
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সামরিক জান্তার চালানো এক ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় কিয়াকতাউ শহরের একটি জনবহুল পাইকারি বাজারে দুটি বোমা ফেলে জান্তার একটি যুদ্ধবিমান।
আরাকান আর্মি (এএ) জানায়, বাজার ও সংলগ্ন একটি সেতু লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ক্রেতা, বিক্রেতা ও পথচারীসহ অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫৮ জনের বেশি আহত হন। আহতের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাখাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াই হুন অং জানান, হামলার শিকার বাজারটি ছিল ওই অঞ্চলের মূল অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এটি সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইনে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলাগুলোর একটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ছড়িয়ে দেওয়া ছবিতে বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন জ্বলতে, যানবাহন ধ্বংস হতে ও সেতুর অংশ ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
বরাবরের মতোই জান্তা সরকার এই সুনির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে বেসামরিক এলাকা টার্গেট করার অভিযোগ অস্বীকার করে সামরিক বাহিনী দাবি করে আসছিল যে তারা কেবল 'সন্ত্রাসবাদী' বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বৈধ সামরিক পদক্ষেপ নেয়।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে মিয়ানমারজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় পাঁচ বছর সামরিক শাসনের পর চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক সমর্থিত সংসদের মাধ্যমে নিজেকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করেন সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং।
এদিকে রাখাইনের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াইরত সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে রাজ্যের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে। এর প্রতিশোধে জান্তা সেখানে অবরোধ আরোপ করায় চরম খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য মতে, সংঘাতের ফলে কেবল রাখাইনেই প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া সংঘাতের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির মতে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সহিংসতায় মিয়ানমারে এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
আরটিভি/এআর


