ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ভারতে একের পর এক ঐতিহাসিক মসজিদ ভাঙার হিড়িক

জান্নাতুল মাওয়া অর্পিতা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
অপসারণের লক্ষে ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ৬০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সড়ক প্রশস্তকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্পের আওতায় ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণ নিয়ে বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে। এ ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা, তুরস্কের বেসরকারি সংবাদ সংস্থা ইহলাস নিউজ এজেন্সি (আইএইচএলএএস)-এর প্রতিবদনের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।

মসজিদের একটি অংশ ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগের প্রতিবাদে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলিম বাসিন্দা সেখানে অবস্থান নেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রশাসন ওই অংশ অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

এ ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাথর ছোড়াসহ সংঘর্ষের ঘটনায় সাতটি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদের চারপাশে ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ রক্ষায় মুসলিমদের অবস্থান ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ । ছবি: সংগৃহীত

উজ্জয়িনী প্রশাসন বলছে, পুরো শাহী মসজিদ ভাঙা হচ্ছে না। সড়ক প্রশস্তকরণের নির্ধারিত অংশের মধ্যে পড়া মসজিদের একটি ছোট অংশ অপসারণ করা হচ্ছে। উজ্জয়িনীর জেলা প্রশাসক রোশন সিং জানিয়েছেন, ওই অংশটি মসজিদ কমিটির সম্মতিতে সরানো হচ্ছে।

পুলিশ বলছে, মসজিদের যে অংশটি প্রকল্পের আওতায় পড়েছে, তা মোট মসজিদ চত্বরের ১০ শতাংশেরও কম। মসজিদ কমিটি প্রথমে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর ওই অংশ সরাতে সম্মত হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো মসজিদ ভেঙে ফেলার দাবি ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বাড়ে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কেন মসজিদের অংশ সরানো হচ্ছে

উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদের অংশ অপসারণের কাজটি একটি বড় সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ। ২০২৮ সালের সিংহস্থ ধর্মীয় সমাবেশকে সামনে রেখে শহরের সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। ওই প্রকল্পের আওতায় সড়কটি ১৫ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, সিংহস্থ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষ উজ্জয়িনীতে আসবেন। তাদের চলাচল, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক প্রশস্ত করা প্রয়োজন। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও মসজিদের অংশ অপসারণের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করার সময় জননিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে।

৬০০ বছরের পুরোনো মসজিদ নিয়ে আপত্তি

মুসলিম প্রতিনিধিদের দাবি, শাহী মসজিদটি প্রায় ছয় শতাব্দী বা ৬০০ বছরের পুরোনো এবং ওয়াকফ সম্পত্তি। মসজিদের যে অংশটি সরানোর কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে নামাজের কক্ষের একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উঁচু মিনার ও মাজহার চৌক এলাকার অংশ রয়েছে।

মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা বলছেন, মসজিদ অক্ষত রেখে রাস্তার বিপরীত পাশ থেকে জমি নিয়ে সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব। তাদের প্রশ্ন, বিকল্প ব্যবস্থা না নিয়ে ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনার অংশ কেন সরাতে হবে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মোহাম্মদ জাকির বলেন, তারা মসজিদটি রক্ষার চেষ্টা করছেন। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে রাতভর মসজিদ এলাকায় অবস্থান করেন।

ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিমও ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, এর আগে সড়ক প্রশস্ত করার কাজে সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আশপাশের দোকান ও অন্যান্য সম্পত্তি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আদালতেও গড়িয়েছে বিরোধ

শাহী মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চে আবেদন করে আদালতের দ্বারস্থ হয় মসজিদ কমিটি।। ৯ সেপ্টেম্বর আদালত ওই আবেদনগুলো খারিজ করে দেয়। আদালত বলেছে, উজ্জয়িনী পৌর কর্তৃপক্ষ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, একই সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ১০টি মন্দির ও একটি মসজিদের অংশ অপসারণ করা হয়েছে। উজ্জয়িনীতে প্রায় ৮০টি ধর্মীয় স্থাপনা-সংক্রান্ত নির্মাণের বিরুদ্ধেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেছে। আদালত আরও বলেছে, শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হওয়ার কারণে কোনো স্থাপনা আইনসম্মত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবে—এমন নয়।

মুসলিম বাসিন্দাদের আপত্তি

স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দা ও মসজিদ প্রতিনিধিরা অবশ্য মসজিদের অংশ অপসারণের বিরোধিতা করেছেন। তাদের দাবি, মসজিদ অক্ষত রেখে সড়কের বিপরীত পাশ থেকে জমি নিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করার বিকল্প রয়েছে।

