
ফলপ্রসূ আলোচনা ছাড়াই শেষ হয়ে গেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ। ফলে, নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে উত্তেজনা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে একের পর এক হুমকি-ধমকি বিনিময় চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়ংকর এক হুমকি দিয়ে বসেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ফাদা হোসেইন মালেকি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে ইরানও সমপর্যায়ের অস্ত্র দিয়ে তার পাল্টা জবাব দেবে।
ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র— এমন একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। খবর আনাদোলু এজেন্সির
মার্কিন পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনাকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন, স্থানীয় গণমাধ্যমের এমন এক প্রশ্নের জবাবে মালেকি বলেন, ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের সম্ভাবনা আমি উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে আমি মনে করি না, তিনি এমন কিছু করার সাহস করবেন। কারণ, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বকে একটি বিপজ্জনক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এসময় তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, এর অর্থ কি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পারমাণবিক হামলা চালালে ইরানও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে? জবাবে মালেকি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে অস্ত্রই ব্যবহার করুক, ইরান তার পাল্টা জবাব সেভাবেই দেবে।
তবে, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের এই সদস্য। ওয়াশিংটনকে সামরিক পদক্ষেপের ব্যাপারে সতর্ক করে তিনি বলেন, ইরানের হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো পদক্ষেপের জবাব সমপর্যায়ে বা তার চেয়েও বেশি মাত্রায় দেওয়া হতে পারে।
মালেকি বলেন, তেহরান এখন কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই; বরং সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ নীতিতে চলে গেছে। ইরানের অনেক অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, মেহের নিউজ এজেন্সির এক খবরে বলা হয়, ইরানের পরমাণু শিল্পের অগ্রগতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) উপ-প্রধান মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি। শত্রুপক্ষ ইরানের পারমাণবিক শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা চালালেও দেশটি দৃঢ়তার সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পথ অব্যাহত রাখবে।
ইজাদি বলেন, শত্রুপক্ষ ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত ও বিভক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে সংঘাতে নেমেছিল। কিন্তু ইরানের পারমাণবিক শিল্পে প্রবেশের চেষ্টাসহ সব ক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থ হয়েছে।
ইজাদি জোর দিয়ে বলেছেন, আমরা দেশের পারমাণবিক, বৈজ্ঞানিক ও উন্নয়নের পথ দক্ষতার সঙ্গে অব্যাহত রাখব।
এর আগে, গত ২৪ জুলাই ইরানের পরমাণু ইস্যুতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। এতে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির তুলনায় মোজতবা খামেনি আরও বেশি আগ্রহী।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের শুরুর দিনগুলোতে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনা তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসকে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও জানান, মোজতবা খামেনির সঙ্গে ইরানের অন্যান্য কর্মকর্তাদের যোগাযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। কারণ, আরও বিমান হামলায় লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।
আরটিভি/এসএইচএম


