ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

৩১ বছর বয়সেই ১২টি উচ্চতর ডিগ্রি, থামছেন না জেমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
৩১ বছর বয়সেই বিশ্বের বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন নিউজিল্যান্ডের উদ্যোক্তা জেমি বিটন। ছবি: সংগৃহীত

বয়স মাত্র ৩১ বছর। এরই মধ্যে হার্ভার্ড, ইয়েল, অক্সফোর্ড, স্ট্যানফোর্ডসহ বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১২টি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন নিউজিল্যান্ডের উদ্যোক্তা জেমি বিটন। তবে এতগুলো ডিগ্রি অর্জনের পরও থামছেন না তিনি। বর্তমানে আরও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পথে রয়েছেন।

জেমি অকল্যান্ডে বেড়ে উঠেছেন। তার অসাধারণ শিক্ষাজীবনের খবর সামনে আসে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষকের মাধ্যমে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে জেমি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিতে অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষক লিসা বেলকিন তার খোঁজ নেন।

জেমি জানান, তিনি ভুল করে শ্রেণির সময়সূচি গুলিয়ে ফেলেছিলেন। তখন তিনি নিউজিল্যান্ডে ছিলেন এবং অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যোক্তা বিষয়ে একটি কোর্স পড়াচ্ছিলেন। পরের সপ্তাহেই নিউইয়র্কে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার।

জেমির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে ওই শিক্ষক জানতে পারেন তার বিস্ময়কর শিক্ষাজীবনের কথা। ২০১৬ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক শেষ করেন জেমি। একই সময়ে প্রয়োগিক গণিত ও অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন তিনি।

এরপর স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন। পরে রোডস বৃত্তি নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জননীতি বিষয়ে পিএইচডি করেন। এসব ডিগ্রির বেশির ভাগই ২৮ বছর বয়সের আগেই অর্জন করেন তিনি।

এরপরও পড়াশোনা থামেনি। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, তিসিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কিংস কলেজ লন্ডন, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, ডার্টমাউথ কলেজ ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি নামী প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন তিনি।

জেমির শিক্ষাজীবনের বিষয়ও বেশ বৈচিত্র্যময়। গণিত, অর্থনীতি, ব্যবসা, আইন, জননীতি, অর্থব্যবস্থা, শিক্ষা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, স্বাস্থ্যনীতি ও সাংবাদিকতার মতো বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি।

সম্প্রতি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করেছেন জেমি। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল নিউজিল্যান্ডের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স, নিউ জিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি এবং দেশটির রাজনীতিতে জনতাবাদী জাতীয়তাবাদের ভবিষ্যৎ।

বর্তমানে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে আরও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি করছেন তিনি। ভারত সফরের সময়ও এই পড়াশোনার সেমিস্টার শেষের একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছিলেন জেমি।

এতগুলো ডিগ্রি অর্জনের কারণে প্রশ্ন উঠেছে, জেমি কি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত ব্যক্তি হওয়ার পথে এগোচ্ছেন?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্জামিন বোলগার ৫০ বছর বয়সে ১৬টি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আর মাইকেল নিকোলসনের ডিগ্রির সংখ্যা ৩০টির বেশি। ফলে জেমির সামনে আরও অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে পড়াশোনাই জেমির একমাত্র কাজ নয়। কিশোর বয়সেই তিনি শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রিমসন এডুকেশন প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীদের বাছাই করা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি ও আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

জেমির পেশাগত পরিচিতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। তার দীর্ঘ শিক্ষাজীবন নিয়ে নানা রসিকতা ও আলোচনা রয়েছে। এমনকি তাঁকে ‘লিংকডইনের থ্যানোস’ নামেও ডাকা হয়।

