
ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটের মায়াঙ্ক নামের এক ব্যক্তি প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে মোমো খেতে যান। এ সময় নিজের স্ত্রীকে দেখে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পালানোর সেই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ ঘটনায় রূপ নেয়।
অভিযোগ উঠেছে, মায়াঙ্কের স্ত্রী এ সময় গাড়ির সামনে দাঁড়ালে তাকে গাড়ির বনেটে তুলে প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। খবর এনডিটিভি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঘটনাটি ঘটে ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মায়াঙ্ক নামের ওই ব্যক্তি কথিত প্রেমিকা মাহির সঙ্গে একটি গাড়িতে করে বেরিয়েছিলেন। পরে তারা দুজন একসঙ্গে বসে মোমো খাচ্ছিলেন। এ সময় সেখানে পৌঁছে তাদের একসঙ্গে দেখে ফেলেন মায়াঙ্কের স্ত্রী সুনীতা।
স্বামীকে অন্য এক নারীর সঙ্গে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সুনীতা। পরে তিনি মায়াঙ্কের গাড়ির কাছে গিয়ে প্রতিবাদস্বরূপ গাড়ির জানালায় আঘাত করতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মায়াঙ্ক গাড়িতে উঠে দরজা ভেতর থেকে লক করে দেন এবং সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার পথ আটকে সুনীতা গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ান। একপর্যায়ে তিনি গাড়ির বনেটের ওপর উঠে পড়েন।
মায়াঙ্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এরপরও তিনি গাড়ি থামাননি। বরং গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সুনীতা গাড়ির বনেটের ওপর অবস্থান করেই প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত চলে যান।
গাড়িটি চলন্ত অবস্থায় সুনীতা সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। পথচারীদের উদ্দেশে তিনি বলতে থাকেন, ‘ভাইয়া, বাঁচান... ভাইয়া, আমাকে বাঁচান।’ তার চিৎকার শুনে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। কয়েকজন লোক ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করলে শেষ পর্যন্ত মায়াঙ্ক গাড়ি থামাতে বাধ্য হন।
ঘটনার পর সুনীতা পুলিশের কাছে মায়াঙ্কের বিরুদ্ধে মারধর, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, পরকীয়া ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে গুরুতর হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোতয়ালি এলাকার সার্কেল অফিসার সংগ্রাম সিং বলেন, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মায়াঙ্ক তার স্ত্রীকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ ব্যবহৃত গাড়িটিসহ মায়াঙ্ক ও মাহি দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। সুনীতার অভিযোগ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
আরটিভি/এমএম




