
লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ যাকার দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি বিদ্রোহীরা। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এসময় হুথিরা ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক, ইসরাইলের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রকেট হামলার পর সেখানে একযোগে স্থল অভিযান চালিয়ে দ্বীপটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথিরা। নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হুথি সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেন। দ্বীপটির পাশাপাশি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের সামরিক অগ্রযাত্রাও অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিজেদের দখলে নেওয়ার দাবি করে হুথি বাহিনী। ইয়েমেনের সরকারি সামরিক সূত্রগুলোও খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিশ্লেষকদের মতে, যাকার দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হুথিদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় এ দ্বীপের কাছাকাছি হানিশ দ্বীপপুঞ্জ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির অবস্থান। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ। বিশ্বের মোট তেল ও বাণিজ্যিক পণ্যের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। হুথিরা যদি উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারে, তবে এই বৈশ্বিক নৌপথ পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও হুথি বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। একই সাথে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
সংঘাত তীব্র রূপ নেওয়ায় ইয়েমেনের সার্বিক মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এএফপির হিসাব অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহের লড়াইয়ে অন্তত ৫০০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। এ ছাড়া গৃহহীন হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়েছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
আরটিভি/এআর