মসজিদ রক্ষার দাবিতে স্থানীয় মুসলিমদের একটি অংশ রাতভর সেখানে অবস্থানও করেন। পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর মসজিদ কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সরানোর বিষয়ে সম্মত হলেও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ অব্যাহত থাকে।

ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙা নিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিতর্ক

উজ্জয়িনীর ঘটনা ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা ও মুসলিমদের সম্পত্তি অপসারণ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে আসাম, দিল্লি, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও বিক্ষোভের পর ১২৮টি সম্পত্তি ভাঙার তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়। এসবের মধ্যে মুসলিমদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থান ছিল। সংস্থাটি বলেছে, এসব ঘটনায় অন্তত ৬১৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন।

অ্যামনেস্টি এসব ভাঙাকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ও শাস্তিমূলক উচ্ছেদ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে এটি সংস্থাটির নিজস্ব গবেষণা ও মূল্যায়ন—ভারতীয় কর্তৃপক্ষের স্বীকৃত সরকারি পরিসংখ্যান নয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৫ সালের ভারতবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কয়েকটি রাজ্যে মুসলিমদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাড়িঘর ভাঙার আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশনা দেয়।

সড়ক প্রশস্তকরণেও মসজিদ-মাজার অপসারণ

সড়ক প্রশস্তকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণের সাম্প্রতিক আরও কিছু ঘটনাও সংবাদে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে অবশ্য কর্তৃপক্ষ সাধারণত সরকারি জমি, রাস্তার নির্ধারিত সীমানা বা কথিত অবৈধ নির্মাণ অপসারণকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

২০২৬ সালের জুনে গুজরাটের আহমেদাবাদে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় তিনটি মাজার ও একটি কবরস্থানের অংশ অপসারণের খবর প্রকাশ করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, স্থাপনাগুলো সরকারি জমিতে ছিল এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের মে মাসে ফরিদাবাদে সড়ক ও দ্রুতগতির রেলপথ প্রকল্পের জন্য একটি মসজিদ ও একটি মন্দিরসহ ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণের খবরও প্রকাশ করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আগাম নোটিশ না পাওয়ার অভিযোগ করেন। কর্তৃপক্ষ অবশ্য স্থাপনাগুলোকে কথিত অবৈধ নির্মাণ হিসেবে উল্লেখ করে।

বারাণসীতেও সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় মসজিদ অপসারণের ঘটনা সামনে এসেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া ২০২৬ সালের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে জানায়, একটি মসজিদের অংশ স্বেচ্ছায় ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। একই প্রকল্পে এর আগে আরও পাঁচটি মসজিদ পুরোপুরি বা আংশিকভাবে অপসারণ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

উজ্জয়িনীতে এখনো উত্তেজনা

শাহী মসজিদের অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর উজ্জয়িনীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ও আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানোর বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো শাহী মসজিদ ভেঙে ফেলার কথা বলে কৃত্রিমভাবে তৈরি কিছু ভিডিও ছড়ানোর পর উত্তেজনা বেড়ে যায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তবে সড়ক প্রশস্তকরণের আওতায় পড়া মসজিদের একটি অংশই অপসারণ করা হচ্ছে।

