ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের কর্মকাণ্ডের বিস্তারে বদলে যাচ্ছে হিমালয়ের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পাখি মোনালের জীবনযাপন। অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন ও শব্দদূষণের কারণে পাখিটি তার স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে আরও উঁচু এলাকায় সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে যোগাযোগ বজায় রাখতে ডাকের ধরনও বদলাচ্ছে মোনাল।

ভারতীয় গবেষকদের পাঁচ বছর ধরে পরিচালিত দুটি পৃথক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, মানুষের উপস্থিতি বাড়ায় মোনালের স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক ড. রাজীব লোচন জানান, মোনালের আবাসস্থলের পরিসর তুলনামূলকভাবে ছোট। ঋতুভেদে পাখিটি পাহাড়ের নিচের ঢাল থেকে উঁচু আলপাইন অঞ্চলে চলাচল করে। এ কারণে উত্তর-পশ্চিম হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে মোনালকে বিবেচনা করা হয়।

গবেষকেরা উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মোনালের সম্ভাব্য আবাসস্থল নিয়ে একটি মডেল তৈরি করেছেন। এতে দেখা গেছে, বরফ গলার পাশাপাশি উঁচু এলাকায় গাছপালা ছড়িয়ে পড়ায় সেসব স্থান ধীরে ধীরে মোনালের জন্য উপযোগী হচ্ছে। অন্যদিকে মানুষের দখল ও কর্মকাণ্ডে নিচের আবাসস্থল হারিয়ে পাখিগুলো ওপরের দিকে সরে যাচ্ছে।

গবেষকদের আশঙ্কা, এভাবে আবাসস্থল পরিবর্তনের ফলে মোনালের ঋতুভিত্তিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট এলাকায় আটকে পড়লে তাদের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিলুপ্তির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ছবি: সংগৃহীত

অন্য গবেষণায় মোনালের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়। রাজীব লোচন, দীনেশ কুমার শর্মা ও আনন্দ কুমারের নেতৃত্বে উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মাস্ক ডিয়ার স্যাংচুয়ারির চোপতা ও মদমহেশ্বর উপত্যকায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়। চোপতা ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র হলেও মদমহেশ্বর তুলনামূলক শান্ত এলাকা।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এক বছর ধরে গবেষকেরা ৭০০টির বেশি মোনালের ডাক রেকর্ড করেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, শান্ত এলাকার তুলনায় কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে থাকা মোনাল অপেক্ষাকৃত তীক্ষ্ণ স্বরে এবং ছোট ছোট ডাকে যোগাযোগ করছে।

ড. লোচনের মতে, এতে মোনালের কণ্ঠে স্থায়ী বা বিবর্তনমূলক পরিবর্তন এসেছে—এমনটি বলা যায় না। বরং শব্দময় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পাখিগুলো আচরণগতভাবে ডাকের ধরন বদলাচ্ছে।

পরিবেশবিদ বিশাল সিং বলেন, দুটি গবেষণাই আরও অরক্ষিত প্রজাতির জন্য সতর্কবার্তা। আর ফ্লেম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও আইপিসিসি প্রতিবেদনের কন্ট্রিবিউটর আঞ্জাল প্রকাশের মতে, মানুষের শব্দ ও উপস্থিতির কারণে মোনালের কণ্ঠ ও আবাসস্থলে পরিবর্তন হিমালয়ের জীববৈচিত্র্যের ওপর বাড়তে থাকা চাপের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

