
প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এক বধূকে ‘শাস্তি’ ও ‘শুদ্ধকরণের’ নামে প্রকাশ্যে যৌন নির্যাতনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ভারতের গুজরাটের সুরেন্দ্রনগরে ঘটেছে এ ঘটনা।
অভিযোগ, ওই বধূর প্রেমিককেও মারধর করা হয় এবং অপমানজনক নানা নির্যাতন চালানো হয়। পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর ঘটনাটি ঘটে। সুরেন্দ্রনগরের ওই নারীর সঙ্গে এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ। বাপি নামে এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। সংসারে বনিবনা না হওয়ায় ওই নারী বাড়ি ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে চোটিলা এলাকায় চলে যান। সেখানে প্রায় তিন মাস থাকার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার সন্ধান পান এবং তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।
অভিযোগ, বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার পর ওই নারীকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ আগে কোনোভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে আবার প্রেমিকের কাছে চলে যান তিনি।
পরে সুরেন্দ্রনগরের একটি বাড়িতে ওই নারী ও তার প্রেমিকের অবস্থান জানতে পারেন তার স্বামী ও স্বজনেরা। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে দুজনকে ধরে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর ‘শুদ্ধকরণের’ নামে তাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। প্রথমে দুজনকে কাঠের বাটাম দিয়ে মারধর করা হয়। পরে ওই নারী ও তাঁর প্রেমিককে প্রকাশ্যে যৌন নির্যাতনে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় কয়েকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারী ও তাঁর প্রেমিককে উদ্ধার করে পুলিশ।
সুরেন্দ্রনগরের ডেপুটি পুলিশ সুপার প্রেমসুখ ডেলু জানিয়েছেন, ঘটনার একটি ভিডিও পুলিশের হাতে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজনও ফোন করে পুলিশকে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই নারীর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
আরটিভি/এসকে



