ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের পর যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট কোন দেশ, জানালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

ইরানে ইসলামি শাসনতন্ত্রের পতনের জন্য বেপরোয়া হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম ধাক্কায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার পরিবারসহ হত্যার পর এবার দেশটির সম্ভাব্য সব নেতাকেই হত্যার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ংকর আগ্রাসনের সামনেও পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দিয়েছে ইরান। সমানতালে পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে দেশটি। ফলে, যতটা সহজে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন বলে ভেবেছিলেন ট্রাম্প, সেটা তেমন হচ্ছে না।

দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়েই লড়াই করে যাচ্ছে ইরান। এ অবস্থায় এ মুহূর্তে নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ ইরানের ওপর রাখতে চাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, ইরানের সরকার উৎখাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী টার্গেট কোন দেশ, সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। খবর সিএনএনের।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সেই পরবর্তী টার্গেটের নাম কিউবা। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে সিএনএনকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, কিউবার খুব শীঘ্রই পতন হতে যাচ্ছে। তবে, বর্তমানে ইরান আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। আমাদের হাতে প্রচুর সময় আছে।

তিনি বলেন, কিউবা একটি চুক্তি করতে চায়, তাই আমি মার্কোকে (রুবিও) সেখানে নিযুক্ত করতে যাচ্ছি এবং দেখব তা কীভাবে কাজ করে। এটি সরাসরি সম্পর্কিত নয়, তবে কিউবারও পতন হবে।

আরও পড়ুন

সিএনএনের ডানা ব্যাশের সঙ্গে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন সামরিক সাফল্যের গুণগান গাওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, আমি গত ৫০ বছর ধরে এটি লক্ষ্য করছি, এবং আমার কারণেই এটি এখন আমার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এটি পতন হয়েছে এবং সরাসরি আমার কোলেই পড়েছে। আর আমরা খুব ভালো করছি।

এর আগের দিন হোয়াইট হাউসে তিনি বলেছিলেন, আমেরিকান কিউবানরা তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে পারাটা এখন কেবল সময়ের প্রশ্ন।

নিজের পররাষ্ট্র সচিবের কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, সে দারুণ কাজ করছে। তোমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হবে সেই বিশেষ কিউবা। সে অপেক্ষা করছে। কিন্তু সে বলেছে—আসুন আগে ইরানের ইস্যু শেষ করি। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পর এটিই প্রশাসনের পরবর্তী এজেন্ডা হতে যাচ্ছে।

সিএনএনকে তিনি আরও বলেন, আমরা চাইলে সব কাজ একসঙ্গেই করতে পারতাম, কিন্তু তাতে খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে। আপনি যদি বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন দেশের দিকে লক্ষ্য করেন তবে দেখবেন, সবকিছু খুব দ্রুত করতে গেলে খারাপ কিছু ঘটে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে খারাপ কিছু ঘটতে দেব না।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। নয়দিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

এ অবস্থার মধ্যেই ইরানের ওপর আরও ভয়ংকর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর হামলা চালানোর জন্য নতুন মার্কিন স্থাপনা খুঁজছে ইরানও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ইরানের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিস্তৃতি এবং সরাসরি তাদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এ কারণে ইরান এখন আমেরিকান অঞ্চল, বাহিনী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনা করবে। যেগুলো এখনও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে হামলা চালানো হবে।

এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান। আর নতুন দফায় এসে প্রথমবারের মতো ঘোষণা দিয়ে হাইপারসনিক মিসাইলও ব্যবহার করেছে দেশটি।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ। 
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ
পঞ্চাশ বছর পর আবারও ইরানের আকাশে অজ্ঞাত উড়ন্তযান, গভীর রহস্য
হঠাৎ ইরানের আকাশে অজ্ঞাত উড়ন্তযান দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে এর ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উজ্জ্বল আলোকিত একটি বস্তু তেহরানের আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে এবং ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।
পঞ্চাশ বছর পর আবারও ইরানের আকাশে অজ্ঞাত উড়ন্তযান, গভীর রহস্য
ঢাকা থেকে বিপুল মাদক নিয়ে কুয়েত বিমানবন্দরে ধরা বাংলাদেশি
বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে যাওয়া এক বাংলাদেশি যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করেছে দেশটির কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৫-এ তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরব টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক যাত্রীর কাছ থেকে ৪ কেজি ৭৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩১৯ দশমিক ৩ গ্রাম মেথঅ্যামফিটামিন এবং ৬ হাজার ২১১টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদক জব্দের পর আটক ব্যক্তিকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রয়েছে কুয়েত সরকারের। দেশটির বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে মাদক চোরাচালান ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এর আগেও মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে কুয়েতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বিমানে এত বড় মাদকের চালান কীভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও স্ক্যানিং ব্যবস্থা পেরিয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশি সুমন চৌধুরী বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও তল্লাশি প্রক্রিয়া পেরিয়ে এত বড় চালান দেশের বাইরে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় কোনো কর্মকর্তা বা চক্র জড়িত কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ ও কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও তদন্ত বা বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি। আরটিভি/এসকে
ঢাকা থেকে বিপুল মাদক নিয়ে কুয়েত বিমানবন্দরে ধরা বাংলাদেশি
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
টানা কয়েক দফা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোরে ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বরের ফিউচার প্রতি ব্যারেলে ২২ সেন্ট বা দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ১০০ দশমিক ৫৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের অক্টোবরের চুক্তির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে। দিনের শুরুতে এ চুক্তির দাম ২ সেন্ট বা দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৮০ ডলারে ওঠে। এদিকে বাজারে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া নভেম্বরের ডব্লিউটিআই চুক্তির দামও বেড়েছে। এ চুক্তির দাম ১৩ সেন্ট বা দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক তৎপরতার সম্ভাব্য অগ্রগতি আগামী দিনে তেলের দামের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: রয়টার্স আরটিভি/এসকে
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শায়খ ইবরাহিম আল-মাদানির মৃত্যু 
পবিত্র মসজিদুল হারামের সুপরিচিত মুয়াজ্জিন শায়খ ইবরাহিম বিন আদেল আল-মাদানি আর নেই। 
মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শায়খ ইবরাহিম আল-মাদানির মৃত্যু 
আরও পড়ুন
গাজা নিয়ে ট্রাম্পকে তুলোধুনো ম্যাক্রোঁর 
মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানের সাক্ষাৎ
ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময়
আইসিসির সব সদস্যকে পদত্যাগের আহ্বান ট্রাম্পের