তবে জেমি জানিয়েছেন, শুধু নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিজের জীবনবৃত্তান্তে যোগ করার জন্য তিনি এতগুলো ডিগ্রি নিচ্ছেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম পাঁচটি ডিগ্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জনই ছিল মূল লক্ষ্য। এরপর থেকে নিজের বিভিন্ন আগ্রহ ও কৌতূহল অনুসরণ করেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ক্রিমসন এডুকেশনের চেয়ারম্যান ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার জন কি জেমির শিক্ষাজীবন নিয়ে রসিকতা করে তাকে দেশটির বিখ্যাত বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ডের পরেই স্থান দেওয়ার কথা বলেছেন। অবশ্য তিনি এটিও বলেন, পরমাণু বিভাজনের সঙ্গে যুক্ত রাদারফোর্ডকে এই তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া কঠিন।

জেমির ক্ষেত্রে কোনো ডিগ্রিই যেন শেষ নয়। একটি পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে যাচ্ছে আরেকটি। ফলে ভবিষ্যতে তিনি আরও কতগুলো ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত ব্যক্তিদের তালিকায় কোথায় পৌঁছান, তা নিয়েই এখন কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাজীবন শুরু করতে না করতেই চলে গেলেন ঢাবি শিক্ষার্থী
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে মাত্র তিন মাস আগে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী তাসনিম ঐশী। পার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করে নতুন জীবনের পথচলা শুরু করেছিলেন তিনি। তবে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় সেই পথচলার ইতি ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়ে আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের নাম লাবিব, ঈশিতা ও বিপুল। তারাও বাংলাদেশী বলে জানা গেছে। স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নিহত তাসনিম ঐশি গুরুতর আহত অবস্থায় গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েছিলেন এবং তাকে বাঁচানো যায়নি। তবে চালক এবং অন্য দুই যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন। যদিও দুর্ঘটনার পরপরই গাড়ির উদ্ধারের জন্য জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত কর্মীরা ছুটে যান এবং ঘটনাস্থলে একটি জরুরি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি ব্যবহার করা হয়নি। গণমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়, বিশোর্ধ্ব ঐশি যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। গাড়িতে থাকা অন্য তিনজন—যাদের মধ্যে দুজন ২১ বছর বয়সী পুরুষ, একজন চালক এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক—আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে মনে করা হচ্ছে। নিহতের সহপাঠীরা জানান, নিহত ঐশি বর্তমানে এডিথ কোওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে মাত্র তিন মাস আগে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আরটিভি/টিআর
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাজীবন শুরু করতে না করতেই চলে গেলেন ঢাবি শিক্ষার্থী
‘শেষ’ লেখা থেকে খুলল ৮০ বছরের রহস্যের জট
১৯৪৮ সালের ১ ডিসেম্বর। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড উপশহরের সোমারটন পার্ক সৈকতে হাঁটতে গিয়ে এক দম্পতি দেওয়ালের সঙ্গে পা ক্রশ করে হেলে থাকা এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পান। আগের রাতে স্থানীয়রা তাকে হাত-পা নাড়াতে দেখলেও সকালে তিনি আর বেঁচে ছিলেন না।
‘শেষ’ লেখা থেকে খুলল ৮০ বছরের রহস্যের জট
জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
কৃষি খাতের জরুরি প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে বিদেশি শ্রমিকদের ভিসা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সম্মত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
জরুরি ভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
জাতিসংঘে ওপেনএআই’র বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
আলবানিজ বলেন, ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টমানের সঙ্গে কথা বলে তিনি এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার চরম উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
জাতিসংঘে ওপেনএআই’র বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশে খুনের মামলা ধামাচাপা দিতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার ১
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলীয় নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রভাবিত করা এবং পুলিশের চূড়ান্ত নথি থেকে নিজের নাম কাটার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার ঘুষ দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ায় ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিল ও ফৌজদারি তদন্তের গতিপথ পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার আদালতে মামলা ওঠার ঘটনা এটিই প্রথম। