
শীত আসন্ন। জলাশয়গুলোতে অতিথি পাখির আগমনের সময় ঘনিয়ে এলেও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাটেঙ্গা বিল এখনো অবৈধ দখল ও ভরাটের কবলে। বিলটি উদ্ধারের দাবিতে স্থানীয়দের একাধিকবার মানববন্ধন হলেও উপজেলা প্রশাসনের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা।
তাদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান একাধিকবার আশ্বাস দিলেও বিলটি উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নে অবস্থিত কাটেঙ্গা বিল দেশীয় ও অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। কাছাকাছি রয়েছে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও তেলছড়া বনাঞ্চল। ফলে বনাঞ্চল ও জলাশয়নির্ভর বন্যপ্রাণীর খাদ্য সংগ্রহ এবং পাখিদের বিচরণের জন্য বিলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিলের বিভিন্ন অংশ দখল করে মাটি ভরাটের মাধ্যমে কৃষিজমিতে রূপান্তর করেছে। এতে জলাশয়টির স্বাভাবিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে।
তাদের ভাষ্য, বিলটি দখলমুক্ত করার দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। গত ৮ জুন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে বিল উদ্ধারের আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে নির্দেশনা দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আন্দিউড়া মৌজার জে.এল. নম্বর ৬৭-এর ৫৩৯৮ দাগে অবস্থিত ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ১১.৪৯ একর আয়তনের কাটেঙ্গা বিল সরকারি সম্পত্তি। প্রতিবছর প্রকৃত মৎস্যজীবীদের কাছে ইজারা দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী দখলদারদের কারণে প্রায় দুই দশক ধরে কোনো মৎস্যজীবী সমিতি বিলটি ইজারা নিতে সাহস করেনি। এতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, বিষয়টি মূলত স্থানীয় প্রশাসনের এক্তিয়ারভুক্ত। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাতছড়ি সহব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, বনাঞ্চল-অধ্যুষিত এলাকার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাশয় দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা দুঃখজনক। বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাখি প্রেমিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করব।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তিনি দেখবেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নতুন যোগদান করায় বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানেন না।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিলটি দখলমুক্ত করা না হলে আসন্ন শীত মৌসুমে অতিথি পাখির নিরাপদ বিচরণ ব্যাহত হতে পারে। তাই সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার, অবৈধ দখল চিহ্নিতকরণ এবং বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।
আরটিভি/এমএইচজে


