
ভারতের বনগাঁ নিউ মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ইলিশের গায়ে ‘বাংলাদেশি’ তকমা লাগিয়ে চড়া দামে বিক্রির খবর প্রকাশের পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে গেছে বাজারের চিত্র।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বাজারে ইলিশ থাকলেও সেগুলোর ‘নাগরিকত্ব’ বদলে গেছে— বাংলাদেশি নয়, এবার ভারতীয় ইলিশ হিসেবেই বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে কমেছে দামও।
বাংলাদেশের ইলিশের প্রতি ক্রতাদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বনগাঁ নিউ মার্কেটে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজারে হাঁকডাক করে প্রচারের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছিল ‘বাংলাদেশি ইলিশ’ বিক্রির প্রচার। কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে এসব মাছ বিক্রি হচ্ছিল। পদ্মার ইলিশ ভেবে অনেক ক্রেতাই চড়া দাম দিয়ে মাছ কিনছিলেন।
তবে বাড়িতে নিয়ে রান্নার পর অনেকেরই সন্দেহ হয়। পরে জানা যায়, বাংলাদেশের ইলিশ নয়— ওডিশা, মহারাষ্ট্র কিংবা গুজরাটের ইলিশকেই বাংলাদেশি বলে বিক্রি করা হচ্ছিল।
২০২৫ সালের দুর্গাপূজার আগে সর্বশেষ ভারতে বাংলাদেশি ইলিশ ঢুকেছিল। এরপর আর বাংলাদেশ থেকে কোনো ইলিশ ভারতে যায়নি। ফলে এক বছর পরও বনগাঁর কোনো ব্যবসায়ীর কাছে সেই ইলিশ মজুদ থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বনগাঁ নিউ মার্কেটের এক ক্রেতা দীপঙ্কর সাঁতরা বলেন, এই কয়েক দিন তো বাংলাদেশের ইলিশ বলে মাছ বিক্রেতাদের চিৎকারে কান পাতা দায় হয়ে উঠেছিল। আমিও ওদের কথায় ভরসা করে একটা ইলিশ মাছ কিনেছিলাম কিন্তু খাওয়ার সময় বুঝলাম, ঠকেছি।
হিলশা ফিশ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য গৌতম সাহা বলেন, ‘গত বছরের পর আর কোনো বাংলাদেশের ইলিশ এ দেশে আসেনি। সেই ইলিশ এক বছর পরে বনগাঁর কোনও ব্যবসায়ীর কাছে থাকতে পারে না।’
খবর প্রকাশের পর শুক্রবারের বাজারে অবশ্য আর দেশি ইলিশকে বাংলাদেশি বলে বিক্রি করতে দেখা যায়নি। বিক্রেতারাও এবার মাছের পরিচয় হিসেবে ভারতীয় ইলিশের কথাই বলছেন। পাশাপাশি আগের তুলনায় দামও অনেকটাই কমেছে। সূত্র: এইসময়
আরটিভি/এমএইচজে


