ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

অবরুদ্ধ দিল্লি, বন্ধ মেট্রোরেল-ইন্টারনেট সেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হচ্ছে মেট্রোর একাধিক স্টেশনের প্রবেশপথ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট সেবা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল, এমন অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা ২৫০টির বেশি ট্রেন ও স্থানীয় ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে জনপথ-কর্তব্য পথ মোড়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, নানা বিধিনিষেধ সত্ত্বেও স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকেরা জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাবেন।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিক্ষোভের কারণে জনদুর্ভোগের আশঙ্কা দেখিয়ে একদিকে জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, অন্যদিকে মেট্রো ও রেল চলাচল বন্ধ এবং সড়ক অবরুদ্ধ করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক এড়ানো। কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের নয়াদিল্লি জেলায় প্রবেশ ঠেকাতে হবে এবং নিষিদ্ধ এলাকা থেকে দ্রুত সরিয়ে দিতে হবে।

পুলিশের হিসাবে, জন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরসহ প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি এলাকাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। জন্তর মন্তরে প্রবেশের সড়কগুলোতে বসানো হয়েছে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড। ব্যারিকেডের শেষের কয়েকটি স্তর ঝালাই করে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে সেগুলো ভেঙে পার হওয়া কঠিন হয়।

সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে রেকর্ড করা ঘোষণা প্রচার করা হচ্ছে। এতে বিক্ষোভের অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে লোকজনকে জমায়েত, স্লোগান, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিক্ষোভ ঠেকাতে কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে আসা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে পুলিশ।

নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির বিভিন্ন লজ ও হোটেলেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অতিথিদের বিক্ষোভে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করতে হোটেল ব্যবস্থাপকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাসা ভাড়া দেওয়া ব্যক্তি ও সম্পত্তির মালিকদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের কাছে সম্পত্তি ভাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভে পুলিশের অসদাচরণ ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় এবার প্রতিটি ঘটনা নথিবদ্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাসের শুরুর দিকে হওয়া বিক্ষোভের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের কথিত অসদাচরণের দৃশ্য দেখা যায়। এক নারী বিক্ষোভকারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ এবং পুলিশের প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে শত শত আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের আশা, এসব ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনার ধারাবাহিকতা যাচাই, বিভ্রান্তিকর দাবি মোকাবিলা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তদন্তে সহায়তা পাওয়া যাবে।

এদিকে দিল্লি পুলিশ একটি খোলা চিঠিও প্রকাশ করেছে। এতে পুলিশ সদস্যদের মানবিক দিক তুলে ধরে সব পক্ষকে সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউনিফর্ম পরার কারণে একজন মানুষের মানবিকতা হারিয়ে যায় না বাড়িতে তার জন্যও অপেক্ষা করেন পরিবারের সদস্যরা।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা
ভারতের আসামে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে শওকত আলী নামে ৬৮ বছর বয়সী এক মুসলিম ব্যবসায়ীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে তাকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোরও চেষ্টা করে উত্তেজিত জনতা।
ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা
মন্দিরে আটকে রেখে দুই নারীকে ধর্ষণ, পুরোহিতসহ গ্রেপ্তার ২
ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে মন্দিরে আটকে রেখে তফশিলি সম্প্রদায়ের দুই নারীকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে মন্দিরের প্রধান পুরোহিতসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে পালিয়ে গেছেন মামলার অন্য দুই অভিযুক্ত।
মন্দিরে আটকে রেখে দুই নারীকে ধর্ষণ, পুরোহিতসহ গ্রেপ্তার ২
‘বাবুসোনা তুমি কি পাগল? নাকি পেট খারাপ?’
‘বাবুসোনা তুমি কি পাগল? নাকি তোমার পেট খারাপ? ডাক্তার হতে চেয়ে আত্মহত্যা করার এত ইচ্ছে কেন?’ ‘এই বয়সে সাইকিয়াট্রিক প্রবলেম একেবারেই ঠিক না।’ ‘ছেলেটা মরতে চাইছে যখন মরতে দিন না।’ ‘মহামূর্খ ছাড়া কেউ ডাক্তার হতে চায় না।’ ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন দেখা মাধ্যমিকের দুই শিক্ষার্থীকে এই ভাষাতেই উপদেশ ও ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ডাক্তারদের একাংশ।
‘বাবুসোনা তুমি কি পাগল? নাকি পেট খারাপ?’
ক্লাস চলাকালে করাত নিয়ে হাজির তরুণ, ছাত্রীদের ওপর ভয়ংকর তাণ্ডব
শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছিলেন শিক্ষক। ওই সময়ই হঠাৎ হাতে বৈদ্যুতিক করাত নিয়ে ঢুকে পড়েন ২১ বছর বয়সী এক তরুণ। শিক্ষক ও শ্রেণি ভর্তি শিক্ষার্থীর সামনে ওই করাত নিয়ে হামলে পড়েন দুই ছাত্রীর ওপর। 
ক্লাস চলাকালে করাত নিয়ে হাজির তরুণ, ছাত্রীদের ওপর ভয়ংকর তাণ্ডব
বঙ্গোপসাগরে আবারও ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, আঘাত হানতে পারে যেসব এলাকায়
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন করে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি পরে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের নতুন এই শঙ্কা দেখা দিল এমন এক সময়ে, যখন কয়েক দিন আগেই অর্ণবের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়েছে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা।  গত ২৮ অক্টোবর ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপটনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়টি। ওই সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও প্রতিবেশী ওড়িশায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। উপড়ে পড়ে অসংখ্য গাছ, প্লাবিত হয় ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। মাছ ধরার কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পাশাপাশি পরিবহণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।  সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস আরটিভি/এসআর
বঙ্গোপসাগরে আবারও ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, আঘাত হানতে পারে যেসব এলাকায়
আরও পড়ুন
ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা
মন্দিরে আটকে রেখে দুই নারীকে ধর্ষণ, পুরোহিতসহ গ্রেপ্তার ২
‘বাবুসোনা তুমি কি পাগল? নাকি পেট খারাপ?’
বঙ্গোপসাগরে আবারও ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, আঘাত হানতে পারে যেসব এলাকায়