ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

নোবেলজয়ীদের কালো-সোনালি ছবি কেন আঁকা হয়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর পরই বিজয়ীদের নামের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে সংবাদমাধ্যমে চোখে পড়ে কিছু ব্যতিক্রমী পোর্ট্রেট। কালো রেখায় আঁকা মুখাবয়ব, যার ওপর থাকে ঝকঝকে সোনালি পাতের ছোঁয়া। প্রশ্ন হলো—ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কেন এমন হাতে আঁকা ছবি ব্যবহার করা হয়?

পুরস্কারের সঙ্গে এই বিশেষ পোর্ট্রেটের এক ধরনের স্বতন্ত্র সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞান, চিকিৎসা কিংবা সাহিত্যের মতো ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রের বিজয়ীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কালো রেখা ও সোনালি অলংকরণে তৈরি হয় তাদের প্রতিকৃতি। এর পেছনে রয়েছে একসময়কার বাস্তব প্রয়োজন।

নোবেলজয়ীদের অনেকেরই এমন মানসম্মত বা উপযুক্ত ছবি অনলাইনে পাওয়া যেত না, যা তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদমাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। তাই ঝাপসা কিংবা নিম্নমানের ছবি খুঁজে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। আবার উপযুক্ত ছবি না পাওয়া পর্যন্ত বিজয়ীর নাম প্রকাশও পিছিয়ে দেওয়া যেত না। কেননা বিশ্ব মিডিয়ায় একযোগে এটা ব্রেকিং সংবাদ হিসেবে প্রচারিত হয়। এই সমস্যার দ্রুত সমাধানে শিল্পী নিকলাস এলমেহেড (Niklas Elmehed) ২০১২ সালে ‘নোবেল মিডিয়া’র আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন। তিনি হাতে বিজয়ীদের পোর্ট্রেট আঁকা শুরু করেন।

এখন সময়ের সঙ্গে এই তাৎক্ষণিক সমাধানই নোবেল পুরস্কারের নিজস্ব ভিজ্যুয়াল পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। একই ধরনের চিত্রশৈলীতে বিজয়ীদের তুলে ধরার ফলে বিজ্ঞানী থেকে সাহিত্যিক—সবাই যেন একই ‘নোবেল পরিবারের’ অংশ হিসেবে দৃশ্যমান হন।

এলমেহেডের পোর্ট্রেটগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মোটা ও স্পষ্ট কালো রেখা। অতিরিক্ত শেডিং বা নানা রঙের ব্যবহার না থাকায় ছবিগুলো সংবাদমাধ্যমের গ্রাফিক্সের মতো সহজেই নজর কাড়ে। বড় সংবাদপত্রের পাতার পাশাপাশি মোবাইল ফোনের ছোট থাম্বনেলেও তাই এগুলো পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। তবে শুরু থেকেই এসব ছবিতে সোনালি রঙের ব্যবহার ছিল না। ২০১৭ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্র্যান্ড আইডেন্টিটিতে পরিবর্তন আনে। নোবেল মেডেলের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে সোনালি রঙকে প্রধান ভিজ্যুয়াল রং হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২০১৮ সাল থেকে এলমেহেড তার পোর্ট্রেটে ‘গোল্ড ফয়েল’ ব্যবহার শুরু করেন।

অনেকের ধারণা হতে পারে, ছবিগুলো হয়তো কম্পিউটার সফটওয়্যার কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি। কিন্তু বাস্তবে এগুলো পুরোপুরি হাতে আঁকা শিল্পকর্ম। সুতি বা মোটা কাগজে কালো অ্যাক্রিলিক রং ও মার্কার দিয়ে পোর্ট্রেটের আউটলাইন তৈরি করা হয়। এরপর বিশেষ আঠার সাহায্যে বসানো হয় আসল ধাতব সোনার পাত বা ‘গোল্ড ফয়েল’।

