ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বেলুচিস্তানে হামলা-পাল্টা হামলা, ৫ নিরাপত্তা সদস্যসহ নিহত ২৭

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে কাস্টমস হাউসে হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর দুই কর্মকর্তাসহ পাঁচ সদস্য এবং কাস্টমস বিভাগের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রদেশটির বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ২১ সদস্য নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর।

আইএসপিআরের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত চাগাই জেলার নোকচা এবং পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রসে একাধিক ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর জবাবে ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ ও ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর ২১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে এবং বেলুচিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে উল্লেখ করে। পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতার পেছনে ভারতের ভূমিকা তুলে ধরতেই বেলুচিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোকে এ নামে অভিহিত করা হয়।

আইএসপিআর বিবৃতিতে উল্লেখ করে, ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে ফিতনা আল-খাওয়ারিজের সন্ত্রাসীরা কাস্টমস হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করে সমন্বিত হামলা চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী কার্যকরভাবে জবাব দেয় এবং তীব্র গোলাগুলির পর ১০ সন্ত্রাসীকে হত্যা করে।

আইএসপিআর আরও জানায়, পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদেরও নিরাপত্তা বাহিনী মোকাবিলা করে। এতে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গোলাগুলির সময় দুই কর্মকর্তাসহ ছয়জন সাহসী সন্তান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেন এবং শাহাদাতবরণ করেন। তাদের মধ্যে কাস্টমস বিভাগের একজন সরকারি কর্মকর্তাও ছিলেন।

আইএসপিআর বলেছে, আশপাশের এলাকায় অব্যাহতভাবে তল্লাশি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলছে। অবশিষ্ট সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা এবং স্থানীয় জনগণ ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এসব অভিযানের লক্ষ্য।

