ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

দাঙ্গা ঠেকাতে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা ও লুটপাটের পর পরিস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর রাজধানী প্যারিসের দুটি এলাকায় রাতভর কারফিউ জারি করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে এ নির্দেশ কার্যকর হয়। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৮টা থেকে ওই এলাকায় জমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা এবং সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবারের বিক্ষোভে প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকায় দাঙ্গা হয়। অন্যদিকে, লে আল এলাকার বিভিন্ন দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এলাকাগুলোতে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ কারফিউ কার্যকর থাকবে। এ সময় কেউ ওই দুই এলাকায় প্রবেশ করতে বা অবস্থান করতে পারবেন না।

এর আগে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সীমিত পরিসরে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারির আহ্বান জানান। দেশটির উত্তরাঞ্চলের লিলসহ কয়েকটি শহরে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোমবার (১৯ অক্টোবর) থেকে পরবর্তী দুই দিন রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। ফরাসি রিভিয়েরা অঞ্চলের নিস শহরেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাত ৯টা থেকে কারফিউ কার্যকর হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেন, ব্যাপক সহিংসতা ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও কেউ নিহত হননি, যা অলৌকিক ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের কারফিউ জারি করা হবে, তা নিয়ে মেয়রদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পদত্যাগ গ্রহণ করেননি মাখোঁ

দাঙ্গার ঘটনায় দায়িত্ব নিয়ে রোববার (১৮ অক্টোবর) পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তার পদত্যাগ গ্রহণ করেননি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতার আগে পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে কোথায় ব্যর্থতা ছিল, তা খতিয়ে দেখে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন মাখোঁ। পাশাপাশি দ্রুত নতুন পুলিশি কৌশল চালুর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্যারিস, লিয়ঁ, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি দল ময়লার পাত্র, সাইকেল ও অন্যান্য জিনিসে আগুন দেয়। বিভিন্ন দোকানেও লুটপাট চালানো হয়। এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়। এসব ঘটনায় পুরো ফ্রান্সে অন্তত ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষ জানায়, বিভিন্ন শহরে অন্তত ৩ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা লুটপাটের শিকার হয়েছে।

মার্সেইয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিক্ষোভ ও অন্যান্য জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ ফ্রান্সের একটি বেতারকে বলেন, চলমান পরিস্থিতির জন্য তিনি নিজেকে দায়ী মনে করেই পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করা। এ ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি ও পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নুনেজের অভিযোগ, দাঙ্গার পেছনে লুটপাটকারীদের পাশাপাশি কট্টর বামপন্থী কর্মীরাও জড়িত। তার মতে, দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এমন দলগুলোর মোকাবিলায় পুলিশের কৌশল বদলানো প্রয়োজন।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট, পুড়েছে পৌর ভবন

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক শ মানুষের দল বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। তারা নগর ভবনসহ সরকারি স্থাপনা ও কার্যালয়েও হামলা চালিয়েছে।

মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরে ১৯ শতকের একটি পৌর ভবনে আগুন লাগে। এতে ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে এবং স্থাপনাটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্যারিসের বিভিন্ন সড়কে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও দমকলকর্মীদের ভাঙা কাচসহ অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরাতে দেখা যায়।

প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকার কাছে একটি ভিডিও গেমের দোকানের মালিক উরি জাগুরি জানান, শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে তিনি দোকান বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে নজরদারি ক্যামেরায় দেখেন, লুটপাটকারীরা জোর করে দোকানে ঢুকছে। তিনি পুলিশকে ফোন করলেও তাকে হস্তক্ষেপ না করতে বলা হয়। পুলিশ আসার কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত কেউ আসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ বিরোধীদের

কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালির সভাপতি জর্দান বারদেলা দাঙ্গা ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ফরাসি জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রপ্রধানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব, কিন্তু সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান—দুজনই সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।

বারদেলা ফ্রান্সের জনগণকে শুধু বিক্ষোভের অধিকার প্রয়োগ নয়, ভোটের মাধ্যমেও নিজেদের মত প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া দলটির নেতা মারিন ল্য পেনের সঙ্গে প্রচার চালাচ্ছেন। বিভিন্ন জনমত জরিপে ল্য পেনকে নির্বাচনের সম্ভাব্য এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

সূত্র: এপি

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঙ্গায় জ্বলছে ফ্রান্স, আগুনের পাশেই মদপানে মত্ত দম্পতি
ফ্রান্সে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, সহিংসতা ও লুটপাটের মধ্যে এক দম্পতির মদপানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চারপাশে আগুন জ্বললেও প্যারিসের একটি দোকানের বাইরের টেবিলে বসে ওই দম্পতিকে নির্বিকারভাবে গল্প করতে ও ধূমপান করতে দেখা যায়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আইকনিক স্থাপনা আর্ক দ্য ত্রিয়োম্ফের কাছাকাছি একটি দোকানের বাইরে বসে সময় কাটাচ্ছেন ওই দম্পতি। তাদের ঠিক পেছনেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। তবে আশপাশের ভয়াবহ পরিস্থিতি তাদের মধ্যে দৃশ্যত কোনো উদ্বেগ তৈরি করেনি। এদিকে প্যারিসে ধারণ করা আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন একটি রাস্তা দিয়ে এক নারী দৌড়ে যাচ্ছেন। এ সময় রাস্তায় জ্বলন্ত ই-বাইকের স্তূপ ও বিক্ষোভকারীদের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যান তিনি। ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু প্যারিসেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮৫৫ জনকে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে সহিংস গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিলাসবহুল দোকানপাটেও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। রোববার(১৮ অক্টোবর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতার নিন্দা জানান। তিনি এ পরিস্থিতির জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্রগুলোকে দায়ী করেন। তবে সোমবার(১৯ অক্টোবর) তিন দিনের সফরে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন ম্যাক্রোঁ। সমালোচকদের কেউ কেউ তাকে ‘বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন’ ও ‘অহংকারী’ বলে আখ্যা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইসহ বিভিন্ন স্থানে কারফিউ জারি করেন। ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট আরটিভি/এসকে
দাঙ্গায় জ্বলছে ফ্রান্স, আগুনের পাশেই মদপানে মত্ত দম্পতি
জ্বালানির দামে ক্ষোভ, ইউরোপে বাড়ছে কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ।
জ্বালানির দামে ক্ষোভ, ইউরোপে বাড়ছে কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন
রাশিয়ার হুমকি, ১০ লাখ স্থলমাইন কিনতে চায় ফিনল্যান্ড
রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় ১০ লাখ স্থলমাইন কিনতে চায় ফিনল্যান্ড।
রাশিয়ার হুমকি, ১০ লাখ স্থলমাইন কিনতে চায় ফিনল্যান্ড
ফ্রান্সের বিক্ষোভে বাংলাদেশিদের দোকানে হরিলুট
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। 
ফ্রান্সের বিক্ষোভে বাংলাদেশিদের দোকানে হরিলুট
জেন-জি বিক্ষোভে এবার উত্তাল ফ্রান্স
রাজধানী প্যারিস ছাড়াও মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিমোজ, লিল, তুলুজ এবং স্ত্রাসবুর্গেও ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ।  
জেন-জি বিক্ষোভে এবার উত্তাল ফ্রান্স
আরও পড়ুন
দাঙ্গায় জ্বলছে ফ্রান্স, আগুনের পাশেই মদপানে মত্ত দম্পতি
ফ্রান্সের বিক্ষোভে বাংলাদেশিদের দোকানে হরিলুট
জেন-জি বিক্ষোভে এবার উত্তাল ফ্রান্স
ফ্রান্সে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ, আহত ১৯