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) নিশ্চিত করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ব্রিসবেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের রেডব্যাঙ্ক প্লেইনসের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি নিহত নারীর পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি (বাংলাদেশি) সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ বাংলাদেশে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার সূত্রপাত ঘটনাটির শুরু হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিস (কিউপিস) এএফপির কাছে একটি প্রতিবেদন হস্তান্তর করে জানায়, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এক নারী বাংলাদেশে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। রিপোর্টটি পাওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় খোঁজ শুরু হয়। তবে ঠিক তার পরদিনই বাংলাদেশ পুলিশ অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষকে জানায়, তারা বাংলাদেশে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ পুলিশের ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়, মৃত্যুটি স্বাভাবিক ছিল না এবং এটি একটি ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’। অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের বিদেশে অবস্থানকালে হত্যা, অপমৃত্যু বা গুরুতর ক্ষতির শিকার হওয়ার ঘটনাগুলোর বিচারে অস্ট্রেলিয়ার ‘ক্রিমিনাল কোড’ বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে এএফপির। এর ভিত্তিতে এএফপির বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সংস্থাটির নিজস্ব আলাদা একটি তদন্তকাজ শুরু করে, যা বাংলাদেশ পুলিশের চলমান তদন্তের পাশাপাশি আলাদাভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। দুই বছরের পরিকল্পনা ও ৯০ হাজার ডলার লেনদেন এএফপির গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে আসে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ দুই বছর ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মোট প্রায় ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ) বাংলাদেশে পাঠান। এই অর্থ পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মৃত্যুর ঘটনার মূল তদন্তকে নিজের অনুকূলে প্রভাবিত করা এবং বাংলাদেশ পুলিশের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি ও রেকর্ড থেকে তাঁর নাম পুরোপুরি বাদ দেওয়া। তদন্ত জোরদার করতে এএফপির কর্মকর্তারা সিডনি ও ব্রিসবেনের একাধিক শীর্ষস্থানীয় আর্থিক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক তল্লাশি চালান। সে সময় আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের গোপন রেকর্ড, ডিজিটাল ট্রানজেকশন তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বাজেয়াপ্ত করা হয়। দীর্ঘ দুই বছরের নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর, গতকাল (২১ সেপ্টেম্বর) কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাঙ্ক প্লেইনস এলাকার দুটি আবাসিক ভবনে একযোগে অভিযান চালায় এএফপির বিশেষ দল। অভিযানকালে ওই ৫১ বছর বয়সী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি তাঁর ঘর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ফৌজদারি কার্যবিধির ৭০.২(১) ধারায় বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অস্ট্রেলীয় আইন অনুযায়ী, এই ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। এএফপি জানিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জনে বিদেশি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার দায়ে তাদের ইতিহাসে এ ধরনের মামলা প্রথম হলেও, অপরাধটির ভয়াবহতার বিচারে এটি একটি ঐতিহাসিক আইনি দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘুষ ও দুর্নীতি দমনে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান এই তদন্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর থেকে এএফপির বৈদেশিক ঘুষ ও দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘টাস্কফোর্স সোলারিস’। এটি বহু বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ মাল্টিডিসিপ্লিনারি দল, যা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে কাজ করে। এএফপি ‘ব্রাইবারি প্রিভেনশন নেটওয়ার্ক’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এটি ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং সরকারি সংস্থার একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবসা ও সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে। ঘটনাটি নিয়ে এএফপির কমান্ডার স্টিফেন জয় এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় কিংবা বিদেশে—যেকোনো জায়গাতেই বিচারিক বা তদন্তপ্রক্রিয়াকে দুর্নীতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এএফপি এ জাতীয় কর্মকাণ্ডকে বিন্দুমাত্র সহ্য করবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিই—বিশেষ করে যখন কোনো গুরুতর অপরাধের তদন্তের ফল পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালানো হয়। যারা অর্থ দিয়ে বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে বা প্রভাব খাটাতে চাইবে, তাদের আইনগত জবাবদিহির মুখোমুখি হতেই হবে।’ কমান্ডার জয় জানান, আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে এএফপি নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। অস্ট্রেলীয় পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, নাম কাটাতে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটির বিপরীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বাংলাদেশি নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর মূল তদন্তটি এখনো শেষ হয়নি। আরটিভি/এসআর
বাংলাদেশে খুনের মামলা ধামাচাপা দিতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রেপ্তার ১