দীর্ঘ একযুগ অপেক্ষার পর যমজ সন্তানের মা হয়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারওয়া আহমেদ আল আমিন বখিত। কিন্তু সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান ৩৬ বছর বয়সী এই নারী।  গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর আজমানের একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মারওয়ার যমজ ছেলে ফাহদ ও ফাহেদের জন্ম হয়। প্রথম সন্তানকে কোলে নেওয়ার সুযোগ পেলেও দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় জটিলতা দেখা দেয়। পরে হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যাসহ গুরুতর শারীরিক জটিলতায় তার মৃত্যু হয়। মারওয়ার স্বামী ওসমান আহমেদ মোহাম্মদ আল মাক্কি জানান, সন্তান জন্মের আগে স্ত্রীকে সুস্থ মনে হয়েছিল। হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে হারাতে হয়। মাকে হারানো দুই নবজাতকের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা, তখন পাশে দাঁড়িয়েছে দুবাই পুলিশ। মৃত মারওয়ার স্বামী ও ছোট বোনকে চাকরির প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।  জন্মের পর দুই শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের খালা। আবুধাবিতে নিজের পাঁচ সন্তানের সঙ্গে এখন এই দুই নবজাতককেও লালনপালন করছেন তিনি। আজমানে থাকা বাবা কয়েক দিন পরপর সন্তানদের দেখতে যান। মারওয়ার পরিবার ও দুবাই পুলিশের সম্পর্ক প্রায় পাঁচ দশকের। ১৯৭৯ সালে তার বাবা পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে বাবার মৃত্যুর পর পরিবারকে সহায়তা করতে ১৯৯৩ সালে তার মাকেও চাকরি দেয় পুলিশ। পরে ক্যানসারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়।  ২০১৬ সালে মায়ের মৃত্যুর পর মারওয়া নিজেই দুবাই পুলিশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগ দেন এবং পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীতে পরিণত হন। এবার স্বামী ও ছোট বোনকে চাকরির প্রস্তাব দিয়ে পরিবারটির আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে দুবাই পুলিশ।  সংস্থাটির সদস্যরা হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা, দাফন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কাজেও সহায়তা করেছেন। মারওয়ার স্বামীর ভাষ্য, শোকের এই সময়ে দুবাই পুলিশের সহায়তা তাদের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। আরটিভি/এসআর  
১২ বছরের অপেক্ষার পর অন্তঃসত্ত্বা, যমজ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু
জর্ডানে গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৭
জর্ডানের মধ্যাঞ্চলে একটি গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন। 
জর্ডানে গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ৭
রিয়াদের দিকে ছোড়া হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করল সৌদি আরব
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে হুথি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। 
রিয়াদের দিকে ছোড়া হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করল সৌদি আরব
জুমার নামাজ থেকে আল-আকসার খতিবকে তুলে নিয়ে গেল দখলদার বাহিনী
জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা খতিব শেখ খালেদ আবু জুমআকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে।
জুমার নামাজ থেকে আল-আকসার খতিবকে তুলে নিয়ে গেল দখলদার বাহিনী
ট্রাম্পের ভয়ংকর ইঙ্গিত, আবারও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শঙ্কা
ইরানে নতুন করে হামলা শুরুর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ অবস্থায় অচিরেই আরেকটি বড় যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। 
ট্রাম্পের ভয়ংকর ইঙ্গিত, আবারও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শঙ্কা
আরও পড়ুন
৪২ বাইসাইকেল ও অটোরিকশাসহ গ্রেপ্তার ২
দাম্মাম-রিয়াদগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত
রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত
বিয়ের ৬ দিনের মাথায় নববধূর মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি গ্রেপ্তার