গবেষণা দুটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে গবেষকদের মতে, মোনালের আবাসস্থল ও আচরণে পরিবর্তন হিমালয়ের বৃহত্তর পরিবেশগত পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি
মানুষের কর্মকাণ্ডের বিস্তারে বদলে যাচ্ছে হিমালয়ের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পাখি মোনালের জীবনযাপন। অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন ও শব্দদূষণের কারণে পাখিটি তার স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে আরও উঁচু এলাকায় সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে যোগাযোগ বজায় রাখতে ডাকের ধরনও বদলাচ্ছে মোনাল।
মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি
ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি
ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি বিড়াল চুরি করে মাংসের জন্য বিক্রির অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে বিড়াল ধরার ফাঁদ, পশম তোলার মেশিন ও ডিজিটাল স্কেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি
জাপানে হঠাৎ মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি
বুধবার (৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
জাপানে হঠাৎ মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি
ছেলের আসক্তি ছাড়াতে গিয়ে নিজেই জনপ্রিয় গেমার, তারকা খ্যাতি পেলেন বৃদ্ধা মা
ছেলের ভিডিও গেমের আসক্তি কাটাতে গিয়ে নিজেই অনলাইন গেমিং জগতের জনপ্রিয় তারকা হয়ে উঠেছেন ৬০ বছর বয়সী এক চীনা নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আন্টি জুয়ান’ নামে পরিচিত ঝোং জুয়ানজুয়ান এখন প্রতিদিন হাজারো তরুণের সামনে গেম খেলেন। দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের মেইঝৌ শহরের শহরতলিতে বসবাস করেন ঝোং। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার বছর আগে ভিডিও গেম খেলা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার গেমিং লাইভ-স্ট্রিম দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শক যুক্ত হন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা ঝোং জীবনের বিভিন্ন সময়ে সেলস ও শিশু পরিচর্যাসহ বিভিন্ন খণ্ডকালীন কাজ করেছেন। প্রায় এক দশক আগে কর্মজীবন থেকে অবসর নেন তিনি। তবে গেমিংয়ের সঙ্গে ঝোংয়ের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল অনেক আগেই ছেলের আসক্তিকে ঘিরে। প্রায় দুই দশক আগে মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় তাঁর ছেলে সোদে ভিডিও গেমে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন। এতে তার পড়াশোনায় ব্যাপক অবনতি ঘটে। ছেলেকে গেম থেকে দূরে রাখতে সে সময় প্রায়ই স্থানীয় ইন্টারনেট ক্যাফেতে ছুটে যেতেন ঝোং। কখনো কখনো সেখান থেকে ছেলেকে ধরে বাড়িতেও নিয়ে আসতেন। ২০২০ সালে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর সোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়িতে বসে গেম খেলতে শুরু করেন। গেমের প্রতি তরুণদের এমন আকর্ষণের কারণ বুঝতে এবার নিজেই গেমিংয়ের জগতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন ঝোং। মায়ের এই সিদ্ধান্তে শুরুতে অবাক হয়েছিলেন সোদে। তবে পরে ধৈর্য ধরে মাকে গেম খেলার নিয়মকানুন শেখাতে শুরু করেন তিনি। ৬০ বছর বয়সে এসে গেম শেখা অবশ্য সহজ ছিল না ঝোংয়ের জন্য। বয়সের কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং হাত-চোখের প্রতিক্রিয়ার গতি ধীর হওয়ায় শুরুতে নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। গেমের চরিত্রকে সোজা পথে হাঁটানোও তাঁর জন্য কঠিন ছিল। দেয়ালে ধাক্কা খাওয়া কিংবা ডিজিটাল সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার মতো সাধারণ বিষয়ও আয়ত্ত করতে সময় লেগেছে। তবে কোনো বাধাই তাকে থামাতে পারেনি। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গেমিংয়ে দক্ষ হয়ে ওঠেন ঝোং। ২০২২ সাল থেকে নিজের গেম খেলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ-স্ট্রিম করা শুরু করেন তিনি। সাধারণ মানের কম্পিউটার ও গেমিং সরঞ্জাম ব্যবহার করেও তার দক্ষতা নজর কাড়ে দর্শকদের। এ পর্যন্ত অনলাইন গেমে ৮ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় কাটিয়েছেন তিনি। কৌশলভিত্তিক শুটিং গেমই তার সবচেয়ে পছন্দের। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক গেমিং অঙ্গনেও পরিচিতি পান ঝোং। সে সময় জনপ্রিয় শুটিং গেম ‘কাউন্টার-স্ট্রাইক: গ্লোবাল অফেন্সিভ’ (CS)-এর একটি বিশেষ অনলাইন প্রদর্শনী ম্যাচে খেলার আমন্ত্রণ পান তিনি। ছেলের গেমিং আসক্তি ছাড়ানোর চেষ্টা থেকেই যে যাত্রার শুরু, তা আজ ঝোংকে পরিণত করেছে জনপ্রিয় গেমার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তারকায়। হাজারো তরুণ দর্শকের কাছে ‘আন্টি জুয়ান’ এখন বয়সকে হার মানানো অধ্যবসায়, ধৈর্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। আরটিভি/এসকে
ছেলের আসক্তি ছাড়াতে গিয়ে নিজেই জনপ্রিয় গেমার, তারকা খ্যাতি পেলেন বৃদ্ধা মা
ভাঙারি কুড়িয়ে চলা বৃদ্ধের ব্যাংকে ৭৭ লাখ টাকা
২১ বছর ধরে ভাঙারি কুড়িয়ে জীবন চালিয়েছেন চীনের ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। অর্থকষ্ট, ঋণ আর স্বজনদের সঙ্গে দূরত্ব সব মিলিয়ে একসময় নিজের শহর ছেড়ে অন্য শহরে চলে যান তিনি।
ভাঙারি কুড়িয়ে চলা বৃদ্ধের ব্যাংকে ৭৭ লাখ টাকা
আরও পড়ুন
মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি
নেপালে ফানটাস্টিক হেব্বি এনার্জির ‘হেব্বি অ্যাডভেঞ্চার টু হিমালয়া’, ৩ বিজয়ীর রোমাঞ্চকর অভিযান
পটুয়াখালীর চর বিজয় দ্বীপে দেখা মিললো দৃষ্টিনন্দন ভেরডিটার ফ্লাইক্যাচার পাখি
চলনবিলে অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক বক উদ্ধার, তিন শিকারির জেল-জরিমানা