ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গণনা শুরু, কে কতটা এগিয়ে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ১১:১৬ এএম
ফাইল ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৮ টায়) কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে এই ভোট গণনা।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। তাই আজ ২৯৩ আসনে ভোট গণনা চলছে।

২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য যেকোনো দলের প্রয়োজন হবে ১৪৮ আসনে জয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী অবশ্য ইতোমধ্যেই দুই শতাধিক আসন পেয়ে ফের সরকার গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তবে, প্রাথমিক ফলাফলে এখন পর্যন্ত রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে রাজ্যের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল সিপিএম পিছিয়ে আছে বেশ বড় ব্যবধানে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, ভোটগণণা শুরুর প্রথম সোয়া ঘণ্টায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে মমতার তৃণমূল এগিয়ে আছে ১০৬টি আসনে। আর শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি এগিয়ে আছে ১৫২টি আসনে।

অন্যদিকে কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের তথ্য অনুযায়ী, ১১২টি আসনের ফলাফল ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। এই ১১২টি আসনের মধ্যে ৫৬টিতে বিজেপি, ৫৩টিতে তৃণমূল কংগ্রেস, ২টিতে কংগ্রেস এবং একটিতে ‘অন্যান্য’ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। রাজ্যের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল সিপিএম এখনও কোনো আসনে জয় পায়নি।

কোন দল জিতছে, কারা বসতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে— তা সবই স্পষ্ট হবে ভোট গণনার পর। তবে, রাজ্যবাসী কার হাতে পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার তুলে দিলেন তার একটা প্রাথমিক ধারণা সোমবার দুপুর একটার মধ্যেই মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতের ইতিহাস অবশ্য বলছে, কিছু কিছু কেন্দ্রের গণনা শেষ হতে রাতও গড়িয়ে যেতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে এবার মোট দুইটি দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। প্রথম দফায় নির্বাচন হয়েছে গত ২৩ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হয় গত ২৯ এপ্রিল। প্রথম (৯৩.১৯ শতাংশ) ও দ্বিতীয় দফা (৯২.৬৭ শতাংশ) মিলিয়ে এবার রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

গত নির্বাচনে কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৮টি থাকলেও এবার ভোট গ্রহণ হয়েছে ৭৭টি কেন্দ্রে। অর্থাৎ, এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা কমানো হয়েছে ৩১টি। সেইসঙ্গে ভোট গণনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তিন স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে গণনাকেন্দ্র। গণনাকেন্দ্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাউন্টিং এজেন্টদের (গণনাকারী প্রতিনিধি) ঢোকার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে এবং অনুমোদনপ্রাপ্ত এই এজেন্টদের ‘কিউআর কোড’–সংবলিত পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। কোনো ‘কাউন্টিং এজেন্ট’কে গণনাকেন্দ্রে মুঠোফোন নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কেবল নির্বাচনী কর্মকর্তাদেরকে মুঠোফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ভোটের ফল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি— দুই শিবিরের মধ্যেই ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হতেই বিভিন্ন সংস্থা যে বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করেছিল, তার বেশিরভাগেই ইঙ্গিত মিলেছিল রাজ্যে ‘পরিবর্তন’ হতে চলেছে। ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। তবে, তৃণমূল দাবি করেছে, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের ভোটেও বুথফেরত সমীক্ষা মেলেনি। এবারও মিলবে না। সরকারের তারাই আসছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভারতের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী মুরুগান
  ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান। একই সঙ্গে রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন তিনি।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান মুরুগান। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তামিলনাড়ুতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে দলের ভিত আরও মজবুত করতে পুরো সময় দিতে চান এই বিজেপি নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মুরুগান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতমাতা ও তামিলনাড়ুর সেবা করার সুযোগ পাওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। তিনি আরও বলেন, দিনমজুর পরিবারের সন্তান হিসেবে জীবন শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কাজ করার সুযোগ পাওয়া তার কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। মুরুগান জানিয়েছেন, এবার তিনি দলের তৃণমূল পর্যায়ে ফিরে যেতে চান। তামিলনাড়ুতে বিজেপিকে আরও শক্তিশালী করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। এর আগে তামিলনাড়ুতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এল মুরুগান। পরে মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০৩০ সালে রাজ্যসভায় তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে পদত্যাগপত্রে তিনি অবিলম্বে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরটিভি/ এসকেডি
ভারতের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী মুরুগান
এবার মোদির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, উত্তাল রাজপথ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাজপথে পুলিশের ব্যারিকেড, ধরপাকড় আর তরুণদের প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
এবার মোদির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, উত্তাল রাজপথ
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন
একইসঙ্গে মসজিদের মাইকও জব্দ করে নিয়ে গেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এক বিট কনস্টেবলকেও।
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন 
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, বিকল্প জায়গা ঠিক করে দিলো পুলিশ
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন নিষিদ্ধ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সেইসঙ্গে ব্যাতিক্রমী আরেক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে— বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশের জন্য দিল্লিতেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে তিনটি জায়গা।  
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, বিকল্প জায়গা ঠিক করে দিলো পুলিশ
গাড়ির চাপায় তিন শিক্ষার্থী নিহত, চালক বললেন ‘বাবা সামলে নেবে’
ভারতের কেরালা রাজ্যের এরনাকুলাম জেলায় দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়ির ধাক্কায় স্কুটারে থাকা তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে নেদুম্বাসেরিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী গাড়িচালক সুহাইল সাজিভকে আটক করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে চালক ‘বাবা সামলে নেবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তার রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহত তিনজন হলেন দেবিকা, গোপিকা ও ইজাজ। তাদের মধ্যে দেবিকার বাড়ি কেরালার ওয়েনাড জেলায়, গোপিকা পালাক্কাডের বাসিন্দা এবং ইজাজের বাড়ি কর্ণাটকে। তিনজনই ত্রিক্কাকারায় কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে কাছের একটি দোকানে চা পান শেষে স্কুটারে করে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তিন শিক্ষার্থী। এ সময় দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি মিনি কুপার গাড়ি তাদের স্কুটারে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনেরই মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুহাইল দুর্ঘটনার আগে অ্যালকোহল পান করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার ভাষ্য, তিনি শুধু বিয়ার পান করেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার শরীরে অ্যালকোহল বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থের প্রভাব ছিল কি না, তা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরনাকুলাম গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট কে এস সুদর্শন সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার পেছনে চালকের ভূমিকা এবং গাড়ির ভেতরে কোনো নেশাজাতীয় পদার্থ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য গাড়িটির ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত মিনি কুপার গাড়িটি সুহাইলের বাবার নামে নিবন্ধিত। তবে সুহাইলের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার পর চালকের ওপর হামলার অভিযোগও তদন্ত করছে পুলিশ। চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য সুহাইলকে হাসপাতালে নেওয়ার পর নিহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বন্ধু তার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল থেকে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে মাথায় আঘাত করা হয় বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ এসেছে। পরে পুলিশ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ, চালকের মাদক গ্রহণের বিষয়টি এবং তার ওপর হামলার ঘটনা—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে আরটিভি/এসকে
গাড়ির চাপায় তিন শিক্ষার্থী নিহত, চালক বললেন ‘বাবা সামলে নেবে’
আরও পড়ুন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম
মিষ্টির আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা
ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণে বৈঠকে ইসি