এদিকে রোববার ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সন্ত্রাসীরা চাগাই এলাকায় এন-৪০ কুয়েটা-তাফতান মহাসড়কে যাত্রীদের শান্তিপূর্ণ চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করে। তারা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশে সেখানে একটি অবৈধ তল্লাশিচৌকি স্থাপন করেছিল বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেয় এবং তীব্র গোলাগুলির পর ১১ সন্ত্রাসী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে, সোমবার চাগাই এলাকায় রেকো ডিক তামা ও স্বর্ণ প্রকল্পের যানবহরের ওপর হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ১২ সন্ত্রাসীকে হত্যা করে। একই দিনে ওয়াশুক জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে আরও দুই সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাদির বাড়ি থেকে শটগান এনে স্কুলের সামনে গুলি ছুড়ল শিক্ষার্থী, আহত ১১
তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এক বন্দুকধারীর চালানো গুলিতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে মানিসা প্রদেশের তুরগুতলু জেলায় এ ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে আটক করেছে পুলিশ বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে। মানিসা প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, তুরগুতলু জেলার একটি ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল হাইস্কুলের সামনে এ হামলা হয়। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম হাবেরতুর্ক জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী ইনচি উজমেজ ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল আনাতোলিয়ান হাইস্কুল নামে ওই স্কুলেরই শিক্ষার্থী। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সে তার দাদির বাড়ি থেকে নেওয়া একটি শটগান নিয়ে স্কুলের সামনে আসে। এরপর আশপাশে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পায়ে হেঁটে পালানোর চেষ্টা করে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে একজনকে স্কুলের কাছের একটি সড়কে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা গেছে। অন্য কয়েকটি ভিডিওতে তাকে অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক বলেন, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিচারমন্ত্রী গুরলেক আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তে দুজন প্রধান কৌঁসুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্কুলে ওই শিক্ষার্থীকে হয়রানি বা নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তদন্ত করা হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মা-বাবা এবং তার দাদাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অস্ত্রটির মালিক ছিলেন ওই দাদা। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা দ্রুত স্কুলে ছুটে যান। তবে পুলিশ স্কুল ভবনে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিলে অভিভাবকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা বাগ্‌বিতণ্ডা হয় বলে তুরস্কের সংবাদপত্র জুমহুরিয়েত জানিয়েছে। ঘটনার পর তুরস্কের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই ঘটনায় ‘আমাদের জাতি এবং বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনের মানুষ গভীরভাবে মর্মাহত’। ঘটনা তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনজন জাতীয় পর্যায়ের তদন্তকারীকে মানিসায় পাঠানো হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। চলতি বছর তুরস্কে আরও দুটি স্কুলে গুলির ঘটনার কয়েক মাস পর এই হামলা হলো। গত সপ্তাহে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় দেশটির সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা বাড়িয়েছিল। এপ্রিল মাসে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সানলিউরফা প্রদেশের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে সাবেক এক শিক্ষার্থী গুলি চালায়। এতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীসহ ১৬ জন আহত হন। পরে ওই হামলাকারী আত্মহত্যা করে। এর পরদিন কাছের কাহরামানমারাশ প্রদেশের একটি স্কুলের দুটি শ্রেণিকক্ষে গুলি চালায় ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। এতে আটজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হন। আহত হন আরও ১৩ জন। পরে পুলিশের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হয়। আরটিভি/এসআর
দাদির বাড়ি থেকে শটগান এনে স্কুলের সামনে গুলি ছুড়ল শিক্ষার্থী, আহত ১১
এশিয়ায় আলাদা নতুন মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা!
থাইল্যান্ডের মুসলিম অধ্যুষিত (মালয় ভাষী) দক্ষিণাঞ্চলের আলাদা স্বাধীন ইসলামিক দেশ না গড়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)’।  সম্প্রতি বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক  সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন দলটির প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র নিকামাতুল্লাহ সেরি। তিনি জানান, যতদিন আমাদের লক্ষ্য অর্জিত না হচ্ছে, আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। সময় শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত লড়াই চলবে। ১৯৬০ সাল থেকে থাইল্যান্ডের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে ইসলামিক দেশ গঠনের জন্য লড়ে যাচ্ছে বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনালের যোদ্ধারা। মাঝে এটি থেমে গেলেও ২০০৪ সাল থেকে তারা নতুন করে আবারও লড়াই শুরু করেন। তাদের থামাতে ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় থাইল্যান্ড বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনালের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা থমকে গেছে। বিশেষ করে গত জুলাইয়ে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা বাতিল করে ব্যাংকক সরকার। ওই সময় মুসলিম অঞ্চলটিতে পাঁচ থাই নাগরিক নিহত হন। এতে করে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালামপুরের একটি হোটেলে বসে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে নিকামাতুল্লাহ আরও বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য একই রয়ে গেছে। সেটি হলো স্বাধীনতার দাবি। থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে আগে মালয়-মুসলিম পাতানি সুলতানাতের শাসন ছিল। তবে ১৯০০ সালের শুরুর দিকে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ড এ অঞ্চলটি অধিগ্রহণ করে। ওই সময় থাইল্যান্ডের নাম ছিল সিয়াম। ২০০৪ সাল থেকে এই স্বাধীনতা সংগ্রামে ৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যারমধ্যে স্থানীয় যোদ্ধা, দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক মানুষ রয়েছেন। সম্প্রতি সেখানে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে নিকামাতুল্লাহ এর পেছনে তার দলের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেননি আবার প্রত্যাখ্যানও করেননি। নিকামাতুল্লাহ বলেছেন, তারা দক্ষিণাঞ্চলে আলাদা স্বাধীন দেশ করে সেখানকার রাজনৈতিক ক্ষমতা চান। এরপর সেখানে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করা হবে। যা শুধুমাত্র মুসলিমদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। এরপর ১০ বছর পর গণতান্ত্রিক উপায়ে নেতৃত্ব বাছাইয়ের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। নিকামাতুল্লাহ বলেন, আমরা রাজনৈতিক ক্ষমতা চাই। আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে (মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী চারটি প্রদেশ) সরকার চালাতে দেওয়া উচিত। এটি শরিয়াহ পুলিশ ও আদালত দিয়ে চলবে। তবে শুধুমাত্র মুসলিমদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে। আরটিভি/এসআর
এশিয়ায় আলাদা নতুন মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা!
টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডব: নিহত ২, বিদ্যুৎহীন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ
প্রবল শক্তি নিয়ে জাপানে আঘাত হেনেছে টাইফুন দুজুয়ান। শক্তিশালী এই ঝড়ে এখন পর্যন্ত দুজন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও চারজন।
টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডব: নিহত ২, বিদ্যুৎহীন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ
জাপানের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন ‘দুজুয়ান’, বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা
জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে দ্রুত ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘দুজুয়ান’।
জাপানের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন ‘দুজুয়ান’, বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা
পানির ৩৩ ফুট গভীরেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল চীনা সোলার প্যানেল
সমুদ্রের পানির ১০ মিটার বা প্রায় ৩৩ ফুট গভীরেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের দাবি, পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।
পানির ৩৩ ফুট গভীরেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল চীনা সোলার প্যানেল