তাৎক্ষণিক নোবেল বিজয়ীদের উপযুক্ত ছবি না পাওয়ার সমস্যা সমাধানে এ উদ্যোগনি নেওয়া হয়েছিল, এখন সেটিই নোবেল পুরস্কারের একটি পরিচিত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কালো রেখা ও সোনালি পাতের এই পোর্ট্রেট বিশ্বজুড়ে বিশেষ এক ভিজ্যুয়াল সিগনেচার হিসেবে রূপ পেয়েছে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘের প্রতিবেদন / জোর করে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ রাশিয়ার
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক পাচার ও সামরিক চুক্তিতে জোর করে সই করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন। প্রতিবেদনের প্রথম অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলা চার বছরেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে। রুশ বাহিনী দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিতরণ নেটওয়ার্ক, সাবস্টেশন এবং গ্যাস স্থাপনাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। পাশাপাশি ২৯টি দেশের নাগরিকদের মিথ্যা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মতো বিষয়গুলোও প্রতিবেদনে নথিভুক্ত করা হয়েছে।  তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী ও বিভিন্ন দেশের রিক্রুটমেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতারণা ও বলপ্রয়োগ করে বিদেশি নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে ভেড়ানো হয়েছে, যা মানবপাচার ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।  এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট উদাহরণ। কমিশন বিশ্বের ৪৮টি দেশের নাগরিকদের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করে। এর মধ্যে ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে স্পষ্ট প্রতারণা ও জোরজুলুমের প্রমাণ পাওয়া গেছে।  তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো— বাংলাদেশ, জর্ডান, আজারবাইজান, বেলারুশ, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বোতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদোর, ঘানা, হন্ডুরাস, ভারত, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাজিকিস্তান, টিউনিশিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন এবং জিম্বাবুয়ে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের সকলেই ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষ। তারা মূলত আর্থ-সামাজিক দিক থেকে অনগ্রসর পরিবেশ বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে আসা। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব এবং তীব্র আর্থিক সংকটে থাকা এই মানুষদেরই প্রধান লক্ষ্যবস্তু বানায় রিক্রুটমেন্ট নেটওয়ার্কগুলো। তবে তালিকায় জর্ডানের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, সে দেশের নাগরিকদেরও প্রতারণা বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে রুশ বাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যারা জেনেশুনে ও স্বেচ্ছায় রাশিয়া বা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন, তাদের এই তদন্তের বাইরে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যে সব অবৈধ উপায়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, প্রতিবেদনটিতে কেবল সেগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/এসআর
জোর করে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ রাশিয়ার
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আন্তরিক নয়, পরমাণু অস্ত্রের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার নামে ইরানের ওপর শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আন্তরিক নয়, পরমাণু অস্ত্রের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান ইরানের
এআই দিয়ে লেখা বইয়ের জন্য নতুন সাহিত্য পুরস্কার চালু
চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনাই  দিয়ে লেখা বইয়ের জন্য নতুন একটি সাহিত্য পুরস্কার চালু করা হয়েছে। ফ্রান্সে প্রি পাস্কাল দ্য লিতেরাত্যুর আইএ নামের এই প্রতিযোগিতায় এআই প্রযুক্তির সহায়তায় যৌথভাবে লেখা পাণ্ডুলিপি আহ্বান করা হয়েছে। পুরস্কার বিজয়ীর বইটি প্রকাশের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে আয়োজকদের পক্ষ থেকে। প্রতিযোগীদের ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার শব্দের মধ্যে একটি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি জমা দিতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে লেখাটি তৈরিতে কোন এআই মডেল ও কী ধরনের প্রম্পট ব্যবহার করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্যও জানাতে হবে।  চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনাই ও লামা-র মতো প্রধান সব ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলই এতে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকেই লেখকরা এতে অংশ নিতে পারবেন, তবে পাণ্ডুলিপি অবশ্যই ফরাসি ভাষায় হতে হবে। ফরাসি বহুমুখী প্রতিভাবান পণ্ডিত ব্লেইজ পাস্কালের নামানুসারে এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে। তিনি বিশ্বের প্রথম দিককার একটি যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর উদ্ভাবনে সহায়তা করেছিলেন। এছাড়া তিনি ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো 'পঁসে'। পোপ ফ্রান্সিস বইটির 'দার্শনিক গভীরতা ও সাহিত্যিক মাধুর্যের' প্রশংসা করেছিলেন। পুরস্কারের শর্তাবলিতে ফিকশন জমা দেওয়ার কথা বলা হলেও, একটি বিশেষ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। জমা দেওয়া লেখায় এমন কিছু থাকতে হবে যা মানবজাতির জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো নৈতিক, সামাজিক বা পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে সহায়ক ভূমিকা রাখে।  পুরস্কারটি প্রবর্তন করেছেন ফিলিপ রদ্রিগেজ, আলব্যাঁ সেরভিয়ঁ ও জিল মঁত্রে। তারা তিনজনই প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা। রদ্রিগেজ ব্যবসায়িক একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাভোল্টা-র প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে তাকে 'ইউরোপীয় ক্রিপ্টো ও ব্লকচেইন শিল্পের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।  সেরভিয়ঁ একজন ডিজিটাল মিডিয়া উদ্যোক্তা ও এলজিবিটিকিউ+ বিষয়ক ম্যাগাজিন 'তেতু'-র সাবেক চেয়ারম্যান।  