ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে বিপুল স্বর্ণ-রুপা মজুতের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে স্বর্ণ ও রুপার মজুতের সন্ধানে চীনা গবেষকদের অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রুপার মজুতের সন্ধান পেয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের দাবি, সেখানে স্বর্ণ ও রুপার ঘনত্ব এত বেশি যে এমন মজুত অত্যন্ত বিরল। তাদের ধারণা, এই খনিজভান্ডারের অর্থনৈতিক মূল্যও অনেক বেশি।

উইয়ন নিউজ বলছে, চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চিংদাও সামুদ্রিক ভূতত্ত্ব গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সাংহাই চিয়াও থং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ অভিযানে এই সন্ধান পাওয়া যায়। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি এলাকায় সমুদ্রতলের উত্তপ্ত খনিজসমৃদ্ধ তরল নির্গমনের অঞ্চলে এসব মজুতের সন্ধান মিলেছে।

গবেষকেরা সমুদ্রতলে শঙ্কু আকৃতির তিনটি বড় খনিজ স্তর খুঁজে পেয়েছেন। এগুলো মূলত উত্তপ্ত তরল থেকে তৈরি সালফাইডের স্তর। সাধারণত এসব স্তরে তামা, দস্তা ও সিসার পাশাপাশি অল্প পরিমাণে স্বর্ণ ও রুপা থাকে। তবে এবারের নমুনায় মূল্যবান এই দুই ধাতুর পরিমাণ অন্য ধাতুর তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া গেছে।

কিছু নমুনায় স্থলভাগের আকরিকের তুলনায়ও বেশি স্বর্ণ ও রুপার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি মার্কিন শর্ট টন আকরিকে স্বর্ণের ঘনত্ব সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৪৫ ট্রয় আউন্স এবং রুপার ঘনত্ব ৩৬ দশমিক ৩ ট্রয় আউন্স পর্যন্ত।

আবার কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিকে স্বর্ণের পরিমাণ ১৫ দশমিক ৪ গ্রাম এবং রুপা ১ হাজার ২৭১ গ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

গবেষণা দলের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী সং শিজি বলেন, বিশাল এই সমুদ্রতলের খনিজ এলাকার ‘অত্যন্ত উচ্চ অর্থনৈতিক মূল্য’ রয়েছে। গবেষকদের মতে, ওই অঞ্চলে থাকা বহু ধাতব সালফাইডের সম্ভাব্য মজুত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় খনিজ মজুতগুলোর সমপর্যায়ের হতে পারে।

গত ১০ আগস্ট চীনের শেনজেন থেকে গবেষণা জাহাজ ‘শিয়াং ইয়াং হং ১০’-এ ১৮ দিনের অভিযান শুরু করেন গবেষকেরা। অভিযানের সময় বিশেষ ডুবযান ব্যবহার করে সাতবার সমুদ্রতলে নামেন তারা।

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি পশ্চাৎ-ধনুক অববাহিকায় অভিযান চালিয়ে গবেষকেরা এই বিশাল উত্তপ্ত খনিজ নির্গমন এলাকার সন্ধান পান।

সামুদ্রিক চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় গবেষণা জাহাজটি তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্ব এবং ফিলিপাইনের উত্তরের জলসীমা দিয়ে চলাচল করেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খনিজের সন্ধান পাওয়া অববাহিকাটি চীনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। তবে ওই এলাকার সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।

সমুদ্রের তলদেশ থেকে এ ধরনের খনিজ উত্তোলন নিয়ে অবশ্য আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক রয়েছে। পরিবেশগত প্রভাব ও গভীর সমুদ্রে খননের ঝুঁকি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সমুদ্রের নিচে বিশাল সোনার খনির সন্ধান চীনা বিজ্ঞানীদের
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর সমুদ্রে বিশাল এক খনিজ ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছেন চীনের একদল বিজ্ঞানী। নতুন আবিষ্কৃত এই এলাকায় স্বর্ণ ও রূপার উপস্থিতি স্থলভাগের অনেক খনির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
সমুদ্রের নিচে বিশাল সোনার খনির সন্ধান চীনা বিজ্ঞানীদের
হংকংয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, মাসে মিলবে ৫৪ লাখ টাকা
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিম ২০২৭-এর আবেদন শুরু হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করতে কোনো ফি দিতে হবে না।
হংকংয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, মাসে মিলবে ৫৪ লাখ টাকা
একজন শিক্ষার্থীর জন্য দৈনিক ৫ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যান শিক্ষক
প্রতিদিন সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে শিক্ষার্থীদের আগে ছুটতে থাকেন শিক্ষকেরা। বেশির ভাগ শিক্ষক যখন গাড়ি বা গণপরিবহনে করে বিদ্যালয়ে যান, তখন ৫৫ বছর বয়সী জীবন মিথারিকে বেছে নিতে হয় ভিন্ন এক পথ।
একজন শিক্ষার্থীর জন্য দৈনিক ৫ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যান শিক্ষক
খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে বনকর্মীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল চিতাবাঘ
নেপালের ধুং খোলা এলাকা থেকে উদ্ধার করা একটি চিতাবাঘ খাঁচা ভেঙে এক বনকর্মীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলা চালিয়েছে। 
ছবি: সংগৃহীত
হদিস মিলেছে জাভা সাগরে ২৪৩ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ ফেরির
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হওয়া যাত্রীবাহী ফেরির হদিস মিলেছে। সাগরে পরিচালিত ব্যাপক উদ্ধার অভিযানে এ পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
হদিস মিলেছে জাভা সাগরে ২৪৩ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ ফেরির