লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ০৯:১৬ এএম


লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আগুন
লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আগুন; দায় নিল হুথিরা । ছবি: সংগৃহীত

লোহিত সাগরে সৌদি পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন লাগলেও এতে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। 

বুধবার (২২ জুলাই) সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এবং যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য তদারকি সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, সৌদি মালিকানাধীন এনসেলিয়া নামের তেলবাহী জাহাজটি লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলের সময় হামলার শিকার হয়। সৌদি গণপরিবহন কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, হামলায় জাহাজটির সামনের অংশে আগুন ধরে যায়।

ওই কর্মকর্তা জানান, জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাহাজ এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য তদারকি সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার (২০ জুলাই) সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর ছাড়ার পর লোহিত সাগরে আল শোকাইয়ার প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানে। এতে জাহাজে আগুন লাগে। পরে নাবিকেরা নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন

সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, জাহাজটির ডান পাশে আঘাত লাগে। তবে এতে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করে। তাদের দাবি, সৌদি বন্দর অবরোধ অমান্য করায় সৌদি মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।

হুথিদের দাবি, এনসেলিয়া ছাড়াও লায়লা নামের বাহরি মালিকানাধীন একটি অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজেও ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে এবং সেখানে আগুন লাগে। তবে দ্বিতীয় হামলার বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০০৭ সালে নির্মিত লায়লা জাহাজটি সর্বশেষ ১৭ জুলাই স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানিয়েছিল। তখন সেটি এনসেলিয়ার বর্তমান অবস্থানের পশ্চিমে ছিল।

সোমবার (২০ জুলাই) হুথিরা সৌদি আরবের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দেয়। পরদিন তাদের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র বিভিন্ন জাহাজ কোম্পানিকে ই-মেইল পাঠিয়ে জানায়, সৌদি বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। এমন জাহাজ ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার মধ্যে যেকোনো স্থানে হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

হুথিদের ভাষ্য, সম্প্রতি সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি হামলা এবং দুই পক্ষের দীর্ঘ ১২ বছরের সংঘাতের জবাব হিসেবেই এই অবরোধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই হুমকির পর ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল বহনকারী বা সৌদি আরবের দিকে যাওয়া কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ মাঝপথ থেকেই তাদের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে হরমুজ প্রণালিতে সংকট তৈরি হওয়ায় সৌদি আরব এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে ইয়ানবু বন্দরে এনে লোহিত সাগর দিয়ে রপ্তানি করছে। ইরান-সংকট শুরুর পর এই পথে তেল পরিবহনের পরিমাণ প্রায় চার গুণ বেড়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে গাজায় হামাসের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। এর ফলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে লোহিত সাগর হয়ে চলাচলকারী অনেক জাহাজকে দীর্ঘ উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের সর্বশেষ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া হামলার ঘটনা ঘটেছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। তখন নেদারল্যান্ডসের পতাকাবাহী শুষ্ক পণ্যবাহী জাহাজ মিনার্ভাগ্রাখট হামলার শিকার হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission