ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

অবরুদ্ধ দিল্লি, বন্ধ মেট্রোরেল-ইন্টারনেট সেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হচ্ছে মেট্রোর একাধিক স্টেশনের প্রবেশপথ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট সেবা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল, এমন অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা ২৫০টির বেশি ট্রেন ও স্থানীয় ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে জনপথ-কর্তব্য পথ মোড়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, নানা বিধিনিষেধ সত্ত্বেও স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকেরা জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাবেন।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিক্ষোভের কারণে জনদুর্ভোগের আশঙ্কা দেখিয়ে একদিকে জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, অন্যদিকে মেট্রো ও রেল চলাচল বন্ধ এবং সড়ক অবরুদ্ধ করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক এড়ানো। কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের নয়াদিল্লি জেলায় প্রবেশ ঠেকাতে হবে এবং নিষিদ্ধ এলাকা থেকে দ্রুত সরিয়ে দিতে হবে।

পুলিশের হিসাবে, জন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরসহ প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি এলাকাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। জন্তর মন্তরে প্রবেশের সড়কগুলোতে বসানো হয়েছে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড। ব্যারিকেডের শেষের কয়েকটি স্তর ঝালাই করে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে সেগুলো ভেঙে পার হওয়া কঠিন হয়।

সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে রেকর্ড করা ঘোষণা প্রচার করা হচ্ছে। এতে বিক্ষোভের অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে লোকজনকে জমায়েত, স্লোগান, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিক্ষোভ ঠেকাতে কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে আসা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে পুলিশ।

নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির বিভিন্ন লজ ও হোটেলেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অতিথিদের বিক্ষোভে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করতে হোটেল ব্যবস্থাপকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাসা ভাড়া দেওয়া ব্যক্তি ও সম্পত্তির মালিকদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের কাছে সম্পত্তি ভাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভে পুলিশের অসদাচরণ ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় এবার প্রতিটি ঘটনা নথিবদ্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাসের শুরুর দিকে হওয়া বিক্ষোভের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের কথিত অসদাচরণের দৃশ্য দেখা যায়। এক নারী বিক্ষোভকারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ এবং পুলিশের প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে শত শত আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের আশা, এসব ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনার ধারাবাহিকতা যাচাই, বিভ্রান্তিকর দাবি মোকাবিলা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তদন্তে সহায়তা পাওয়া যাবে।

এদিকে দিল্লি পুলিশ একটি খোলা চিঠিও প্রকাশ করেছে। এতে পুলিশ সদস্যদের মানবিক দিক তুলে ধরে সব পক্ষকে সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউনিফর্ম পরার কারণে একজন মানুষের মানবিকতা হারিয়ে যায় না বাড়িতে তার জন্যও অপেক্ষা করেন পরিবারের সদস্যরা।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি
‘তেলাপোকাদের’ বিক্ষোভ দমনে নয়াদিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ, প্রস্তুত ১২ বন্দিশিবির
তেলাপোকাদের নতুন এই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে গত ২০ জুলাইয়ের ঘটনা মনে রেখে কাজ করছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
‘তেলাপোকাদের’ বিক্ষোভ দমনে নয়াদিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ, প্রস্তুত ১২ বন্দিশিবির
কলকাতায় মুসলিমদের পানি না দেওয়ার অভিযোগ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন তৃণমূল সাংসদ
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কলকাতার জ্যোতি নগর কলোনিতে মুসলিম বাসিন্দাদের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কলকাতায় মুসলিমদের পানি না দেওয়ার অভিযোগ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন তৃণমূল সাংসদ
ভারতে খ্রিস্টান বাড়িতে ভয়ংকর মব, তুলসী গাছ রেখে দেওয়ানো হলো ধর্মীয় স্লোগান
ঘটনাটি সামনে আসার পর পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানা যায়নি।
ভারতে খ্রিস্টান বাড়িতে ভয়ংকর মব, তুলসী গাছ রেখে দেওয়ানো হলো ধর্মীয় স্লোগান
কংগ্রেস বাংলাদেশের মতো ‘অরাজক পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে ভারতে: বিজেপি
ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যু ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে চলমান আন্দোলন ক্রমশ চরম রূপ নিচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমান্তরালে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেছে প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট।  এ অবস্থায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির দাবি, রাহুল গান্ধী ক্ষমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন এবং কংগ্রেস দেশে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো ‘অরাজক পরিস্থিতি’ তৈরি করার চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় এই অভিযোগ করেন বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি। এসময় তিনি বুধবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভের কিছু ভিডিও ফুটেজও তুলে ধরেন। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বিজেপি মুখপাত্রের অভিযোগ, দিল্লির বিক্ষোভে রাহুল গান্ধী, তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা দলটির উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে। কংগ্রেসের উদ্দেশ্য হলো নেপাল ও বাংলাদেশের মতো অরাজকতা তৈরি করে ভারতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। বিজেপির এই অভিযোগের বিষয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। এদিকে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ভোটার তালিকার চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদের মধ্যেই তার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিল্লির নিউ মোতি বাগ এলাকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বাসভবনের বাইরে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় এবং জ্ঞানেশ কুমারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাতেও অতিরিক্ত সদস্য যুক্ত করা হয়েছে। পাশপাশি আগামী ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে নয়াদিল্লিতে। পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলোতেও জারি করা হয়েছে সতর্কতা। সূত্রমতে, ভারতের কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২৩ হাজার সদস্যকে ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশের দিন দিল্লিতে মোতায়েন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সিএপিএফ এর ২২১ কোম্পানি সদস্যকে রাজধানীজুড়ে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে ভারতের ইউনিয়ম হোম মিনিস্ট্রি। এর বাইরে দিল্লি পুলিশের অধীনে আরও ১১০ কোম্পানি সিএপিএফ সদস্য থাকবে। এছাড়াও, বিক্ষোভের সময় দিল্লি পুলিশের আরও ২০ হাজার অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  সেইসঙ্গে দিল্লির সীমান্তজুড়ে শক্ত নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে একাধিক সূত্রে। নয়াদিল্লির সব মেট্রোস্টেশন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সব মার্কেটও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে। বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে কয়েক স্তরের ব্যারিকেডের পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো রাজধানীজুড়েই সচল থাকবে ক্যামেরার ফেস রেকগনিশন নজরদারি। এ সময় জরুরি অবস্থায় আদেশ জারির ক্ষমতাও দেওয়া থাকবে ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতে। বিক্ষোভের সময় পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানাসহ পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলোর প্রশাসনকে। আরটিভি/এসএইচএম
কংগ্রেস বাংলাদেশের মতো ‘অরাজক পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে ভারতে: বিজেপি
আরও পড়ুন
‘তেলাপোকাদের’ বিক্ষোভ দমনে নয়াদিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ, প্রস্তুত ১২ বন্দিশিবির
ভারতীয়দের গ্রিন কার্ডের পথ আটকাল ট্রাম্প প্রশাসন
পাকিস্তানের বদলি হিসেবে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ
বিজিবিকে ফাঁকি দিয়ে ভারতে চলে যাচ্ছিলেন দুই বাংলাদেশি, অতঃপর...