তবে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের কাছে মূল বিষয় হলো ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনাটির অংশ সংরক্ষণ। অন্যদিকে প্রশাসন ২০২৮ সালের সিংহস্থকে সামনে রেখে উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার কথা বলছে। আদালতও বর্তমানে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আইনগত প্রক্রিয়াকে অনুমোদন করেছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘স্কুলে বোমা আছে’ জানিয়ে হঠাৎ ছাত্রীর ইমেইল, অতঃপর... 
ভারতের দিল্লিতে একটি স্কুলে বোমা রাখার হুমকি দিয়ে ইমেইল পাঠানোর অভিযোগে ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
‘স্কুলে বোমা আছে’ জানিয়ে হঠাৎ ছাত্রীর ইমেইল, অতঃপর... 
বিমানে শৌচাগারের আয়নায় লেখা ছিল ‘ভেতরে বোমা আছে’, অতঃপর...
থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের কলকাতায় আসা একটি বিমানের শৌচাগারের আয়নায় ‘বিমানের ভেতরে বোমা আছে’ লেখা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কেবিন ক্রুরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণের পর এই ঘটনা ঘটে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ তল্লাশির পরও বিমানে সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, লেখাটি নজরে আসার পরই কেবিন ক্রুরা তাৎক্ষণিকভাবে পাইলট এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। এরপর দ্রুত বিমানটিকে আইসোলেশন বে-তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়।  পরে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ), বম্ব স্কোয়াড ও বিমানবন্দর পুলিশের যৌথ দল বিমানে তল্লাশি চালায়। তবে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পরও ভেতর থেকে কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়নি। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, কেবল আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই কেউ এই ভুয়া হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে বিমানের যাত্রী তালিকা ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে শুক্রবারও কলকাতা বিমানবন্দরের ২৩ নম্বর গেটের কাছে নারীদের শৌচাগারে বোমা রাখার হুমকির একটি চিরকুট পাওয়া গিয়েছিল। পরপর দুই দিন এমন বোমাতঙ্কের ঘটনায় ওই বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আরটিভি/এসআর
বিমানে শৌচাগারের আয়নায় লেখা ছিল ‘ভেতরে বোমা আছে’, অতঃপর...
বন্ধুত্ব থেকে চরম শত্রুতা, প্রকাশ্য দিবালোকে রড দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা
ভারতের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ায় বন্ধুকে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যস্ত সড়কে  গাড়িচাপা দেওয়ার পর লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মাথা থেঁতলে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন এক তরুণ।
বন্ধুত্ব থেকে চরম শত্রুতা, প্রকাশ্য দিবালোকে রড দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা
আখ কাটার কাজ চালিয়ে যেতে জরায়ু কেটে ফেলছেন ভারতের নারী শ্রমিকরা
ভারতের মহারাষ্ট্রের বীড় জেলার বহু নারী আখ কাটার কাজ চালিয়ে যেতে গিয়ে নিজেদের প্রজননস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। মাসিকের ব্যথা, বিশ্রামের অভাব ও কঠোর শ্রমের কারণে কেউ কেউ জরায়ু অপসারণের কথা ভাবছেন, আবার অনেকে অস্ত্রোপচারও করিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব শ্রমিকের দুর্বিষহ জীবনের চিত্র। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আনুমানিক ১৫ লাখ মানুষ আখ কাটার কাজে নিয়োজিত। তাদের অনেকেই দিনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা কাজ করে পান মাত্র ৪০০ রুপি। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ মহারাষ্ট্রের বীড় জেলা থেকে কাজের সন্ধানে অন্য এলাকায় যান। নিজ এলাকায় কর্মসংস্থানের অভাব ও পরিবারের ভরণপোষণের চাপ তাদের এই কঠিন পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য করে। কর্ণাটকের রামানালে ভোর ৪টা থেকেই শুরু হয় শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। পূর্ণিমা নামের এক নারী শ্রমিকও প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাজের প্রস্তুতি নেন। ঋণ শোধ করতে নিজ গ্রাম থেকে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন তিনি। আখ কাটার নারী শ্রমিকদের জন্য শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি মাসিক সামলানোও বড় চ্যালেঞ্জ। অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছুটি না পাওয়ার চাপ। কাজ থেকে এক দিন বিরতি নিলেই মজুরি কাটা কিংবা জরিমানার মুখে পড়তে হয় শ্রমিকদের। ফলে মাসিকের ব্যথা বা অসুস্থতা নিয়েও তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়। দীর্ঘ সময় ভারী আখ কাটা, বোঝা বহন ও ট্রাকে আখ তোলার কাজ করতে গিয়ে বাড়ছে শারীরিক দুর্ভোগ। পূর্ণিমা দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, ব্যথা থেকে মুক্তি পেলে তার জন্য অনেক বড় সহায়তা