আর মঁত্রে একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। দর্শনে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই ব্যক্তি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও প্যারিস ১ পঁতেওঁ-সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। এছাড়া মঁত্রে অনলাইন ভোটিং প্ল্যাটফর্ম ইলেক্টিস-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। চলতি বছর বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারের চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগী ও বিজয়ীদের বিরুদ্ধে লেখায় এআই ব্যবহারের সম্ভাব্য অভিযোগ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই তীব্র বিতর্ক চলছে। এর মধ্যে কমনওয়েলথ ছোটগল্প পুরস্কার, কেইন পুরস্কার ও ফ্রান্সের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার প্রি গোঁকু-র নামও রয়েছে। এসব বিতর্কের মধ্যেই প্রি পাস্কাল চালুর ঘোষণা এলো। গত মঙ্গলবার থেকে প্রি পাস্কালের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত।  ডিসেম্বরের শুরুতে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে ১০টি বইয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হবে। পাঁচ থেকে ছয়জন লেখক, সমালোচক, সাংবাদিক, দার্শনিক ও প্রকাশকের সমন্বয়ে জুরি বোর্ড গঠন করা হবে। নভেম্বরের শুরুতেই এই বিচারকদের নাম ঘোষণা করা হবে। তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান। আরটিভি/টিআর
এআই দিয়ে লেখা বইয়ের জন্য নতুন সাহিত্য পুরস্কার চালু
বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি
গত সপ্তাহের সহিংস সংঘর্ষের পর ব্যাপক দমন-পীড়ন ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও শনিবার ইতালিতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের ঘটনায় নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৭১ জনকে সাময়িকভাবে আটক করে আটটি শহরের পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ইতালির বিভিন্ন শহরে শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোম, তুরিন ও বোলোনিয়ায় কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। দেশটির সংবাদ সংস্থা আনসার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরিনে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও আতশবাজি ছুড়লে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। রোমেও মিছিল চলাকালে বোতল ছোড়ার পর জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। বোলোনিয়ায় বিক্ষোভকারীরা বোতল ও পটকা ছুড়লে পুলিশ তাদের পিছু হটিয়ে দেয়। এ ছাড়া মিলান ও ফ্লোরেন্সেও উত্তেজনা দেখা দেয়। এসব শহরে কেন্দ্রীয় এলাকার কয়েকটি অংশে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দেয় পুলিশ। এর আগে গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ চলাকালে সংঘটিত অস্থিরতার তদন্তের অংশ হিসেবে মিলান, পাশের শহর মনজা এবং আরও ২০টি শহরে দেড় শতাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশকে হুমকি দেয়া, তাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা, যানবাহনের ক্ষতিসাধন এবং ভবনে আগুন দেয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগের তদন্তের সঙ্গে এসব তল্লাশির সম্পর্ক রয়েছে। ইতালির বার্তা সংস্থা আনসার বরাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি বলেন, পুলিশ ভারসাম্য ও পেশাদারত্বের সঙ্গে সহিংসতায় জড়িত গোষ্ঠীগুলোকে বিচ্ছিন্ন ও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। ইতালিতে যারা মনে করে দায়মুক্তি নিয়ে কাজ করতে পারবে, তাদের কোনো জায়গা নেই। আরটিভি/টিআর
বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি
ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঠেকাতে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
ফ্রান্সে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে সরকার। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এবার প্রায় ১০ হাজার বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট, অশ্বারোহী পুলিশ, হেলিকপ্টার, ড্রোন, সাঁজোয়া যান ও জলকামান রাখা হয়েছে। নুনেজ বলেন, সহিংসতা, ‘লুটপাট ও দাঙ্গায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ গত সপ্তাহে সংবেদনশীল কয়েকটি এলাকায় যে কারফিউ জারি করা হয়েছিল, তা বহাল রাখার কথাও জানান তিনি। শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে নতুন করে বিক্ষোভের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভের স্থান ও চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অর্লেয়ঁ শহরে ডানপন্থী নেতা মেরিন ল্য পেনের দল ন্যাশনাল র‍্যালির (আরএন) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে হাজার হাজার সমর্থকের সমাগমের পাশাপাশি দলটির বিরোধীদেরও বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এতে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। শহরটিতে ল্য পেনের দলের বিরুদ্ধে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মানুষের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শনে শুক্রবার সেখানে যাওয়ার কথা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজের। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিয়ঁর কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোতেও বিক্ষোভকারীদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের বাস্তিল ও নাসিওঁ স্কয়ারের মধ্যবর্তী নির্দিষ্ট পথে মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মার্সেই শহরে বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও শুক্রবার কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তে একটি শ্রমিক সংগঠনের বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শহরটিতে শনিবার সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রাখার আগের সিদ্ধান্তও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে প্যারিসে শনিবার লুভরসহ বেশ কয়েকটি প্রধান জাদুঘর বন্ধ থাকবে। আর্ট বাসেল শিল্পমেলাও নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে পুলিশের আগাম প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর এবার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ২০ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জ্যেষ্ঠ ইউরোপবিষয়ক গবেষক ইভা কসে বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত একটি দেশে পুলিশের দায়িত্ব হলো শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বিক্ষোভের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সহিংস বিশৃঙ্খলা থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া। তবে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অস্ত্রে শিশুদের গুরুতর আহত হওয়ার খবর নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আরটিভি/এসআর  
ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঠেকাতে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
আরও পড়ুন
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