
ডিজেলচালিত বাস সিএনজি-তে রূপান্তর করার বিষয়ে বৈঠক ডাকা হলেও কোনো সমাধান মেলেনি। এই সমস্যা সমাধানে আরও কিছুদিন সময় চেয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী।
বিশ্বজুড়ে ডিজেলের দাম বাড়ায় গতকাল বুধবার ভারতের রাজ্য কলকাতা পরিবহন দপ্তরে বাসমালিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ডিজেলচালিত বাস সিএনজিতে রূপান্তরের বিষয়ে মন্ত্রী আরও কিছুদিন সময় চেয়েছেন বলে সূত্র জানায়।
ভাড়া না বাড়িয়ে কীভাবে বাসের জ্বালানির খরচ কমানো যায়, তা নিয়ে বিকল্প খুঁজতে ডিজেল ইঞ্জিন সিএনজি জ্বালানির উপযুক্ত ইঞ্জিনে রূপান্তর করার চেষ্টা চালাচ্ছে পরিবহন দপ্তর। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি সরকারি বাসে ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। বেসরকারি বাসকেও সিএনজিতে রূপান্তর করার জন্য পুজোর আগে বাসমালিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে সরকার। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় ওই রূপান্তরের জন্য কয়েক লাখ টাকা জোগাড় করা নিয়ে। বেসরকারি বাসমালিক সংগঠনগুলো সরকারি আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি ১৫ বছরের বেশি পুরনো গাড়ি বাতিলের নীতিতে কিছুটা ছাড় দেওয়ার দাবি জানায়। কারণ, বেশির ভাগ বেসরকারি বাস ১০ বছরের কাছাকাছি পুরনো। বেসরকারি বাসমালিক সংগঠন সূত্রের খবর, আর্থিক সুরাহা এবং বাস বাতিলের নীতিতে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নে কোনো সমাধানসূত্র মেলেনি। কেন্দ্রীয় পরিবহন আইনের বাইরে গিয়ে বাসের আয়ু বাড়ানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা বলেন, বিদ্যুৎ ও সিএনজিচালিত বেসরকারি বাসের রুটগুলোতে ভবিষ্যতে যাতে সরকারি বাস না চলে, তা দেখার জন্য বলেছি আমরা। মন্ত্রী বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপনারায়ণ বসু বলেন, বাসমালিকদের আর্থিক সাহায্য দিতে সরকার বিশেষ ক্রেডিট কার্ড চালু করুক। আমরা পরিবহন ক্ষেত্রের সমস্যা নিয়ে আট দফা দাবি জানিয়েছি।
এ ছাড়াও রাস্তায় পুলিশি জুলুমের অভিযোগ, জেএনএনইউআরএম প্রকল্পের বাস নিয়ে সমস্যা, রাস্তায় অবৈধ পার্কিং নিয়ে সমস্যার কথাও মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে বলে জানান মিনিবাস অপারেটর্স কোঅর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন ঘোষ।
পরিবহন দপ্তরের সূত্র জানায়, সিএনজি-সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে মাসখানেকের মধ্যে ফের বাসমালিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসবে কলকাতার রাজ্য সরকার।
সূত্র: আনন্দবাজার
এফএ/টিআই