হতো। দীর্ঘদিনের কষ্ট থেকে রেহাই পেতে তিনি জরায়ু অপসারণের কথাও ভাবছেন। তিনি বলেন, ‘আমার কষ্ট কমছে না। এ কাজ চালিয়ে গেলে তা কেবল বাড়বে। এত ভারী ওজন তোলা বন্ধ করতে পারলে হয়তো ভালো হবে। কিন্তু এ কাজ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’ বীড় জেলার বহু পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস মৌসুমি আখ কাটা। প্রতিবছর মুকাদ্দম নামে পরিচিত ঠিকাদারেরা শ্রমিকদের সংগঠিত করেন। তারা চিনিকলের সঙ্গে যোগাযোগ, যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং অগ্রিম অর্থের জোগান দেন। পরে সেই অর্থ শোধ করতে শ্রমিকদের মৌসুমজুড়ে কাজ করতে হয়। স্বামী-স্ত্রীকে নিয়ে গঠিত প্রতিটি শ্রমিক দলকে স্থানীয়ভাবে ‘কইতা’ বলা হয়। সাধারণত সাত-আটটি কইতার একটি দলের মধ্যে আয় ভাগাভাগি হয়। প্রতিটি দম্পতির ওপর দৈনিক গড়ে তিন টন আখ কাটার চাপ থাকে। কোনো নারী অসুস্থতার কারণে কাজ করতে না পারলে দলের অন্য শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ে। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে তারা সংশ্লিষ্ট দম্পতির কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেন। ফলে অসুস্থতা নিয়েও কাজ করতে বাধ্য হন নারী শ্রমিকেরা। সবিতা নামের এক শ্রমিক ২০২৫ সালের মার্চে জরায়ু অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, পেটে তীব্র ব্যথা থাকা সত্ত্বেও তাকে কাজ করতে হয়েছে। ট্রাকে আখ তুলতে মই বেয়ে ওঠার সময় গত বছর তিনবার পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তারপরও অভিযোগ করার সুযোগ পাননি। সবিতা বলেন, ‘মাঠে কেউ সাহায্য করবে না। তারা একদম বিশ্রাম নিতে দেয় না। আমি এত অসুস্থ ছিলাম, তবু কেউ সাহায্য করেনি।’ পূর্ণিমাও জানান, কাজের মৌসুমে টানা চার থেকে পাঁচ মাস প্রতিদিন কাজ করতে হয়। গত তিন বছর ধরে অবিরাম ব্যথায় ভুগছেন তিনি। জরায়ু অপসারণের কথা ভাবলেও অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাতে তাকে নতুন করে ঋণ নিতে হতে পারে। তার ভাষায়, ‘নিজের জরায়ু ফেলে দিতেও ঋণ নিতে হয়। মনে হয়, আমার শরীরই ব্যবস্থার দাসে পরিণত হয়েছে।’ ২০১৯ সালে মহারাষ্ট্র সরকারের একটি কমিটি বীড় জেলায় আখ কাটার কাজে নিয়োজিত ৮২ হাজার ৩০৯ জন অভিবাসী নারী শ্রমিকের ওপর জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৬১ জনের জরায়ু অপসারণ করা হয়েছে। পরে জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের ৪৫ শতাংশের বেশি শারীরিক বা মানসিক কষ্টের কথা জানান। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার জরায়ু অপসারণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ এবং অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে কিছু উদ্যোগ নেয়। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, বাস্তবে তাদের জীবনযাত্রা ও কর্মপরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। ২০২৫ সালের মার্চে বোম্বে হাইকোর্ট আঞ্চলিক সরকারকে শ্রমিকদের যথাযথ নিবন্ধন, কল্যাণমূলক সুবিধা এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই বছরের নভেম্বরে এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের কথা থাকলেও তা প্রকাশিত হয়নি বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট। পূর্ণিমা ও সবিতা দুজনেই জানিয়েছেন, তারা সরকারের কাছ থেকে কোনো কল্যাণ সহায়তা পাননি। দীর্ঘদিনের ব্যথা সামলাতে পূর্ণিমাকে নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হয়। তিনি জানান, বছরে এসব ওষুধের পেছনে তার প্রায় ৫০ হাজার রুপি খরচ হয়। তবুও ব্যথা থেকে মুক্তি মিলছে না। পূর্ণিমা বলেন, ‘গ্রামে ফিরে আমাকে অস্ত্রোপচার করাতে হবে, কিন্তু এর জন্য আরও ঋণ নিতে হবে। মনে হয়, আমি যেন কাজ চালিয়ে যেতে পারি, সে জন্যই ব্যবস্থাটা আমার জরায়ুটাই কেড়ে নিচ্ছে।’ প্রতিবেদনটির বিষয়ে বীড় জেলার কালেক্টর বিবেক জনসনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে, কোকাকোলা জানিয়েছে, আখ কাটার শ্রমিকদের বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, ছায়াযুক্ত বিশ্রামের স্থান, কাজের উপযোগী সরঞ্জাম এবং নারীদের স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত পণ্যের সুযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজ সংগঠন সলিডারিদাদের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই উদ্যোগে এক লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট পেপসিকোর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল, তবে প্রতিষ্ঠানটি কোনো জবাব দেয়নি। আরটিভি/এসকে
আখ কাটার কাজ চালিয়ে যেতে জরায়ু কেটে ফেলছেন ভারতের নারী শ্রমিকরা
ফ্যানের সঙ্গে পেঁচানো যাবে না দড়ি-ওড়না, অভিনব উদ্যোগ নিল বিশ্ববিদ্যালয়
ভারতের গুজরাট রাজ্যের সুরাটে অবস্থিত বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভিএনএসজিইউ) আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থাসম্পন্ন ৩৮৮টি সিলিং ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে।
ফ্যানের সঙ্গে পেঁচানো যাবে না দড়ি-ওড়না, অভিনব উদ্যোগ নিল বিশ্ববিদ্যালয়